তৃণমূল ছাড়লেন নান্টু পাল! একাধিক সরকারি পদ থেকে একইদিনে পদত্যাগ! এরপর...

তৃণমূল ছাড়লেন নান্টু পাল! একাধিক সরকারি পদ থেকে একইদিনে পদত্যাগ! এরপর...

তৃণমূল ছাড়লেন নান্টু পাল। আজ বিকেলে এক অনুগামীর হাত দিয়ে জেলা সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। আজই হোয়াটস অ্যাপে সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাবেন।

তৃণমূল ছাড়লেন নান্টু পাল। আজ বিকেলে এক অনুগামীর হাত দিয়ে জেলা সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। আজই হোয়াটস অ্যাপে সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাবেন।

  • Share this:

#শিলিগুড়ি: তৃণমূল ছাড়লেন নান্টু পাল। আজ বিকেলে এক অনুগামীর হাত দিয়ে জেলা সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। আজই হোয়াটস অ্যাপে  সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাবেন। দলের শিলিগুড়ি বিধানসভা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ছিলেন দল এবং লিগ্যাল সেলের সদস্যও। সব পদ থেকেই পদত্যাগ করলেন। তার আগে আজ সকালে এসজেডিএ'র ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকেও ইস্তফা দেন। ২০২০ সাল থেকে ওই পদে ছিলেন।

পদত্যাগ করলেন উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকেও। তৃণমূলের সঙ্গ ছাড়লেন তিনি। কে এই নান্টু পাল? আশির দশকে শিলিগুড়ি কমার্স কলেজে এসএফআইয়ের হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ। দাপট ছিল প্রথম দিন থেকেই। কমার্স কলেজে তখন ছাত্র পরিষদের দাপট। নান্টু ছিলেন বিরোধী শিবিরের সিআর। ১৯৮৮ সালে প্রথমবার সিপিএমের টিকিটে পুর ভোটে দাঁড়ান তিনি। জয়ীও হন। তারপর থেকে দল বদলালেও কাউন্সিলর নির্বাচনে হারেননি তিনি। ছিলেন বরো কমিটির চেয়ারম্যান। প্রাক্তন পরিবহন এবং ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৪ সালে সিপিএম ছেড়ে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে শিলিগুড়ি আসনে দাঁড়িয়েছিলেন নান্টু পাল। হেরে যান অশোক ভট্টাচার্যের কাছে। সেইবার রাজ্যে রেকর্ড ভোটে জিতে নজির গড়েছিলেন অশোকবাবু।

২০০৭-০৮ সালে তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন কংগ্রেসে। দাপট ছিল অব্যাহত। কংগ্রেসের টিকিটে জিতে পুরসভার ডেপুটি মেয়র হন। তারপর রাজ্যে পালা বদলের পর আবার কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দেন তৃণমূলে। ২০১৫ সালে পুরসভা নির্বাচনে তাঁর স্ত্রীকেও টিকিট দেয় তৃণমূল। দু'জনেই জেতেন। একুশের লড়াইয়ে তিনিই হবেন ঘাসফুল শিবিরের শিলিগুড়ির প্রার্থী। টিকিট পাওয়ার দৌড়ে তিনি ছিলেন এক নম্বরে। দাবী নান্টু পালের। কিন্তু প্রার্থী হিসেবে ওমপ্রকাশ মিশ্রর নাম ঘোষণা হতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বাড়তে থাকে দলের সঙ্গে দূরত্ব। ক্রমেই বেসুরো হয়ে ওঠেন নান্টু পাল।

গত ৭ মার্চ মুখ্যমন্ত্রীর শিলিগুড়িতে কর্মসূচীর দিনেই ঘোষণা করেন নির্দল থেকে দাঁড়াবেন। এক এক করে পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। আজ পদত্যাগের পর তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ এই জায়গায়। উনি প্রেরণা। আমিও চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরী। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন। তাহলে কি পদ্ম শিবিরে? জবাবে বলেন, "যোগাযোগ করেছে। কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। নির্দল হয়েই লড়ব।" এরপরই বিকেলের পর থেকে শহরজুড়ে তাঁর সমর্থনে পড়ল ফ্লেক্স। শিলিগুড়ি উন্নয়ন সমিতির নামে ফ্লেক্স। যেখানে লেখা রয়েছে 'নান্টু পাল তুমি এগিয়ে চলো। আমরা তোমার  সঙ্গে  আছি।' তবে এখন কোন পথে পা ফেলেন নান্টু পাল? সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Partha Sarkar

Published by:Shubhagata Dey
First published: