অবহেলিত ভগিনী নিবেদিতার সমাধি

অবহেলিত ভগিনী নিবেদিতার সমাধি
রায় ভিলাতে ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর মারা যান ভগিনী নিবেদিতা

অযত্নে, অনাদরে পাহাড়ের কোলে শুয়ে রয়েছেন ভগিনী নিবেদিতা।

  • Share this:

ABIR GHOSHAL

#দার্জিলিং: জায়গাটির পরিচয় মুরদাহাটি নামে। স্থানীয়দের কাছে এটা দার্জিলিং শশ্মান বলেও পরিচিত। পাহাড়ী রাস্তায় যেখানে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ধোঁয়া ছেড়ে ঘুমের দিকে রওনা হয়। সেই স্টেশন থেকে এই জায়গা পায়ে হেঁটেই চলে যাওয়া যায়। আর এখানেই অযত্নে, অনাদরে পাহাড়ের কোলে শুয়ে রয়েছেন ভগিনী নিবেদিতা। এই অবস্থার বদল চেয়েই সরব হচ্ছেন পাহাড়ের নাগরিকরা।

দার্জিলিংয়ের লেবং কার্ট রোডের রায় ভিলাতে ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর মারা যান ভগিনী নিবেদিতা। সেই রায় ভিলাও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার ও তৎকালীন জিটিএ’র সহায়তায় সাজিয়ে তোলা হয় রায় ভিলাকে। আপাতত সেখানেই রামকৃষ্ণ মিশন নিবেদিতা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র। যা শুধুমাত্র পাহাড়ের গ্রামীণ এলাকার বাচ্চাদের পড়াশোনা শেখানো শুধু নয়। নানা রকম কারিগরি শিক্ষাও দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে পাহাড়ের আন্দোলনের সময় এই রায় ভিলাও ভাঙচুর করা হয়।চুরি যায় বহুমুল্য জিনিষও। এই রায় ভিলাতে পর্যটকদের আনা গোনা লেগেই আছে। কিন্তু নিবেদিতার সমাধির জায়গা সেই অবহেলাতেই পড়ে রয়েছে।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসীরা স্থানীয় পুরসভা, রাজ্য প্রশাষন, জিটিএ এবং সাংসদ সুরেন্দর সিং আহলুওয়ালিয়াকে বারবার আবেদন করেছিলেন। যদিও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে ক্ষোভ নিবেদিতা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের সম্পাদক স্বামী নিত্যসত্যানন্দজি মহারাজের। এলাকায় গিয়ে দেখা গেল গোটা এলাকাটি জঙ্গল এবং আগাছার চাদরে ভরে আছে। নিবেদিতার একটি মূর্তি রয়েছে সেটিও নোংরা হয়ে পড়ে আছে। এখানে শুধুমাত্র নিবেদিতার সমাধি নয় আছে রাহুল সাংকৃত্যায়ন, নেপালি কবি আগম সিং গিরি, এইচ ডি লামা সহ অনেকের সমাধি আছে। তাদের সমাধি গুলোরও একই অবস্থা। এই সবকটি সমাধি সংষ্কারের কাজ দ্রুত এবার শুরু করতে চায় রামকৃষ্ণ মিশন। স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজ বলেন, “প্রশাষনের সঙ্গে বহুবার কথা বলা হয়েছে।যদিও কোনও সাহায্য মেলেনি। তাই ভক্তদের থেকে অর্থ সাহায্য নিয়েই এই সমস্ত সমাধি স্থান সংষ্কার করা হবে দ্রুত।” দার্জিলিং জেলা প্রশাষন অবশ্য অভিযোগ মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি তারা এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই খোঁজ নেওয়া শুরু করেছেন। তবে সত্যিই কাজ হবে কিনা প্রশাসনিক সহযোগীতায় তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দার্জিলিংয়ের মানুষও। স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজের ব্ক্তব্য, “দার্জিলিংয়ের সাংসদ থাকাকালীন সুরেন্দর সিং আহলুওয়ালিয়াকে একাধিকবার আবেদন করেছি। তবে আশার কোনও খবর সেখান থেকেও পাইনি।” যদিও আর কারও প্রতি ভরসা না রেখে ভক্তদের সাহায্য নিয়েই কাজ শুরু করে ফেলেছে রামকৃষ্ণ মিশন। ভাঙা অংশগুলোর সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। রং করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সমাধি, সীমানা পাঁচিল। ঠিক হয়েছে নিবেদিতার যে মূর্তিটি রয়েছে সেটিকে কাঁচ দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। মহারাজের কথায়, আমরা ভালো থাকার চেষ্টা করছি। তাহলে নিবেদিতাকে কেনও ভালো রাখা হবে না।

First published: 03:50:40 PM Jan 05, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर