মাত্র দু' ঘণ্টায় দিনে পাঁচশো টাকা উপার্জন, জঞ্জাল ঘেঁটেই লক্ষ্মীলাভ করছেন রায়গঞ্জের বাসিন্দা

মাত্র দু' ঘণ্টায় দিনে পাঁচশো টাকা উপার্জন, জঞ্জাল ঘেঁটেই লক্ষ্মীলাভ করছেন রায়গঞ্জের বাসিন্দা
এভাবেই জঞ্জাল সংগ্রহ করেন রঞ্জিৎ গুন।

গ্যাং কুলির কাজের সুবাদে তিনি রায়গঞ্জ পৌরসভার জঞ্জাল ফেলার জায়গাগুলিতে যাতায়াত করতেন। তখনই তিনি খেয়াল করেন, জঞ্জালের সঙ্গেই মানুষ এমন প্রচুর জিনিসপত্র ফেলে দেন যেগুলি সংগ্রহ করে কেজি দরে বিক্রি করলে মাসে ভাল টাকা আয় করা সম্ভব।

  • Share this:
 

#রায়গঞ্জ: জঞ্জালের ভ্য়াটে ফেলে দেওয়া সামগ্রী এবং নিজের মোটরবাইক। এই দুইয়ের ভরসাতেই নতুন আয়ের দিশা দেখাচ্ছেন রায়গঞ্জের ঘুঘুডাঙার বাসিন্দা রঞ্জিত গুন। চিরাচরিত প্রথায় না গিয়ে নতুন পদ্ধতিতে জঞ্জাল সংগ্রহ করে আয়ের পথ দেখাচ্ছেন রঞ্জিতবাবু।

রায়গঞ্জ শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঘুঘুডাঙ্গা গ্রাম। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের উপরে নির্ভরশীল। এলাকার কিছু মানুষ শ্রমিকের কাজ করে দিন গুজরান করেন।এমনই একজন গ্রামবাসী রঞ্জিত গুন। বছর তিনেক আগে রায়গঞ্জ পৌরসভার ঠিকাদারের অধীনে গ্যাং কুলির কাজ করতেন। দৈনিক ২১০ টাকা হাজিরায় কাজ করতে হতো তাঁকে। সারা মাস কাজ করেও  ৪ থেকে ৫  হাজার টাকার বেশি হাতে  পেতেন না তিনি।

গ্যাং কুলির কাজের সুবাদে তিনি রায়গঞ্জ পৌরসভার জঞ্জাল ফেলার জায়গাগুলিতে যাতায়াত করতেন। তখনই তিনি খেয়াল করেন, জঞ্জালের সঙ্গেই মানুষ এমন প্রচুর জিনিসপত্র ফেলে দেন যেগুলি সংগ্রহ করে কেজি দরে বিক্রি করলে মাসে ভাল টাকা আয় করা সম্ভব।সেই ভাবনা থেকেই গ্যাং কুলির কাজ ছেড়ে দিয়ে পৌরসভার ভ্যাট থেকে নিজে জঞ্জাল সংগ্রহের কাজ শুরু করেন রঞ্জিতবাবু।বাড়িতে মোটরবাইক থাকলেও প্রথম প্রথম সাইকেল চালিয়েই ঘুঘডাঙ্গা থেকে রায়গঞ্জে এসে জঞ্জাল সংগ্রহ করতেন তিনি। কিন্তু তাতে অনেকটা সময় চলে যাচ্ছিল তাঁর।কারণ তিনি গিয়ে পৌঁছনোর আগেই অনেক ভ্য়াট থেকে জমা হওয়া জঞ্জাল তুলে নিতেন পৌরসভার কর্মীরা।

এর পর থেকে সকাল সাতটা থেকে মোটরবাইক নিয়ে ভ্যাট থেকে জঞ্জাল ( প্লাষ্টিক,প্লাষ্টিক ক্যারি ব্যাগ,প্লাষ্টিকের জলের বোতল, লোহালক্কর) সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেন রঞ্জিতবাবু। বেলা ৯টার মধ্যেই শহরের প্রতিটি জঞ্জাল ফেলার ভ্যাট ঘুরে জঞ্জাল সংগ্রহ করে ভাংরির দোকানে নিয়ে কেজি দরে বিক্রি করে দিচ্ছেন।রঞ্জিতবাবুর দাবি, দু' ঘণ্টা কাজ করে দিনে চার থেকে পাঁচশো টাকা আয় করছেন তিনি।মোটরবাইকের তেলের খরচ বাবদ দিনে ৫০ টাকা খরচ হয়। দিনের বাকি সময় এলাকায় কৃষি জমিতে কাজ করেন।রঞ্জিতবাবু এই ধরনের কাজ করে নতুন পথে উপার্জনের সন্ধান দিয়েছেন বলে মনে করছেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী জয়ন্ত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'ভ্যাটে  নোংরা আবর্জনা ঘাঁটার জন্য রঞ্জিতবাবু মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই আবর্জনা থেকেও যে  আয় করা সম্ভব তা তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন। যে আয়ের কথা রঞ্জিতবাবু বলছে,ন সেই আয় একটি পরিবারকে খানিকটা স্বস্তি দেবে।'

First published: March 12, 2020, 4:22 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर