লক্ষ্য আদিবাসী মন জয়, গণবিবাহের অনুষ্ঠানে পাশে থাকার বার্তা মমতার

লক্ষ্য আদিবাসী মন জয়, গণবিবাহের অনুষ্ঠানে পাশে থাকার বার্তা মমতার
মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়৷

  • Share this:

#ফালাকাটা: উত্তরবঙ্গে নজরে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক। সেই কারণে আদিবাসীদের গণ বিবাহের অনুষ্ঠানে হাজির থাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। গত বছর মালদহের গাজোলে এরকমই এক গণ বিবাহের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরের চা বলয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

রাজ্য সরকার রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের বিবাহযোগ্যা মেয়েদের বিয়ের জন্যে সাহায্য করে। সেই প্রকল্পের মাধ্যমেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ৪৫০ যুগলের বিয়ে দিলেন। শুধু বিয়ে দিয়ে ক্ষান্ত নয়। এর সঙ্গে আগামী দিনে সংসার করার জন্য আদিবাসী যুগলদের হাতে তুলে দিলেন বাসন, পোশাক-সহ একাধিক জিনিসপত্র। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, "আমি আপনাদের পাশে সব সময় আছি। আর্শীবাদ করি আপনারা ভালো থাকুন। রাজ্য সরকার সবদিক থেকে সাহায্য করবে।"

মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সাহায্য পেয়ে খুশি নব বিবাহিতরা। এদিন রূপেশ ওঁরাও বিয়ে করেন সিলভি তামাংকে। রুপেশ কাজ করেন চা বাগানে। তিনি বলেন, "রাজ্য সরকার সাহায্য করায় আমরা খুশি। বিয়ের সাথে সংসার পাতার জিনিস পেয়েও আমি খুশি।" একই রকম ভাবে খুশি গোপাল ওঁরাও। এদিন মধ্য চল্লিশের গোপাল বিয়ে করেন চা বাগানে কর্মরতা ললিতা তামাংকে। তিনি বলেন, "এখন মাসে রোজগারের টাকা আমরা ঠিক সময়ে পেয়ে যাচ্ছি। ফলে বিয়ে করে সংসার চালাতে আর অসুবিধা হবে না।"


এদিন ৪৫০ যুগলের বিবাহের অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়ে ছিল ফালাকাটা জুড়ে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপহার তুলে দেন কয়েকজন আদিবাসী যুগলের হাতে৷ কথা বলেন তাঁদের অভিভাবকদের সাথে। রাজনৈতিক মহলের মতে চা বাগানের একাধিক জায়গায় এভাবে গণবিবাহের অনুষ্ঠানের আয়োজন করত বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এবার সেই জায়গায় সরকার বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় আদিবাসীদের কাছে তৃণমূল কংগ্রেস পৌছে যেতে পারবে। উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ছিল ১৭৬ টাকা। সম্প্রতি রাজ্য সরকার চা শ্রমিকদের অন্তর্বর্তীকালীন মজুরি আরও ২৬ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে। বাগানের শ্রমিকদের জন্য ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্পে ঘর তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

আবার, ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে অবসরপ্রাপ্ত চা শ্রমিক ও ৬০ বছর উত্তীর্ণ আদিবাসীদের জন্য ‘জয় জোহার’ প্রকল্পে মাসিক ১০০০ টাকা করে ভাতারও ব্যবস্থা করেছে।

Abir Ghosal

Published by:Debamoy Ghosh
First published: