Mamata Visit Sitalkuchi: শীতলকুচির শহিদ মঞ্চে আজ মমতা, দেখা করার প্রস্তাব ফেরাল মৃত আনন্দর পরিবার

আজ শীতলকুচিতে মমতা

গত শনিবারই শীতলকুচিতে ভোটের ভোটের লাইনে আনন্দ বর্মন (Ananda Barman) নামে এক ১৮ বছর বয়সী যুবকের মৃত্যু হয়েছিল দুষ্কৃতীদের গুলিতে। তাঁর পরিবার বিজেপি সমর্থক। সেই মৃত্যু নিয়ে মমতার বিরুদ্ধে মেরুকরণের অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

  • Share this:

    #কোচবিহার: কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যুর পরই তিনি ছুটে যেতে চেয়েছিলেন শীতলকুচি। কিন্তু রবিবার থেকে ৭২ ঘণ্টা তাঁকে ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের শীতলকুচি (Sitalkuchi Firing) যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এরই মাঝে সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিশন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠতেই জ্বলে উঠলেন মমতা। রাতে বারাসাতের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী (Mamata Banerjee) জানিয়ে দিলেন, আজ, বুধবার শীতলকুচি যাচ্ছেন তিনি। মমতা বলেন, 'শীতলকুচিতে চারজন পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছেন, একজন মারা গিয়েছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে। মাথাভাঙার প্রার্থীকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আমি কাল সকালেই শীতলকুচি যাব।' সকাল দশটাতেই মাথাভাঙা পৌঁছবেন মমতা। মাথাভাঙা হাসপাতালের পাশের মাঠেই তৈরি শহিদ মঞ্চে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।

    প্রসঙ্গত, গত শনিবারই শীতলকুচিতে ভোটের ভোটের লাইনে আনন্দ বর্মন (Ananda Barman) নামে এক ১৮ বছর বয়সী যুবকের মৃত্যু হয়েছিল দুষ্কৃতীদের গুলিতে। তাঁর পরিবার বিজেপি সমর্থক। সেই মৃত্যু নিয়ে মমতার বিরুদ্ধে মেরুকরণের অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুধু চারজন সংখ্যালঘু যুবকের জন্য চোখের জল ফেলছেন মমতা, কেন রাজবংশী আনন্দের জন্য তাঁর মন কাঁদছে না, মমতার দিকে সেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন অমিত শাহ (Amit Shah)। যদিও তৃণমূল স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, নিজের সভামঞ্চে আনন্দকেও 'শহিদ' তকমা দিয়েছেন মমতা। আর তিনি যে রাজবংশীদের বন্ধু, সে কথা স্মরণ করিয়ে পালটা শাহকে আক্রমণও শানান মমতা। অমিত শাহের সেই মেরুকরণের অস্ত্রকে আঘাত করতে মমতা সেই আনন্দ বর্মণের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে চেয়েছিলেন। গতকালই তিনি বলেন, 'শীতলকুচিতে আমি BJP কর্মীর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে চাই। আমি কখনই কারও মধ্যে ভাগাভাগি করি না। আমার দলের লোক মারা গেলেও আমার কষ্ট হবে, আবার অন্য দলের লোকের মৃত্যুতেও আমার কষ্ট হবে।' কিন্তু বিজেপি কর্মী আনন্দ বর্মনের পরিবারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সাহায্য তাঁরা চান না। এমনকী তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দেখাও করতে চান না।

    এদিনও অবশ্য মৃতদের পরিবারের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর দেখা করার শহিদ মঞ্চেও নাম রয়েছে আনন্দ বর্মনের। প্রসঙ্গত, রাজবংশী আনন্দকে বিজেপি খুন করেছে বলে আগেই অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়াও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছিলেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে আনন্দর পরিবারের মমতার সঙ্গে দেখা না করা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

    শীতলকুচিতে ৭২ ঘণ্টার প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই ফুঁসে উঠেছিলেন মমতা। জানিয়ে দিয়েছিলেন, ৭২ ঘণ্টা সময় পেরোলেই তিনি যাবেন শীতলকুচি। তবে সেই সময় কমিশনের নির্দেশ মেনে মাথাভাঙা না গেলেও মৃতদের পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। জানিয়ে দিয়েছিলেন, ৭২ ঘণ্টা কাটলেই তিনি পৌঁছে যাবেন অসহায় মানুষগুলোর কাছে। বুধবার সেই সময় অতিক্রান্ত হচ্ছে। আর নিজের কথা রাখতে বুধবার সকাল-সকালই শীতলকুচিতে পা রাখছেন মমতা।

    Published by:Suman Biswas
    First published: