Mamata in Mathabhanga: অমিতের 'মেরুকরণ' উড়িয়ে এল আনন্দর পরিবারও, মাথাভাঙায় চোখে জল মমতার

Mamata in Mathabhanga: অমিতের 'মেরুকরণ' উড়িয়ে এল আনন্দর পরিবারও, মাথাভাঙায় চোখে জল মমতার

মৃতদের পরিবারের সঙ্গে মমতা

মমতার সঙ্গে দেখা করতে এলেন ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলিতে মৃত রাজবংশী আনন্দ বর্মনের পরিবারের সদস্যরাও। আর সেখান থেকেই মমতা ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় আসা মাত্রই তদন্ত হবে শীতলকুচি কাণ্ডের।

  • Share this:

#কোচবিহার: কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যুর পরই তিনি ছুটে যেতে চেয়েছিলেন শীতলকুচির অসহায় পরিবারগুলির কাছে। কিন্তু শনিবারের ঘটনার পর রবিবার থেকে ৭২ ঘণ্টা সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের শীতলকুচি (Sitalkuchi Firing) যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এরই মধ্যে সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিশন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠতেই জ্বলে উঠলেন মমতা। বুধবার সকালেই মাথাভাঙায় পৌঁছলেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, মমতার সঙ্গে দেখা করতে এলেন ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলিতে মৃত রাজবংশী আনন্দ বর্মনের পরিবারের সদস্যরাও। আর সেখান থেকেই মমতা ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় আসা মাত্রই তদন্ত হবে শীতলকুচি কাণ্ডের। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, 'যে যতই বড় হোন না কেন, শাস্তি পাবেই।'

২৪ ঘণ্টার নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর মঙ্গলবার রাতে বারাসাতের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী (Mamata Banerjee) জানিয়ে দিয়েছিলেন, 'শীতলকুচিতে চারজন পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছেন, একজন মারা গিয়েছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে।' আর বুধবার সকালে মাথাভাঙা হাসপাতালের পাশের মাঠেই তৈরি শহিদ মঞ্চে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মমতা।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজন মৃত্যুর পাশাপাশি গত শনিবারই শীতলকুচিতে ভোটের ভোটের লাইনে আনন্দ বর্মন (Ananda Barman) নামে এক ১৮ বছর বয়সী যুবকের মৃত্যু হয়েছিল দুষ্কৃতীদের গুলিতে। তাঁর পরিবার বিজেপি সমর্থক। সেই মৃত্যু নিয়ে মমতার বিরুদ্ধে মেরুকরণের অভিযোগ তুলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। প্রশ্ন তুলেছিলেন, শুধু চারজন সংখ্যালঘু যুবকের জন্যই কেন চোখের জল ফেলছেন মমতা, কেন রাজবংশী আনন্দের জন্য তাঁর মন কাঁদছে না? যদিও তৃণমূল স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, নিজের সভামঞ্চে আনন্দকেও 'শহিদ' তকমা দিয়েছেন মমতা। আর তিনি যে রাজবংশীদের আসল বন্ধু, সে কথাও বারবার স্মরণ করিয়ে পালটা শাহকে আক্রমণও শানান মমতা। আর মঙ্গলবারই মমতা জানিয়েছিলেন, তিনি আনন্দর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে চান। তবে, প্রথমে তাঁর পরিবার সাক্ষাতে রাজি হয়নি বলেই খবর রটেছিল। কিন্তু এদিন মমতা আসার আগেই পৌঁছে যান আনন্দর দাদু। তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন মমতা।

এদিনও অবশ্য মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সময় হাতজোড় করে কেঁদেও ফেলেন মমতা। নেত্রীর চোখে জল দেখে কান্নায় ভাসেন মৃতদের পরিবারের সদস্যরাও। শীতলকুচিতে ৭২ ঘণ্টার প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই ফুঁসে উঠেছিলেন মমতা। জানিয়ে দিয়েছিলেন, ৭২ ঘণ্টা পেরোলেই শীতলকুচি যাবেন তিনি। আগেই অবশ্য মৃতদের পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। আর বুধবার সেই সশীরের তাঁদের কাছে পৌঁছে গেলেন মমতা।

Published by:Suman Biswas
First published: