মালদহের ‘বাহুবলী’ শেখ ইয়াসিন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে, সঙ্গে গেলেন শতাধিক জনপ্রতিনিধি

মালদহের ‘বাহুবলী’ শেখ ইয়াসিন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে, সঙ্গে গেলেন শতাধিক জনপ্রতিনিধি
এই বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিটের দাবিদার ছিলেন ইয়াসিন। বেশ কিছুদিন ধরেই দলীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিলেন তিনি । কিন্তু ঘাসফুল শিবিরের সবুজ সংকেত পাননি বলেই খবর ।

এই বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিটের দাবিদার ছিলেন ইয়াসিন। বেশ কিছুদিন ধরেই দলীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিলেন তিনি । কিন্তু ঘাসফুল শিবিরের সবুজ সংকেত পাননি বলেই খবর ।

  • Share this:

Sebak DebSarma

#মালদহ: মালদহের রতুয়াতে তৃণমূলে বড়োসড়ো ভাঙন ধরাল বিজেপি। তৃণমূলের মালদহ জেলা সাধারণ সম্পাদক শেখ  ইয়াসিনের নেতৃত্বে দলবদল। বিজেপির দাবি, রতুয়া-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ-সভাপতি সহ ২৩ জন সদস্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন। এর ফলে রতুয়া-১ পঞ্চায়েত সমিতি কার্যত বিজেপির দখলে এল। এ ছাড়াও রতুয়া বিধানসভার ১৩ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান সহ সদস্যরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন শেখ ইয়াসিন। কলকাতায় কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ, খগেন মুর্মুর উপস্থিতিতে দলবদল করেছেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসাবে জেলা রাজনীতিতে পরিচিত শেখ ইয়াসিন। তাঁর স্ত্রী মালদহ জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য। বুধবার রাতের দলবদলে হাজির ছিলেন মালদহ জেলা পরিষদের আরও এক তৃণমূল সদস্যের স্বামী। ফলে মালদহ জেলা পরিষদের ভাঙনের সম্ভাবনা কার্যত সময়ের অপেক্ষা। এ বার মালদহে যে দু’টি বিধানসভায় লোকসভার নিরিখে তৃণমূল এগিয়ে ছিল তার অন্যতম রতুয়া। ফলে এ বারের বিধানসভায় মালদহে রতুয়া আসন তৃণমূলের জেতার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। যদিও রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ দিনের দলবদলে তৃণমূলে শক্তিতে ক্ষয় ধরল।


শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে শেখ ইয়াসিনের দলবদল সম্পর্কেও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। যদিও সেই সময় দলবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন শেখ ইয়াসিন।  এমনকি মালদহ জেলা পরিষদে তৃণমূল সদস্যদের বৈঠকেও বারবারই হাজির হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী।মালদহের রতুয়ায় স্থানীয় বিধায়ক মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বারবার বিবাদে জড়িয়েছেন এই শেখ ইয়াসিন। এই বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিটের দাবিদার ছিলেন ইয়াসিন। কিছুদিন আগে একক উদ্যোগে রতুয়ায় বড় জনসভা করে শক্তি পরীক্ষা দেন তিনি। এর আগে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগ উঠেছিল।

সূত্রের খবর, রতুয়া বিধানসভায় টিকিটের দাবি করে বেশ কিছুদিন ধরেই দলীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিলেন ইয়াসিন। সদলবলে কলকাতা গিয়েও টিকিটের দাবি করেন তিনি। কিন্ত, তৃণমূল সূত্রের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। এরপরেই শতাধিক জনপ্রতিনিধি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বিজেপি সদরদফতরে হাজির হয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তিনি। তৃণমূল জেলা কো-অর্ডিনেটর হেমন্ত শর্মা বলেন, ইয়াসিন তৃণমূলের থাকার সময় বিজেপি তাঁকে দুষ্কৃতি বলত, আর এখন তাঁদের কাছে ও সমাজসেবী হয়ে গেল। বিজেপিকে এর জবাব দিতে হবে। উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই দলবদল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Published by:Simli Raha
First published: