প্রিয় বন্ধু...বাঁচা সম্ভব নয় জেনে আগুনের মধ্যে একে অপরকে আঁকড়ে ধরলেন শাশুড়ি-বৌমা

প্রিয় বন্ধু...বাঁচা সম্ভব নয় জেনে আগুনের মধ্যে একে অপরকে আঁকড়ে ধরলেন শাশুড়ি-বৌমা

হাত ছাড়লেন না প্রিয় বন্ধুর...বাঁচা সম্ভব নয় জেনে, জ্বলন্ত অবস্থায় একে অপরকে আঁকড়ে ধরলেন শাশুড়ি-বৌমা

  • Share this:

# মালদহ: শাশুড়ি ও বৌমা প্রিয় বন্ধু , মৃত্যুও তাঁদের আলাদা করতে পারল না। একে অন্যকে বাঁচাতে  মালদহে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হল শাশুড়ি ও  বৌমার ।

মালদহের গাজলের রানিগঞ্জ  এলাকার ঘটনায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জানা গিয়েছে, মৃত বৌমার নাম পিংকি বিশ্বাস (২৩), মৃত শাশুড়ি চম্পারানি বিশ্বাস (৪০০। মাত্র চার মাস আগেই বিয়ে দিয়েছিল পিংকির।  শ্বশুরবাড়িতে  সকলের প্রিয়পাত্র ছিল আদরের বৌমা পিংকি। পাড়া-প্রতিবেশীরা কখনও শাশুড়ি -বৌমার মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শোনেন নি! এই নিয়ে পাড়ায় চর্চাও ছিল। কিন্তু সব ভাল যার তার সবসময় শেষটা ভাল হয় না! এমন এক সুখি পরিবারেই নেমে এল দুঃখের কালো ছায়া।

 গত শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে রান্নার কাজ করছিলেন পিংকি বিশ্বাস। অসাবধানতাবশত তাঁর কাপড়ে আগুন লেগে যায় । দেখামাত্র বৌমাকে  বাঁচাতে ছুটে আছেন শাশুড়ি চম্পারানি । আগুনের হাত থেকে তিনিও বাঁচতে পারেন না! লেলিহান অগ্নিশিখা গিলে খেতে থাকে দুটো তরতাজা প্রাণকে।  সেইসময় বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না।  শাশুড়ি ও বৌমার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু উদ্ধারের আগেই দু'জনের  শরীরের সিংহভাগ পুড়ে গিয়েছিল।

মর্মান্তিক পরিণতি!  যখন বুঝতে পারেন বাঁচা অসম্ভব, তখন জলন্ত অবস্থাতেই  দু'জন দু'জনকে আঁকড়ে ধরেন। সেই কারণেই শাশুড়ি ও বৌমা, দু'জনেরই শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়।  গত প্রায় পাঁচদিন ধরে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন দু'জনেই। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, শারীরিক সংকটের কথা।শেষ পর্যন্ত  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু হল বৌমা ও শাশুড়ির। গভীর রাতে মালদহ মেডিকেলে মৃত্যু হয় পিংকি বিশ্বাসের । সকালে মৃত্যু হয়  চম্পারানি  বিশ্বাসের।

জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গাজলের রানীগঞ্জ এলাকায় । পিংকি ও চম্পারানি দেবী, দু'জনেরই  স্বামী কর্মসূত্রে থাকেন   ভিন রাজ্যে।

Sebak DebSarma

First published: February 27, 2020, 6:30 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर