Home /News /north-bengal /
Malda: রাজ্যের নির্দেশের পরও ছাত্র-ছাত্রীদের 'নো- এন্ট্রি' মালদহের চামাগ্রাম হাইস্কুলে

Malda: রাজ্যের নির্দেশের পরও ছাত্র-ছাত্রীদের 'নো- এন্ট্রি' মালদহের চামাগ্রাম হাইস্কুলে

পাঁচ মাস ধরে স্কুলে ভাঙন উদ্বাস্তুদের শিবির, ক্লাস-ঘরগুলি এখন থাকা খাওয়ার জায়গা।

  • Share this:

#মালদহ: রাজ্যের নির্দেশের পরও খোলেনি মালদহের চামাগ্রাম হাইস্কুল। স্কুলে যেতে পাড়ছেনা পড়ুয়ারা। বন্ধ পঠন-পাঠন। সরকারি এই উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এখন ভাঙন উদ্বাস্তুদের 'আশ্রয় শিবির'। কোনও শ্রেণীকক্ষ খালি নেই, এখনও পড়ুয়াদের 'নো এন্ট্রি' এই স্কুলে। বাড়ছে ক্ষোভ, প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা।

করোনা প্রভাব কাটিয়ে রাজ্যের নির্দেশে বিভিন্ন প্রান্তে খুলেছে সরকারি স্কুল। প্রায় ২ বছর পর ফের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ মিলেছে ছাত্র-ছাত্রীদের। কিন্তু, 'ব্যতিক্রম' মালদহের বৈষ্ণবনগরের চামাগ্রাম হাইস্কুল। কালিয়াচক  ৩ নম্বর ব্লকের এই স্কুলে গত পাঁচ মাস ধরে বসবাস করছেন প্রায় ২০০ ভাঙন উদ্বাস্তু পরিবার। চামাগ্রাম হাইস্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। স্কুলের দোতলা ভবনে ২৫টি শ্রেণিকক্ষ আছে। শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ১৯ জন।

আরও পড়ুন: দাদা কংগ্রেস, ভাই বিজেপি...দাদা-ভাইয়ের ভোটের লড়াই নিয়ে মেতে মালদহের ইংরেজবাজার

গত সেপ্টেম্বর মাসে ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙনের কবলে পড়ে বীরনগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারটোলা গ্রাম। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি স্কুলে গড়ে তোলা হয় অস্থায়ী আশ্রয় শিবির। বর্তমানে স্কুলের পরিবেশ আর পঠন-পাঠনের উপযুক্ত নেই। স্কুলের বারান্দায় অস্থায়ী মুদির দোকান। স্কুল মাঠে গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ। স্কুলের ক্লাস ঘরগুলির পরিবেশ বদলে গিয়েছে বসবাসের ঘরে, ঠাঁই পেয়েছে আসবাবপত্র, চৌকি- বিছানা, গ্যাস-ওভেন। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন। ফলে, পঠন-পাঠন শুরু করার মতো কার্যত কোনও পরিস্থিতি নেই স্কুলের। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তাও অনিশ্চিত। এরই প্রতিবাদে স্কুলে ঢুকতে না পেরে সোচ্চার হয়েছেন ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবকরা। পালা করে চলছে আন্দোলন। দাবি, অবিলম্বে চালু করতে হবে স্কুল।

আরও পড়ুন: শিলিগুড়ির বিক্ষুব্ধ-বহিষ্কৃত 'নির্দল' প্রার্থীরাই তৃণমূলের কাঁটা? কী বলছে রাজনৈতিক সমীকরণ?

গত সেপ্টেম্বর মাসে বীরনগরের সরকারটোলা গ্রামে চোখের সামনে ঘরবাড়ি গঙ্গা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কার্যত সর্বস্ব খোয়াতে হয় কয়েক শ' মানুষকে। সেইসময় প্রশাসনের অনুমতিতে তাঁদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করা হয় সরকারি স্কুলে। এরপর থেকেই এক একটি ঘরে মাথা গুঁজে রয়েছে চারটি করে পরিবার। অনেক পরিবার আবার ঘরে ঠাঁই না পেয়ে স্কুলের বারান্দায় বা মাঠে বসবাস করছেন। ভাঙন উদ্বাস্তুরা বলছেন, ছেলেমেয়ে তাঁদেরও রয়েছে, তাঁরাও স্কুলের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্কুল ছাড়তে তো চান। কিন্তু যাবেন কোথায় ?

রাজ্যের অন্যান্য স্কুলে পঠন-পাঠন শুরু হলেও চামাগ্রাম স্কুল এখনও চালু না হওয়াতে অখুশি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আনারুল ইসলাম জানিয়েছেন, '' সমস্যা ব্লক ও জেলা প্রশাসনের নজরে  আনা হয়েছে। প্রশাসন আশ্বাস দিলেও এখনও ভাঙন উদ্বাস্তুদের সরানোর ব্যবস্থা হয়নি। কবে প্রশাসন সক্রিয় পদক্ষেপ করে, এখন তারই অপেক্ষা।''

Published by:Rukmini Mazumder
First published:

Tags: Malda

পরবর্তী খবর