বসন্ত আসছে, দেখা নেই মুকুলের !

বসন্ত আসছে, দেখা নেই মুকুলের !

মালদহের বাগানে তাই সবাই তাকিয়ে মুকুলের অপেক্ষায়

  • Share this:

#মালদহ :  আর কয়েকদিন পরেই বসন্ত আসছে। কিন্তু মুকুল কই ?  প্রতিবছর অনেক আগেই এসে যায় মুকুল। কিন্তু এবার তার দেখা নাই। মালদহের বাগানে তাই সবাই তাকিয়ে মুকুলের অপেক্ষায়।

শীত যেন এবার যেতেই চাইছে না। ঘুরে ফিরে আসছে বঙ্গে। তার জেরেই মালদহে আমের ক্ষতির আশঙ্কা।  জেলার প্রায় ৭০ ভাগ আম গাছেই এখনও মুকুলের দেখা নেই। এমন  পরিস্থিতি নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন আম চাষীরা।

পরিস্থিতি যা তাতে মালদহে এবার আমের ফলন কমার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মালদহের আম দেরিতে হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।  মালদহে ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। অন্যান্য বছর জানুয়ারির পরেই  প্রায় সব গাছই মুকুলে ভরে যায়।এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মুকুল থেকে আমের দানা তৈরি হয়। কিন্তু সেই মুকুলই অধরা।

এবছর আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় প্রভাব পড়েছে  আম বাগানে। এখনও সেভাবে গাছে মুকুল দেখা যাচ্ছে না। আম চাষিরা জানিয়েছেন, একটানা কড়া শীত  কারণ।  প্রথমত, এবার ফেব্রুয়ারি পড়ে গেলেও শীত রয়ে গিয়েছে। দিনের তাপমাত্রাও যথেষ্টই কম। এই সময় সাধারণ ভাবে উষ্ণ আবহাওয়া আম উৎপাদনে সহায়ক হয়। কিন্তু, এবার পরিস্থিতি উলটো।

ইতিমধ্যেই মালদহের বেশির ভাগ আমবাগানে প্রথম পর্যায়ের স্প্রের কাজ শেষ হয়েছে। একে দীর্ঘ শীত।  সঙ্গে নেই পশ্চিমি হাওয়া। দীর্ঘ দিন আম চাষে সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, মালদহে এই সময় এক ধরনের পশ্চিমী হাওয়া লক্ষ্য করা হয়। আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে যা অতন্ত সহায়ক। এই হাওয়ায় আম গাছে মুকুল বাড়ে একই সঙ্গে মুকুল থেকে ফলন আসে।

কিন্তু এবার গাছ আছে, কিন্তু মুকুল নেই।  গত বছর মালদহে আমের ফলন ভাল হলেও শেষ পর্যায়ে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমের বেশ কিছুটা ক্ষতি হয়। সরকারি হিসেবে, গত বছর মালদহে দুই লক্ষ নব্বই হাজার মেট্রিক টন আমের ফল হয়েছিল। এই বছর প্রাথমিক ভাবে লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে সাড়ে তিন লক্ষ মেট্রিক টন।   জেলা উদ্যান পালন দফতর জানিয়েছে, সাধারনভাবে চলতি মাসে এমন আবহাওয়া থাকে না। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উষ্ণ আবহাওয়া এলে ক্ষতির পরিমান কমতে পারে। কিন্তু শীত আরও দীর্ঘ হলে সমস্যা বাড়বে।

বসন্ত আসছে, কিন্তু মুকুল কই। অধরা মুকুলের অপেক্ষায় মালদহের আম বাগান।

সেবক দেবশর্মা

First published: February 10, 2020, 8:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर