Ganga River: ভয়ংকর বিপদ! ভাঙনে মিশে যাবে গঙ্গা-ফুলহার নদী! বদলে যাবে ভূগোল?

ভয়ংকর অবস্থা!

Ganga River: বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই মিশে যেতে পারে গঙ্গা ও ফুলহার- এই দুই নদী।

  • Share this:

#মালদহ: নদী ভাঙনের জেরে মালদহ জেলায় বিপদের আশঙ্কা।গত কয়েক বছর ধরে ক্রমশই কমে আসছে গঙ্গাও ফুলহার নদীর দূরত্ব। বর্তমানে দূরত্ব কমে হয়েছে ১.২০ কিলোমিটার। যা ঘিরেই বিপদের আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য। প্রত্যেক বছরই গঙ্গা নদীর ভাঙ্গন হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ মিটার। অন্তত সেচ দপ্তরের পরিসংখ্যান তেমনটাই বলছে। সেক্ষেত্রে এই হারে ভাঙ্গন চলতে থাকলেই গঙ্গা-ফুলহার নদী এক সঙ্গে মিশে যাবে।যদি তা হয় তাহলে বড়োসড়ো বিপদ আসতে পারে গোটা মালদহ জেলা জুড়েই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই মিশে যেতে পারে এই দুই নদী। তার জন্যই এবার প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে বাধ মেরামতির কাজ করার ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে সেচ দপ্তর বলেই নবান্ন সূত্রে খবর।

বিশেষজ্ঞদের মতে গঙ্গার জল বহন ক্ষমতা ১৬ লাখ কিউসেক যেখানে ফুলহার নদীর বহন ক্ষমতা চার থেকে পাঁচ লাখ কিউসেক জল। সে ক্ষেত্রে যদি এই দুটি নদী মিলে যায় তাহলে বড় বিপদের আশঙ্কা থাকছে। প্রাথমিকভাবে জেলার সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা এই বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই সার্ভে করেছে বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে ও সেচ দপ্তরকে আশঙ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকার প্রোজেক্ট নিয়ে নামার ভাবনা নিয়েছে রাজ্য বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র জানিয়েছেন " পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আসলে গঙ্গা নদী তো কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। তাই কেন্দ্রের তরফেও অর্থ মঞ্জুর করা প্রয়োজন। কেন্দ্র তো আমাদের এখনো বঞ্চিত করে রাখছে। মুখ্যমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যতটুকু অর্থ দিয়ে সম্ভব এটাকে নিয়ন্ত্রণে আনার।"

তবে সাময়িক সময়ের জন্য প্রতিকার পাওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘ মেয়াদী প্রতিকার পাওয়া সম্ভব নয় তেমনটাই বলছেন নদী বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক লক্ষীনারায়ন সৎপতি বলেন " নদীর স্রোত কি ধরনের, জলের বহন ক্ষমতা কতটা, কোথায় ধাক্কা দিচ্ছে, গভীরতা কতটা বেশি তার ওপর নির্ভর করবে বাঁধ নির্মাণ। তবে বাঁধ নির্মাণ করলেও খুব একটা বেশি কার্যকরী হবে না। ভাঙ্গন কোনোভাবেই আটকানো সম্ভব নয়। গঙ্গা ও ফুলহার মিলে গেলে আরো বেশ কিছু অংশ প্লাবিত হয়ে যাবে এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক করা দরকার রাজ্য সরকারের। অর্থাৎ নদীর ধারে যারা বসবাস করেন তাদের জমি যখন জলের তলায় চলে যাচ্ছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য অন্য কোথাও বাসস্থান দেওয়া যেতে পারে।"

মালদা জেলার মহানন্দ টোলা বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ বসবাস করেন। সে ক্ষেত্রে দুই নদী মিলে গেলে এই এক লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে শুধু এই দুটো গ্রাম পঞ্চায়েত নয় তার আশপাশের অনেক গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নদীর গতিপথের পরিবর্তন হবে নাতো সেই আশঙ্কাই করছেন এলাকার গ্রামবাসীরা। যদিও অতীতে দামোদর,সরস্বতী মতো বেশ কিছু নদীর গতিপথ স্থানীয়ভাবে পরিবর্তন হয়েছে। আর তাই আশঙ্কা ও আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছে এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামবাসীরা।

Published by:Suman Biswas
First published: