ময়নাতদন্তের জন্য কবর খুঁড়ে তোলা হল দুই শিশুর দেহ, অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা ওঝার বিরুদ্ধে

ময়নাতদন্তের জন্য কবর খুঁড়ে তোলা হল দুই শিশুর দেহ, অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা ওঝার বিরুদ্ধে

মালদহের গাজোলে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে অবশেষে ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিল পুলিশ।

  • Share this:

#মালদহ: মালদহের গাজোলে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে অবশেষে ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিল পুলিশ। রবিবার ভোরে এলাকায় গিয়ে কবর থেকে তোলা হয়েছে দুই শিশুর মৃতদেহ। এদিনই ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় দেহ দুটিকে । এদিকে ঝাড়ফুঁকে অভিযুক্ত ওঝা মোহাম্মদ রফিককে গ্রেফতার করার পর আজ মালদহ আদালতে তোলে পুলিশ । তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির 304 নম্বর ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু করেছে পুলিশ ।

জানা গিয়েছে, মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি দুই শিশুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আপাতত তারা বিপদমুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা । মালদহের গাজোল থানার আলাল পঞ্চায়েতের কদমতলি গ্রামে শুক্রবার বিকেলে এলাকার বাঁশঝাড়ে খেলার সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে চার শিশু।  তাদের শরীরে মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, বমি , চোখে দেখতে না পাওয়ার সমস্যা, প্রভৃতি নানা রকম লক্ষণ দেখা দেয়। অভিযোগ, সেই সময় দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরিবর্তে গ্রামবাসীদের একাংশ ওঝা ডেকে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। ঝাড়ফুঁকের কারণে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা চিকিৎসার আওতার বাইরে ছিল শিশুরা। এতে তাদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

বেশি রাতে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে মৃত্যু হয় এক শিশুর। এরপর শনিবার সকালে মালদহ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনায় এযুগেও ঝাড়ফুঁক আর কুসংস্কার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মৃতের পরিবারের লোকজন দেহ দুটিকে নিয়ে গিয়ে গ্রামে মাটি দিয়ে দেন। এমনকী, প্রথমে ওঝার বিরুদ্ধেও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি । কিন্তু সংবাদমাধ্যমের খবরের পর সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ শুরু হয় । অনেকেই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত ওঝা  মোহাম্মদ রফিককে। কিন্তু গতকাল দেহের ময়নাতদন্ত করা নিয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি গাজোল পুলিশ । স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কি তা কিকরে বোঝা যাবে এনিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে পুলিশ ।

শেষে রবিবার সকালে এলাকায় গিয়ে দেহ দুটি তুলে আনা হয়। দুই নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ঝাড়ফুঁক নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শিশুরা খেলার সময় বিষাক্ত কিছু খেয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একমাত্র ময়নাতদন্তে এসংক্রান্ত নির্দিষ্ট কারণ জানা যেতে পারে। ফলে ঘটনার তদন্তে আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ।

সেবক শর্মা

First published: February 16, 2020, 3:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर