উত্তরবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

রায়গঞ্জে হাজার হাজার কাকের উৎপাতে জীবন অতিষ্ঠ, কাকদের চিৎকারে এখানে কথাও শোনা যায় না

রায়গঞ্জে হাজার হাজার কাকের উৎপাতে জীবন অতিষ্ঠ, কাকদের চিৎকারে এখানে কথাও শোনা যায় না
প্রতীকী চিত্র ।

এই কাকের অত্যাচারের অতিষ্ট এলাকার মানুষ। রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জের উত্তর পালপাড়াকে কাক পাড়া বা কাওয়্যা পাড়া বলেই সবাই চেনেন ।

  • Share this:

Uttam Paul

#রায়গঞ্জ: পরিযায়ি পাখিদের জন্য রায়গঞ্জ বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।কিন্তু কাক পাড়া বা কাওয়্যা পাড়া দেখতে হলেও রায়গঞ্জে আসতে হবে।কুলিক নদীর ধারেই এই কাকপাড়া। এই কাকের অত্যাচারের অতিষ্ট এলাকার মানুষ। কাক তাড়াতে গাছ কাটা সহ একাধিক পন্থা অবলম্বন করেও কাজের কাজ কিছুই হয় নি। পশুপ্রমীদের দাবি, যে সমস্ত এলাকায় নোংরা আর্বজনা থাকে সেখানেই কাক দেখা যায়। কিন্তু এখানে তার উল্টো চিত্র। চলুন একবার কাক পাড়ায় ঘুরে আসি।

রায়গঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কুলিক নদী। এই কুলিক সেতু পার হয়ে যাকেই জিজ্ঞাসা করবেন কাকের ছবি তুলতে কোথায় যাব, সে আপনাকে দেখিয়ে দেবে কাক পাড়ার রাস্তা। কুলিক নদীর পাড়েই এই পাড়া। জানা গিয়েছে, এক সময় এখানে কোনও জনবসতি ছিল না।পুরোটাই ছিল গাছ আর গাছ। সেই গাছেই বসত কাক এবং বক।  সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে জনবসতি তৈরী হয়েছে। বেশ কিছু মৃৎ শিল্পী এখানে বসতি গড়ে তুলেছে। মৃৎ শিল্পীরা সেখানে বসতি গড়ে তোলায় নামকরণ করা হয়েছিল উত্তর পালপাড়া। কিন্তু এলাকার মানুষ, কাক পাড়া কিংবা কাওয়্যা পাড়া হিসেবেই চেনে এই এলাকাকে।

এলাকার মানুষরাও কাওয়্যা পাড়ার মানুষ হিসেবে নিজেদের পরিচিতি দিতে কোনও ইতস্ততা বোধ করেন না। ঘড়ির কাঁটা চারটা বাজতে না বাজতেই হাজার হাজার কাঁক ঘরে ফিরতে শুরু করে। সন্ধ্যার মধ্যে সমস্ত কাক হাজির হয়ে যায় এই পাড়ায়।সন্ধ্যায় এখানে কাঁকের শব্দে কান পাতা দায় হয়ে যায়। এই কাক পাড়ায় ৮০টি পরিবারের বাস। এখানে যে গাছ আছে সেখানে শয়ে শয়ে কাক বাসা বেঁধেছে। ভোর হতেই আবার তারা এই এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এই কাকের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকার মানুষ। রান্না করা  খাবার থেকে শুরু করে কোনও কিছু ফাকা পেলেই কাক সেগুলো খেয়ে নেয়। কোনও জামা কাপড় বাইরে শুকতে দেবার উপায় নেই। যেখানেই  রাখা হবে কাক সেখানে বসে তার উপর মল ত্যাগ করে নষ্ট করে দেয়। এই কাকের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে বেশ কিছু গাছ কেটে ফেললেও কাক তাড়ানো সম্ভব হয়নি। সব চাইতে আশ্চর্যের বিষয়, কাইয়্যা পাড়ার সংলগ্ন এলাকাতে উঁচু গাছ থাকলেও কাকগুলো সেখানে বাসা বাঁধতে যায় না। এতকিছু অসুবিধা সত্বেও কাককে সঙ্গী করে জীবন যাপন করতে হচ্ছে কাওয়্যা পাড়ার বাসিন্দাদের। পশু প্রেমী সংগঠনের দাবি, কুলিক নদী সংলগ্ন এলাকায় পৌরসভার ধাবা। সেখানে খাবার খেয়েই নদী সংলগ্ন এলাকায় বাসা বাঁধছে এটাই স্বাভাবিক। তারা যে বংশ পরম্পরায় থাকছে এটা জনজীবনের পক্ষে খুবই ভাল। কারন কাককে স্কেভেঞ্জার পাখি বলা হয়।স্থানীয় মানুষের দাবি, পূর্ব পুরুষের আমল থেকে এখানে কাক বাসা বাঁধছে। আজও সেই পরম্পরা চলছে।

অর্চনা পাল নামে এক গৃহবধূ জানালেন, কাকের অত্যাচারে তাঁরা অতিষ্ট।কাক আসার পর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কাকের আওয়াজে তাঁরা কোনও কথা শুনতে পান না। খাবার খালি রাখলেই সেখান থেকে কাক খেয়ে নিচ্ছে।জামা কাপড় শুকতে দিলে সেখানে মল ত্যাগ করে দিচ্ছে। এক কথায় কাকের অত্যাচারে তাঁদের বাড়িতে থাকাই মুশকিল। এই অবস্থার মধ্যেই দিনের দিন, মাসের পর মাস এবং বছর পর বছর কেটে যাচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দ পাল জানালেন, পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এই কাকের অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। কাককে তাড়াতে বেশ কিছু গাছ কেটে ফেললেও কাক তাড়ানো সম্ভব হয়নি। বিমল নন্দী সুভাষগঞ্জের এক বাসিন্দা জানালেন, আগে এই এলাকায় কোনও বসতি ছিল না। এলাকায় অসংখ্য গাছ ছিল। সেখানেই এই কাক আস্থানা গেড়েছিল। পরবর্তীতে সেখানে বসতি গড়ে উঠলেও কাক এলাকা ছাড়া হয়নি। তাই ওই পাড়ার নাম কাক পাড়া কিংবা কাওয়্যা পাড়া হিসেবে পরিচিত।

Published by: Simli Raha
First published: November 3, 2020, 5:32 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर