লকডাউনে পাহাড়ি রাস্তায় এখন এক অদ্ভুত নির্জনতা! 

ইতি উতি নজরে পুলিশ আর সিভিক ভলান্টিয়াররা। সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীরা। খাঁ খাঁ করছে টোল প্লাজা। বিকেলেই যেন নেমে আসে সন্ধা!

ইতি উতি নজরে পুলিশ আর সিভিক ভলান্টিয়াররা। সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীরা। খাঁ খাঁ করছে টোল প্লাজা। বিকেলেই যেন নেমে আসে সন্ধা!

  • Share this:

#কার্শিয়ং: স্তব্ধ পাহাড়। এক্কেবারে শুনশান। এক নিস্তব্ধতার ছবি! নেই গাড়ির কালো ধোঁয়া। দূষণের বালাই নেই। দূর থেকে স্পষ্ট, খুব কাছাকাছি দেখাচ্ছে কার্শিয়ংকে। নেই গাড়ির কলরব। হর্ণের বালাই নেই। নিঝুম পাহাড়। শান্ত, স্নিগ্ধ পাহাড়। যে রোহিণী মোড় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত থাকতো সদা ব্যস্ত। একের পর এক পর্যটকবোঝাই গাড়ি চড়াই উতরাই পথ বেঁয়ে উঠতো পাহাড়ে। সেই রোহিণী মোড় এখন শান্ত।

ইতি উতি নজরে পুলিশ আর সিভিক ভলান্টিয়াররা। সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীরা। খাঁ খাঁ করছে টোল প্লাজা। বিকেলেই যেন নেমে আসে সন্ধা! চারপাশে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নানা অজানা পাখির কলতান! ওরাও আজ শান্ত। নেই যে ফ্ল্যাশবাল্বের ঝলকানি! রোহিণী মোড় থেকে যেদিকে চোখ যায় চারদিক এক অদ্ভুত নীরবতা। রাস্তার পাশের ফাস্টফুডের দোকান থেকে রেস্তোঁরা সবেরই ঝাঁপ বন্ধ। করোনা আতঙ্কে ঘরের ভিতর জনতা। রোহিণী লেক থেকে মন্দির সবই জন শূণ্য!

খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এতে সমস্যা বাড়ছে ছোটো ছোটো ব্যবসায়ী থেকে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের। কিন্তু উপায় যে নেই! খাঁ খাঁ করছে জিরো পয়েন্টের "আই লাভ কার্শিয়ং" ভিউ পয়েন্ট। প্রতিদিনই যেখানে পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমাতো। কবে আবার স্বাভাবিক হবে পাহাড়? পর্যটকেরা ফের পাহাড়মুখো হবে? উত্তর অজানা। সিকিম ইতিমধ্যেই অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে "না" জানিয়ে দিয়েছে। জিটিএ অবশ্য এখোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবু সাদা অর্কিডের দেশ হিসেবে পরিচিত কার্শিয়ং আজ শান্ত। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর গাড়ি ওঠানামা করছে।

আর অসুস্থ হলে কেউ নেমে আসছেন সমতলে। তাও আবার তাদের থার্মাল চেকিং পার করে আসতে হচ্ছে। রোহিণী মোড়ে থার্মাল চেকিং ক্যাম্প বসানো হয়েছে। ভিন জেলার গাড়ির অনুমোদন নেই পাহাড়ে ওঠার। একমাত্র দার্জিলিং জেলার গাড়ি ওঠানামা করছে। পাহাড়ে ওঠানামার আগে রোহিণী মোড়ে থার্মাল চেকিং করা হচ্ছে প্রত্যেকেরই। ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকছে থার্মাল চেকিং ক্যাম্প। বৈধ নথি ছাড়া ক্যাম্প পার করা সম্ভব নয়। জানিয়েছেন কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মী।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: