Home /News /north-bengal /
Jalpaiguri : একইদিনে পরপর তিনটি দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য! মৃত ২, ট্রাফিক পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

Jalpaiguri : একইদিনে পরপর তিনটি দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য! মৃত ২, ট্রাফিক পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

একইদিনে পরপর তিনটি দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য! মৃত ২, ট্রাফিক পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

একইদিনে পরপর তিনটি দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য! মৃত ২, ট্রাফিক পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

Jalpaiguri : একইদিনে ধূপগুড়ি শহরে পরপর তিনটি পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ২ জনের। আহত হলেন ১ জন

  • Share this:

#ধূপগুড়ি: একইদিনে ধূপগুড়ি শহরে পরপর তিনটি পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুজনের। আহত হলেন ১ জন। ধূপগুড়ি শহরে পরপর ১৫ মিনিটের ব্যাবধানে পাশাপাশি একই জায়গা দুটি পথ দুর্ঘটনা, মৃত্যু হলো শিক্ষকের। বরাত জোরে প্রাণে বাঁচলেন আর এক বাইক আরোহী। মৃত শিক্ষকের নাম দেবাশিস সাহা। তুমুল উত্তেজনা ধূপগুড়িতে। ট্রাফিক পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ রাস্তা আটকে, গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা উত্তেজিত জনতার, ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে ধস্তা ধস্তি পর্যন্ত হয় উত্তেজিত জনতার।

অন্যদিকে, ধূপগুড়ি ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি পণ্যবাহী লরির ধাক্কায় মৃত্যু হয় দিলীপ রায় (৩৬) নামে এক ব্যক্তির। ধূপগুড়ির পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের রায় পাড়ার বাসিন্দা। প্রথম দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন এক শিক্ষক। পরে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।। তাঁকে ধূপগুড়ি হাসপাতাল থেকে জলপাইগুড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়। তবে বরাত জোরে প্রাণে বাঁচলেন মোটরবাইক আরোহী। যাকে ঘিরে রীতিমতো চরম উত্তেজনা ছড়ালো শহরের মূল ট্রাফিক পয়েন্টের সামনে।

ধূপগুড়ি ট্রাফিক চৌপতি থেকে মাত্র কুড়ি মিটার দূরত্বে ঘটে পরপর দুটি দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের ব্যাক্তিগত অফিস সামনে অস্থায়ী বাস স্ট্যান্ড গজিয়ে উঠেছে। আর সেখানে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বিভিন্ন বাস এবং ছোট গাড়ি আর যার জেরে বাড়ছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি নজরদারি নেই ট্রাফিক পুলিশের, এমনটাও অভিযোগ। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে শহরের প্রাণকেন্দ্র গয়েরকাটা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়।

দেবাশিস সাহা নামে এক স্কুল শিক্ষক মোটর বাইক নিয়ে গয়েরকাটার দিকে যাচ্ছিলেন। রাস্তার দুই দিকে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখায় রাস্তার অভাবে অপর একটি ট্রলার গাড়ি মোটরবাইকে গিয়ে ধাক্কা মারে। এর পরে পিছন দিক থেকে একটি মালবাহী গাড়ি এসে শিক্ষককে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পথচলতি সাধারণ মানুষ ও দমকল বাহিনী গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখান থেকে পরবর্তীতে তাকে জলপাইগুড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রথম দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক উল্টোদিকে একটি ভুটান নম্বরের ডাম্পারের নীচে চলে আসে আর একটি মোটর বাইক। বরাত জোরে বেঁচে যান সেই মোটরবাইকের চালক। এর পরে উত্তেজিত হয়ে পড়ে স্থানীয় জনতা। ট্রাফিক পুলিশের সামনেই সেই ডাম্পারের উপর চড়াও হয় সাধারণ মানুষ। ট্রাফিক পুলিশকে ঘিরে চলে বিক্ষোভ। এমনকি ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তোলেন সাধারণ মানুষ। রীতিমতো ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের।

তাঁদের অভিযোগ, শহরের ব্যস্ততম এশিয়ান হাইওয়ের দুই পাশে অবৈধ ভাবে পার্কিং এবং ছোট ছোট গাড়ির স্ট্যান্ড করা হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের নাকের ডগায়। এই ভাবে বেআইনি স্ট্যান্ড থাকলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এলাকাবাসী রমেশ আগারওয়াল বলেন, "নিশ্চয়ই কোনও কারণ আছে ট্রাফিক পুলিশের নিষ্ক্রিয় থাকার। উল্লেখ্য, ধূপগুড়ি শহরে দিনের-পর-দিন দুর্ঘটনা যেভাবে বাড়ছে তাতে সাধারণ মানুষ এখন রাস্তায় বের হতে ভয় পায়।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন গয়েরকাটা রোড থেকে বাস স্ট্যান্ড সরানো হোক। এমনকী যে সমস্ত ছোট গাড়ি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেগুলি সরানোর ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করুক বলে দাবি তাঁর। এলাকার আর এক বাসিন্দা দিলীপ আলম বলেন, "ট্রাফিক পুলিশের টার্গেট শুধুমাত্র হেলমেট বিহীন মোটর বাইক চালক। পোল্ট্রি মুরগির গাড়ি, গরুর গাড়ি এইসব নিয়েই ব্যস্ত থাকে ট্রাফিক পুলিশ। তাদের যে আরও কিছু কর্তব্য বা আরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে সে বিষয়ে তারা কোনও ভাবেই অবগত নন। মানুষের নিরাপত্তা সুরক্ষা কে দেবে?"

স্থানীয় বাসিন্দা  মহুয়া সরকার মুখোপাধ্যায় বলেন, "ধূপগুড়ি গয়েরকাটা রোডে প্রায়ই ট্রাফিক পুলিশকে দেখতে পাওয়া যায় গাড়ি থেকে টাকা তুলতে। মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে তারা সচেতন নন, ট্রাফিক পুলিশ শুধুমাত্র গরুর গাড়ি, মুরগির গাড়ি খুঁজে বেড়ায়। তাদের আরও যে দায়িত্ব রয়েছে তা তারা ভুলে গিয়েছে।" এদিন সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় আর এর জন্যই তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এদিকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

Tags: Jalpaiguri

পরবর্তী খবর