Home /News /north-bengal /
Jalpaiguri: চোখের সামনে এ কী? বস্তার মধ্যে লুকিয়ে এ কোন প্রাণী? আতঙ্কে দিশেহারা জলপাইগুড়ির গ্রাম

Jalpaiguri: চোখের সামনে এ কী? বস্তার মধ্যে লুকিয়ে এ কোন প্রাণী? আতঙ্কে দিশেহারা জলপাইগুড়ির গ্রাম

অচেনা জন্তুর আতঙ্কে কাঁটা ক্রান্তি ব্লকের রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ধলাবাড়ি গ্রাম

  • Share this:

    #জলপাইগুড়ি: অচেনা জন্তুর আতঙ্কে কাঁটা ক্রান্তি ব্লকের রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ধলাবাড়ি গ্রাম! স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল ইসলামের বাড়িতে এক বস্তার মধ্যে লুকিয়েছিল প্রাণীটি। বাড়ির লোক দেখতে পেয়ে ভয় পেয়ে যান, শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি! তাঁদের হুলুস্থুলে পাড়া-প্রতিবেশীরা জড়ো হন। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে!  কর্মীরা এসে জন্তুটিকে উদ্ধার করেন।

    গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানো প্রাণীটি আসলে বিরল জন্তু গন্ধগোকুল। যাকে ইংরেজিতে বলে Asian palm civet । এর বৈজ্ঞানিক নাম Paradoxurus hermaphroditus। তাল খাটাশ, ভোন্দর, লেনজা, সাইরেল বা গাছ খাটাশ নামেও পরিচিত। এরা তালের রস বা তাড়ি পান করে বলে তাড়ি বা টডি বিড়ালও বলা হয়। গন্ধগোকুল বর্তমানে অরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। পুরোনো গাছ, বন-জঙ্গল কমে যাওয়ায় দিন দিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিবেচনায় পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় উঠে এসেছে এই প্রাণীটি। আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-সহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুলের বাস।

    আরও পড়ুন: টাকা নেই, কেউ দেখার-ও নেই, চোখের জল ফেলতে ফেলতে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে শিকল দিয়ে বেঁধে কাজে যান মা

    গন্ধগোকুল বা Asian palm civet আসলে মাঝারি আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণী। নাকের আগা থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত ৯২-১১২ সেন্টিমিটার লম্বা হয়, এর মধ্যে লেজই ৪৪-৫৩ সেন্টিমিটার। লেজের দৈর্ঘ্য ৪৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আকার ৫৩ সেন্টিমিটার। ওজন সাধারণত ২.৪ - ৫.০ কেজি। স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে গন্ধগ্রন্থি থাকে। গন্ধগোকুলের গাট্টাগোট্টা দেহটি স্থূল ও রুক্ষ বাদামি-ধূসর বা ধূসর-কালো লোমে আবৃত হয়।

    আরও পড়ুন: ধূপগুড়ির রাজপথে সাধারণ মানুষ, জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চলল বিক্ষোভ, কেন জানেন?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, গন্ধগোকুল নিশাচর। খাটাশের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এরাই মানুষের বেশি কাছাকাছি থাকে। দিনের বেলা বড় কোনও গাছের ভূমি সমান্তরাল ডালে লম্বা হয়ে শুয়ে থাকে, লেজটি ঝুলে থাকে নীচের দিকে। মূলত ফলখেকো হলেও কীটপতঙ্গ, শামুক, ডিম-বাচ্চা-পাখি, ছোট প্রাণী, তাল-খেজুরের রসও খায়।

    অন্য খাদ্যের অভাবে মুরগি-পায়রা ও ফল চুরি করে। এরা ইঁদুর ও ফল-ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। গন্ধগোকুলের অন্ধকারে অন্য প্রাণীর গায়ের গন্ধ শুঁকে চিনতে পারার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রায় পোলাও চালের মতো তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। একসময় এর শরীরের গন্ধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।

    Vaskar Chakraborty

    Published by:Rukmini Mazumder
    First published:

    Tags: Jalpaiguri News

    পরবর্তী খবর