• Home
  • »
  • News
  • »
  • north-bengal
  • »
  • গুরুং নয়, পাহাড় চায় আরও উন্নয়ন

গুরুং নয়, পাহাড় চায় আরও উন্নয়ন

Picture- Siddhartha Sarkar

Picture- Siddhartha Sarkar

পাহাড়ে এ বারের ভোটে গোর্খাল্যান্ড নামক ইস্যুটির প্রভাব বিশেষ নেই৷

  • Share this:

    #দার্জিলিং: চকবাজার থেকে ৩ কিমি গেলে সিংমারি ৷ সেখান থেকে পাহাড়ি পাকদণ্ডি বেয়ে আরও ৪ কিমি নামলেই পাতলেবাস ৷ জঙ্গলে ঘেরা এই জায়গাটি ২০১৭ সালের পর থেকে রাজ্যের কাছে বেশ পরিচিত৷ একটি গুহায় ওই পাতলেবাসেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা বিমল গুরুং৷ সঙ্গে সঙ্গী রোশন গিরি৷ পাতলেবাস, অশান্তি, ধর্মঘট এখন অতীত ৷ বস্তুত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পাহাড়ে ভোটে সশরীরে নেই বিমল গুরুংরা৷ সবচেয়ে তাত্‍পর্যপূর্ণ বিষয় হল, পাহাড়ে এ বারের ভোটে গোর্খাল্যান্ড নামক ইস্যুটির প্রভাব বিশেষ নেই৷ বরং উন্নয়নকেই ভোট দেওয়ার মাপকাঠি হিসেবে ধরছেন পাহাড়ের মানুষ৷

    গত ২টি নির্বাচনে গোর্খাল্যান্ড বড় ইস্যু থেকেছে দার্জিলিঙে৷ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনে বিজেপি-র প্রার্থী জিতেছেন দার্জিলিঙে৷ দার্জিলিঙের প্রবীণ বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব ব্রজেশ সুব্বার কথায়, ‘মাঝরাতে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে ৷ বেলা হয়ে গেল, এখনও বিদ্যুত্‍‌ নেই৷ জল নেই৷ খোদ জিটিএ চেয়ারম্যান বিনয় তামাংয়ের বাড়ির কাছে যান৷ দেখুন রাস্তার কী অবস্থা৷ রাজনীতি আর ভালো লাগছে না৷ উন্নতি হোক দার্জিলিঙের ৷’

    আদালতের নির্দেশে বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা ভোটের প্রচারে অংশ নিতে পারেননি ৷ তা হলে বিমল গুরুং প্রভাব কি এ বারের ভোটে নেই? কী বলছে দার্জিলিং? গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আলোচনা কিন্তু এ বারের ভোটে খুব একটা নেই পাহাড়ে৷ শিলিগুড়ির বাসিন্দা, দার্জিলিঙে হোটেল ব্যবসায়ী নরেশ আগরওয়ালের বক্তব্য, ‘বিজলি, পানি, সড়ক, ইয়ে সব ব্যস ঠিক হো যায়ে৷ বাকি অউর ক্যায়া চাহিয়ে৷’ তাঁর আধো হিন্দি-বাংলা মেশানো কথায়, ‘বছর দুয়েক আগে সেই দিনগুলো আমাদের কাছে দুঃস্বপ্ন ৷ খাবার নেই, জল নেই৷ ব্যবসা বন্ধ৷ মমতাদিদি নে পাহাড় মে শান্তি বাওয়াপস লায়ি, অউর ক্যায়া চাহিয়ে৷ সবাই ভালো থাকুক পাহাড়ে ৷’

    ম্যালে অবশ্য বছর ৩০-এর রমেশ গিরি বলছেন, ‘গোর্খাল্যান্ড তো চাই৷ নইলে উন্নতি হচ্ছে কই দার্জিলিংয়ে?’ গোর্খাল্যান্ডের দাবি মিটলে উন্নয়ন হবেই? প্রশ্নটির কোনও সদুত্তর দিতে পারলেন না রমেশ ৷ দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা পেশার তাগিদে মুম্বইয়ের থাকেন বিষ্ণু রাই৷ ভোট দিতে এসেছেন৷ ৩৪ বছরের বিষ্ণুর কথায়, ‘দার্জিলিং ভারতের সুইত্‍‌জারল্যান্ড৷ দার্জিলিঙের উন্নতি হলে, তা দেশের গর্ব৷ রাজনীতি নয়, আমি চাই যে পার্টি আসুক, পাহাড়ের উন্নয়ন করুক৷ রাস্তা ভালো হোক৷ পর্যটকরা আরও আসুক৷’

    ‘হামারি মাঙ্গ গোর্খাল্যান্ড’র স্লোগান তেমন নেই৷ বরং সার্বিক ভাবে পাহাড়ের স্লোগান হতেই পারে এক কথায়, ‘হামারি মাঙ্গ বিজলি-পানি-সড়ক৷’

    শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তা ভালোই৷ তীব্র যানজট ছাড়া বিশেষ অসুবিধা নেই৷ কিন্তু দার্জিলিংয়ের ভিতরের রাস্তার হাল বেশ শোচনীয়৷ হোটেল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জলের অভাব নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷

    First published: