ইয়াসের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টি মালদহে, ধানের মাচা চাপা পড়ে মৃত্যু ২ শিশু-সহ ৩ জনের

ইয়াসের বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ধানের বস্তাগুলিকে মাচায় তুলে রাখা হয়েছিল। ওগুলো এভাবে ভেঙে পড়বে তা কেউই আঁচ করতে পারেনি ।

ইয়াসের বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ধানের বস্তাগুলিকে মাচায় তুলে রাখা হয়েছিল। ওগুলো এভাবে ভেঙে পড়বে তা কেউই আঁচ করতে পারেনি ।

  • Share this:

Sebak DebSarma

#মালদহ: ভারী বৃষ্টির সময় ধানের মাচা ধসে পড়ে মালদহের চাঁচলে তিনজনের মৃত্যু হল। একইসঙ্গে মৃত্যু হল দুই নাতি সহ ঠাকুরমার৷ রাতে ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল-২ নম্বর ব্লকের ললিয়াবাড়ি গ্রামে৷ খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ওই বাড়িতে পৌঁছন মালতিপুরের তৃণমূল বিধায়ক আবদুর রহিম বক্সী ৷ এ দিন বেলা পর্যন্ত বাড়িতেই পড়ে থাকতে দেখা যায় তিনটি দেহ৷ এলাকায় ভিড় করেন গ্রামের মানুষজন এবং পরিজনেরা। মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা গ্রামজুড়ে।

মৃতদের মধ্যে রয়েছে, রাহুল টুডু (৫), রোহিত টুডু (৭), এবং তানু সোরেন (৫০)। ঘরের ভিতরে আচমকা আওয়াজ পেয়ে ভেতরে ঢুকে পরিবারের কর্তা দশরথ টুডু দেখেন তাঁর মা ও দুই শিশু সন্তান ধানের বস্তা নিচে চাপা পড়ে রয়েছে। প্রথমে নিজে বস্তাগুলো টেনে সরানোর চেষ্টা করেন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁরাও উদ্ধার কাজে হাত লাগান। বস্তাগুলো সরিয়ে দেখা যায় নিচে তিনজনই মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালতিপুর এর তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, এমন মৃত্যুর ঘটনা সত্যিই মর্মান্তিক। সরকারি এবং দলগত স্তরে মৃতের পরিবারকে সাহায্য করা হবে। তিনি নিজেও সব ধরনের সাহায্য করবেন।ঘটনার পর শোকে ভেঙে পড়েন পরিবারের কর্তা দশরথ টুডু। তিনি জানান, দুর্ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। ইয়াসের বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ধানের বস্তাগুলিকে মাচায় তুলে রাখা হয়েছিল। ওগুলো এভাবে ভেঙে পড়বে তা ভাবতে পারেননি। মৃত্যুর খবর পেয়ে বেলার দিকে এলাকায় পৌঁছয় চাঁচল থানার পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন। দেহগুলিকে উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত ওই পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল। ইয়াসের জেরে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে একটানা ভারী বৃষ্টি হয়। তবে, এভাবে দুই শিশুসহ তিন জনের প্রাণহানী হবে এমন ঘটনা অকল্পনীয়।

Published by:Simli Raha
First published: