ক্যানসারে আক্রান্ত মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিল গ্রাম পঞ্চায়েত

ক্যানসারে আক্রান্ত মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিল গ্রাম পঞ্চায়েত

ক্যানসারে আক্রান্ত ছাত্র এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। ছাত্রের এই ইচ্ছাকে বিশেষ সন্মান দিয়ে তার চিকিৎসার খরচ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত।

  • Share this:

#উত্তর দিনাজপুর: ক্যানসারে আক্রান্ত ছাত্র এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। ছাত্রের এই ইচ্ছাকে বিশেষ সন্মান দিয়ে তার চিকিৎসার খরচ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত।

উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার পাঞ্জিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জগানন্দ মন্ডল। তিন ছেলে, স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। দুই ছেলে ভিন রাজ্যে কাজ করে।ছোট ছেলে মিঠুন। জগানন্দবাবু প্রান্তিক কৃষক।২০১৮ সালে চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছিল মিঠুনের।

বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় তাকে বেঙ্গালুরুতে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য ব্রেন টিউমার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর তার ব্রেন ক্যান্সার ধরা পড়ে। ২০১৮ সালে এলাহি বক্স হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার কথা ছিল মিঠুনের। অসুস্থতার কারনে টানা দুই বছর পরীক্ষা দিতে পারেনি। টানা দুই বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসার পর এখন অনেকটাই সুস্থ মিঠুন। শারীরিকভাবে সুস্থতা অনুভব করায় এবারে সে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। পাঞ্জিপাড়া এলাহি বক্স হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। তার পরীক্ষাকেন্দ্র মনিভিটা হাইস্কুল। ছোট বেলা থেকেই মিঠুন উচ্চশিক্ষার পর জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখেছিল। সব স্বপ্নই ২০১৮ সালে ভেঙে চুড়মার হয়ে যায়। সম্প্রতি সে কেমোথেরাপি দিয়ে এসেছে। কেমোর যন্ত্রণা ভুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে মিঠুন।

মিঠুন ছোট ছেলে।মা অর্চনা মন্ডল গৃহবধূ। ছেলে মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। সহায় সম্বলটুকু বিক্রিবাট্টা করে প্রায় আট লক্ষ টাকা খরচ করে ছেলে চিকিৎসা করছে। ছেলের চিকিৎসার পর এখন দিন চালানোই তাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তবুও ছেলে পড়তে চাইলে তার ইচ্ছা পূরন করবে। মিঠুন জানে সে মারণ রোগে আক্রান্ত। তাতে এতটুকু ভেঙে পড়তে চাইছে না।মিঠুনের দাবি যতদিন সে বেঁচে থাকবে ততদিন পড়াশুনাকে চালিয়ে নিয়ে যাবে।পাঞ্জিপাড়া গ্রামপঞ্চায়েত উপপ্রধান মহঃ রাহি জানিয়েছেন,মিঠুনের মত একজন অল্পবয়সের ছেলে মারন রোগে আক্রান্ত। বিষয়টি তাদের নজরে কেউ এতদিন আনেননি। সেই মারণ রোগে নিয়ে সে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। এই অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ায় বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাদের বাড়িতে যোগাযোগ করা হয়।সমস্ত রকম কষ্ট ভুলে মিঠুন যে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে এই উদ্দমকে তারা সন্মান জানায়। আগামীতে পঞ্চায়েত থেকে মিঠুনের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উত্তম পাল

First published: February 25, 2020, 8:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर