corona virus btn
corona virus btn
Loading

গ্রামকে করোনা থেকে বাঁচাতে স্বেচ্ছায় জঙ্গলবাস বেছে নিল মালদহের চার যুবক !

গ্রামকে করোনা থেকে বাঁচাতে স্বেচ্ছায় জঙ্গলবাস বেছে নিল মালদহের চার যুবক !

মালদহে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে স্বেচ্ছায় জঙ্গলবাসে চার ব্যক্তি।

  • Share this:

 #মালদহ: করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামাজিক দুরত্বই একমাত্র হাতিয়ার। মালদহে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে স্বেচ্ছায় জঙ্গলবাসে চার ব্যক্তি। মালদহের গাজোলে সালাইডাঙ্গা এলাকায় জঙ্গলে তাঁবু খাটিয়ে চলছে বসবাস। ইতিমধ্যেই দশ দিন কাটিয়েও ফেলেছেন ওঁরা। ওঁরা কেউ তথাকথিত শিক্ষিত সম্প্রদায়ের নন। তবে, সচেতনতায় ওঁরা কয়েক কদম পিছনে ফেলেছেন অনেককেই। ওঁরা ভালোবাসেন নিজের পরিবারকে। ভালোবাসেন প্রতিবেশী আর প্রিয় গ্রামকে। তাই, কেউই পরিবার বা গ্রামের ক্ষতির কারণ হতে চান না। পেশায় নির্মান শ্রমিক চার যুবক নজিরবিহীন ভাবে বাইরে থেকে ফিরে, গ্রামে না গিয়ে সটান তাঁবু গেড়েছেন ইউক্যালিপটাস, মেহুগিনির জঙ্গলে।

মালদহের গাজোলের সলাইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের পোলাডাঙ্গা গ্রামে মরা টাঙ্গন নদীর ধারে জঙ্গল জীবনযাপন করছেন চার নির্মান শ্রমিক জ্যোর্তিময় সমাদ্দার, কৃষ্ণ সমাদ্দার, অমল বিশ্বাস এবং অসিম বিশ্বাস।  নদীয়ার কল্যানীতে এইমসের নির্মিয়মান বহুতলে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গেই একসঙ্গে কাজ করতেন বিভিন্ন রাজ্যের আরও অনেক শ্রমিক। লকডাউনের জেরে কাজ বন্ধ হতেই তাঁরা ফেরেন মালদহে। প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যান মালদা মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালে। শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ না পেলেও চিকিৎসকেরা ‘হোম কোয়ারেনটাইনের’ পরামর্শ দেন। কিন্তু, পরিবারে অনেক সদস্যের সঙ্গে থাকা বিপদজনক। আবার প্রতিবেশী বা গ্রামের কারো মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ুক তাও চাননি ওঁরা। তাই, গ্রামের নদীর অন্যপাড়ে জঙ্গলেই বসবার শুরু করেছেন। পরিবারের লোকজন দুর থেকে এসে খাবার দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ওই খাবার তুলে এনে খাওয়া দাওয়া সারছেন। নিজেরাই গ্রামের লোকদের সতর্ক করেছেন কাছে না আসার জন্য।    আদিম যুগে জঙ্গলবাসী ছিলেন পূর্ব-পুরুষেরা। কিন্তু, আধুনিক যুগেও করোনার সতর্কতায় ফের জঙ্গলবাস।কী করে কাটছে সময়? জঙ্গল জীবনের অভিঞ্জতাই বা কেমন। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রথম প্রথম সাপ, শেয়ালের ভয় ছিল। তাই গ্রাম থেকে তার টেনে এনে তাঁবুতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপর গত দশদিনে জঙ্গলের সঙ্গেই মানিয়ে নিয়েছেন ওঁরা। মাঝে একবার স্বাস্থ্যকর্মীরা এসে খোঁজ নিয়ে গিয়েছেন।  গত দশদিন এভাবে কাটানো শ্রমিকদের পাশেই দাঁড়িয়েছে গোটা গ্রাম। নিয়ম করে খাবারের যোগানও দিচ্ছেন তাঁরা। দূর থেকে বার বার খোঁজ নিচ্ছেন আর কোনো প্রয়োজন রয়েছে কিনা।আর চারদিন পর ১৪ দিনের জঙ্গলবাস শেষ হবে। গ্রামে ফিরবেন ওঁরা। এখন গোটা গ্রামে তাঁরই প্রতীক্ষা।

সেবক  দেবশর্মা
 
First published: April 9, 2020, 8:18 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर