চরম অমানবিকতা ! একঘরে করোনা আক্রান্ত মহিলা ! দুই সন্তানকে নিয়ে রাত কাটল খোলা আকাশের নীচে

সামাজিক বয়কটের শিকার করোনা আক্রান্ত মহিলা। চরম অমানবিকতার ছবি পুরাতন মালদহে।

সামাজিক বয়কটের শিকার করোনা আক্রান্ত মহিলা। চরম অমানবিকতার ছবি পুরাতন মালদহে।

  • Share this:

#মালদহ:  সামাজিক বয়কটের শিকার করোনা আক্রান্ত মহিলা। চরম অমানবিকতার ছবি পুরাতন মালদহে। খোলা আকাশের নীচে ত্রিপল খাটিয়ে রোদ,জল, বৃষ্টিতে রাতদিন কাটল করোনা রোগীর। অভিযোগ এলাকার কোনও দোকান থেকে মালপত্র পর্যন্ত কিনতে পারেননি। শুধু তাই নয়, এলাকার স্কুল বাড়িতে থাকার জন্য গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে করোনা আক্রান্তকে। দুই সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নীচেই রাত কাটালেন তিনি।

পুরাতন মালদহ পুরসভা এলাকায় চরম অমানবিকতার ছবি। পুরাতন মালদহের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলবাড়ি সামুনডাই কলোনীর বাসিন্দা মাঝবয়সী মহিলা।  পেশায় পরিচারিকা, হতদরিদ্র ওই মহিলা কিছুদিন আগে সরকারি আবাস যোজনায় ঘর পান। কিন্তু সেই ঘর তৈরির কাজ শেষ হয়নি। এই অবস্থায় এলাকার এক প্রতিবেশীর বাড়ির বারান্দায় আশ্রিতা হিসেবে ছিলেন তিনি। গত মঙ্গলবার কিছু উপসর্গ থাকায় তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে রিপোর্ট  পজেটিভ আসে। এরপর নিজে থেকেই প্রতিবেশীর বাড়ি ছেড়ে আসেন তিনি। কিন্তু তাঁর থাকার কোন বন্দোবস্ত হয়নি। পুলিশ প্রশাসন ও পুরসভার উদ্যোগে এলাকার একটি প্রাথমিক স্কুলে তাঁকে থাকার জন্য বলা হয়। কিন্তু, স্কুলের পাশ্ববর্তী কিছু মানুষ বিরোধিতা করায় সরকারি স্কুলে ঠাঁই মেলেনি মহিলার। রাতে ত্রিপল টানিয়ে নিজের অসম্পূর্ন ঘরের কাছে বসে থেকেই রাত কাটান।

বুধবার সকাল থেকে চড়া রোদে, খোলা আকাশের নীচে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। এমনকি আশপাশের দোকান থেকে খাবার পর্যন্ত কিনতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য পুলিশ প্রশাসন ও পুরসভার ভূমিকায় সরব হন স্থানীয়দের একাংশ। পরে বিকেল নাগাদ পুলিশের উদ্যোগে ওই মহিলাকে ইংরেজবাজারে করোনা আক্রান্তদের সেফ হোমে আনা হয়।  ঘটনার জন্য এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের কুসংস্কার এবং অহেতুক ভয়কে দায়ী করেছেন পুরাতন মালদা পুরসভার প্রশাসক কার্তিক ঘোষ। তিনি বলেন, সমস্যা জানার পর ইংরেজবাজারে একটি সরকারি স্কুলে সেফ হোমে ওই মহিলাকে পাঠানো হয়েছে।  এভাবেই, করোনা আক্রান্তের পর ২৪ ঘণ্টা  মহিলার জুটেছে শুধুই অবজ্ঞা ও অবহেলা।

সেবক দেবশর্মা
Published by:Piya Banerjee
First published: