Raiganj||Tulaipanji Rice: তুলাইপাঞ্জি চালের জনক, চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটছে প্রবীণ কৃষকের

চপলাকান্ত বর্মন৷

রাজ্যপাল থেকে শুরু করে দেশের অনেক নেতারাই বাড়িতে এসে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও পালন না হওয়ায় হতাশ চপলাবাবু (Raiganj||Tulaipanji Rice)।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: তুলাইপাঞ্জি চালকে যিনি বিশ্বের দরবারে হাজির করেছিলেন, সেই কৃষক চপলাকান্ত বর্মনই আজ চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন । রাজ্যপাল থেকে শুরু করে দেশের অনেক নেতারাই বাড়িতে এসে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও পালন না হওয়ায় হতাশ চপলাবাবু।

রায়গঞ্জ ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে সম্প্রতি বার্ধক্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে তাঁর বড়সড় কোনও আব্দার নেই শুধু সামন্য একটা মাথা গোঁজার ব্যবস্থা হলে জীবনের বাকি দিনগুলি কোন ক্রমে কাটিয়ে দিতে পারবেন। ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর আগের কথা। তখন জনসংখ্যাও কম ছিল, প্রচুর পরিমাণে দেশীয় ধান এলাকায় এলাকায় চাষ হত। জমির উপরে খুব বেশি চাপ থাকত না। রায়গঞ্জ ব্লকের মোহিনীগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন জাতের সরু ধানের চাষ ভাল হত।এই সরু ধানের মধ্যে একটা ধান তুলাইপাঞ্জি ধান। সেই চাষ যে একাদিন দেশ ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে সমাদর পাবে, সেটা কৃষকরা ভাবতেও পারেননি। কালের নিয়মে জনসংখ্যা বাড়তে থাকে।  ক্রমশই জমির উপরে চাপ বাড়ে। বেশি লাভের আশায় দেশি ধানের চাষ থেকে ক্রমশই মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করে কৃষকরা। রায়গঞ্জ ব্লকের শেরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বন্যাগ্রা গ্রামের চপলাকান্ত বর্মন এই সরু ধানের চাষকে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার উপরে বেশি গুরুত্ব দেন।  সরু তুলোর মতো সাদা,নরম 'তুলাইপাঞ্জি' ধান।  এই চালের সুবাস রাজ্যের পাশাপাশি দেশ -বিদেশের মাটিতেও ছড়িয়ে পরেছে।

প্রতিটি জেলার কিছু না কিছু বিশেষত্ব থাকে। বর্ধমানের যেমন ল্যাংচা তেমনি উত্তর দিনাজপুর পুর জেলার গর্ব তুলাইপাঞ্জি চাল।উত্তরবঙ্গের  দিনাজপুরে এলে  রায়গঞ্জ মোহিনীগঞ্জের তুলাইপাঞ্জি চালের ভাত  না খেলে  সফর খানিকটা অধরাই থেকে যায়।  মূলত রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জমিতে এই ধান চাষ হলেও বর্তমানে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আশপাশের ব্লকগুলিতেও এই ধান চাষ হচ্ছে। স্বাদে -গন্ধে অতুলনীয় এই চালের সুনাম রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে?েছ। এমনকী লন্ডন অলিম্পিক্সের হেঁশেলেও পৌঁছে গিয়েছিল এই চাল। রায়গঞ্জ ব্লকের শেরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বন্যাগ্রা গ্রামের বাসিন্দা চপলাকান্ত বর্মনের হাত ধরেই এই তুলাইপাঞ্জি ধানের চাষ শুরু হয়েছিল। চপলাবাবুর কথা জানতে পেরে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধি সহ অন্যান্য সরকারি আধিকারিকেরা।

তুলাইপাঞ্জি ধানচাষে চপলাবাবুর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে সব ধরনের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি ও দিয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় চপলাবাবুর অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয় নি। বয়সের ভারে চপলাবাবু কর্মক্ষমতা অনেকড়াই হারিয়ে ফেলেছেন।  দু' বেলা ভাতের জোগাড় হলেও নেই পাকা বাড়ি বা সরকারি সাহায্য। ঝড়বৃষ্টি তে ঘরের চালা দিয়ে জল ঝরে। বাধ্য হয়েই চপলা বাবুকে পাশের স্কুলঘরে আশ্রয় নিতে হয়।

চপলাবাবু বলেন ,  'একটা সময় রাজ্যের পাশাপাশি দিল্লী, মুম্বাই এমনকি বিদেশেও চাল পাঠিয়েছি। অনেক বড় বড় নেতা-মন্ত্রীরা বাড়িতে এসেছেন। এখন খুব কষ্টে দিন কাটছে। সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি মাথা গোঁজার জন্য একটা ঘরের খুব প্রয়োজন।'

 চপলাবাবুর এই দুঃখ-যন্ত্রণার কথা জানেন পাড়া-প্রতিবেশীরাও। প্রতিবেশী মনোরঞ্জন বর্মন জানান,  চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন চপলাবাবু।

রায়গঞ্জের বিডিও  শুভজিৎ মণ্ডল  বলেন,  'চপলাবাবুর বিষয়ে ব্লক প্রশাসনের  থেকে খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। তাঁর অবস্থা দেখে ইতিমধ্যে তাঁকে  বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। তিনি যাতে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পান  সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'

Published by:Debamoy Ghosh
First published: