কৃষক বাবার নয় ছেলে এক মেয়ে, কঠিন লড়াইয়ে এসআই হলেন তাঁরই এক ছেলে

কৃষক পরিবারের ছেলে পারভেজ আলম এস আই পদে উত্তীর্ণ হওয়ায় খুশির হাওয়া চাকুলিয়া ব্লকের মির্জাদপুর গ্রামে৷

কৃষক পরিবারের ছেলে পারভেজ আলম এস আই পদে উত্তীর্ণ হওয়ায় খুশির হাওয়া চাকুলিয়া ব্লকের মির্জাদপুর গ্রামে৷

  • Share this:

#উত্তর দিনাজপুর: চাকুলিয়া কৃষক পরিবারের ছেলে এখন রাজ্য পুলিশের অফিসার। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই পুরো গ্রাম জুড়ে খুশির হওয়া। উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়া থানার নিজামপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মির্জাদপুর গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ আলম। পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব নিয়ে গরীব মানুষের হয়ে কাজ করতে চান পারভেজ।

উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়া ব্লকের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল।বহু মানুষ কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেন। রাজ্যের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে এই চাকুলিয়া ব্লক।এই চাকুলিয়া ব্লকের  মির্জাদপুরে বাসিন্দা মহম্মদ লোকমানের পরিবার কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল।  তার  ছেলে পারভেজ আলম পড়াশুনার পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। পারভেজ কৃষিকাজ করেও সায়েন্সে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। ছোটবেলা থেকে তিনি দেখছেন গ্রামের মানুষ অসুবিধায় পড়লে থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশের গ্রামের অশিক্ষিত মানুষ গেলে তাঁদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। এই ঘটনা তাকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দিত। মাস্টার ডিগ্রি করে অন্য উচ্চ শিক্ষালাভের পর পড়াশুনা চালিয়ে যাবার জন্য গৃহ শিক্ষকতা শুরু করেন পারভেজ। পারভেজের বাবা মহম্মদ লোকমানের নয় ছেলে এক মেয়ে। বাবা ষাটোর্ধ্ব বয়েস হওয়া সত্বেও কৃষি কাজ করেই এই বিশাল সংসার প্রতিপালন করে আসছেন। বাবা মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও বাবাকে কৃষিকাজে পারভেজ সহায়তায় করত। আইনের বিচার পেতে গ্রামের মানুষের অসহতা কথা ভেবে পারভেজ অন্য পেশায় না গিয়ে একজন পুলিশ অফিসার হতে বাড়িতে প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।

২০১৯ সালে পুলিশের এস আই পদের পরীক্ষায় তিনি অংশ নেন। ২০২১ সালের ১৮ জুন পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। সেই পরীক্ষায় পারভেজ উত্তীর্ণ হন। কৃষক পরিবারের ছেলে এখন পুলিশ অফিসার।এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে রাত সম্বর্ধনার হিড়িক পড়েছে। তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও অভিনন্দন জানাতে বাড়িতে ছুটে আসছেন। ছেলেকে মানুষ এভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তা দেখে কার্যত আশ্চর্যই হচ্ছেন পারভেজের বাবা মহম্মদ লোকমান এবং বিবি আইকা। বাবা লোকমান জানান, পারভেজ পড়াশুনা করুক এটা তারা আগাগোড়াই চাইতেন। তাদের আপত্তি সত্ত্বেও সে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে পড়ত। আজ পারভেজ পুলিশ অফিসার হবার সুযোগ সারা গ্রামের মানুষের সঙ্গে তারাও খুশি।ছেলের সাফল্যে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না মা বিবি আইকার। তিনি জানান, ছেলে আজ সমাজের জন্য কাজ করবে। এটা ভেবে তার ভাল লাগছে।

স্কুল শিক্ষক নাজিমুল হক জানান, শিক্ষা মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই এলাকার মানুষ শিক্ষাকে সেভাবে গুরুত্ব দেন না৷ পারভেজ এলাকার মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছে শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষের মত মানুষ হয়েছেন। সন্তানদের কাজে যুক্ত না করে তাদের পড়াশুনা উপর গুরুত্ব দেন। এলাকার সমস্ত অবিভাবকদের এই আবেদন করেছেন।অবিভাবকরা শিক্ষাকে গুরুত্ব দিলে পারভেজের মত আরও পুলিশ অফিসার,শিক্ষক তৈরী হবে। তবেই এলাকার উন্নয়ন ঘটবে।

Uttam Paul

Published by:Debalina Datta
First published: