ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীণ, চিকিৎসা না করিয়ে, শিকল বেঁধে রেখেছ পরিবার

Family has chained their mentally challenged son

বাপি ছাড়া পেলেই পাড়ায় এবাড়ি ও বাড়িতে ঢুকে গিয়ে বাড়ির জিনিস ভাঙচুর করে দেয় বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী৷

  • Share this:

#রায়গঞ্জ:  মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিকল দিয়ে বেধে রেখেছে পরিবার। দীর্ঘদিন এই অবস্থায় থাকলেও সরকারিভাবে আজ পর্যন্ত কেউ চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার দাবি তিনি ঘটিনাটি জানেন। তার যাতে সুচিকিৎসা হয় সেব্যাপারে তিনি পদক্ষেপ নেবেন। রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শীষগ্রামের বাসিন্দা খোকন রায়ের ছেলে বাপি রায়। বয়স ২৪ এই বাপি বছর দশেক আগে আচমকাই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। খোকনবাবু পেশায় দিনমজুর। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও ছেলেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসা শুরু করেন। ভিটেমাটি বিক্রি করে ছেলেকে রায়গঞ্জ থেকে শিলিগুড়িতে চিকিৎসা করানোর পরও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে না পেরে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে ছেড়ে রাখলেই বাড়ির আসবাব পত্র ভেঙে ফেলে। এছাড়াও উলঙ্গ অবস্থায় এবাড়ি ওবাড়ি ঘুরে বেড়ায়। ফলে ছেলের কৃতকর্মের জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রতিবেশীর কাছে সমসার মধ্যে পড়তে হয়। ছেলের কৃতকর্মের জন্য প্রতিবেশীদের কাছে কুকথা শুনতে না হয়  সেই কারনেই বাপিকে পায়ে শিকল দিয়ে বেধে রেখেন। ছেলে এই দুর্দশা দেখেও বাবা মা র চোখের জল ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেন না। ছেলের সুচিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন নিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসার জন্য আবেদন করেছেন বাপির বাবা খোকন রায়। বাপির এই অবস্থার জন্য প্রতিবেশীরা হতাশ। এক সময় বাপি আর দশটা ছেলের মত পাড়ায় বড় হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল।নবম শ্রেনীতে পড়ার সময় সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়। অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করলে সে সুস্থ হয়। কিন্তু এরপর বাপি আর সুস্থ হল না।বাপির চিকিৎসা করতা গিয়ে পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এখনও পর্যন্ত বাপি ভাল হয়নি৷  বাপি ছাড়া পেলেই পাড়ায় এবাড়ি ও বাড়িতে ঢুকে গিয়ে বাড়ির জিনিস ভাঙচুর করে দেয় বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী গহন রায়।  বাপির অত্যাচারে প্রতিবেশীরা বাপির বাবা-মাকে খারাপ কথা বলে।সেই কারনেই বাপিকে দীর্ঘ নয় বছর যাবদ বেঁধে রেখেছে।মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের চিকিৎসার জন্য তিনি প্রশাসনের কর্তাদের কাছে আবেদন জানানোর আশ্বাস বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা লক্ষ্মী বর্মন।

Uttam Paul

Published by:Debalina Datta
First published: