Home /News /north-bengal /
Dhupguri: দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান, ১৩ বছর পর চার লেনের মহাসড়ক তৈরির জমিজট কাটল ধূপগুড়িতে

Dhupguri: দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান, ১৩ বছর পর চার লেনের মহাসড়ক তৈরির জমিজট কাটল ধূপগুড়িতে

দেশের অন্যান্য জায়গায় ফোর লেন মহাসড়ক তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেও ধূপগুড়িতে এসে জমি জরিপের কাজ আটকে যায়

  • Share this:

    #ধূপগুড়ি: দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান! অবশেষে ১৩ বছর পর চার লেন-এর  মহাসড়ক তৈরির জমিজট কাটল ধূপগুড়িতে। রাজ্যের সব জায়গায় জমি জরিপের কাজ সম্পন্ন হলেও ধূপগুড়িতে এসে নানা জটিলতায় থমকে যায় ফোর লেন মহাসড়ক তৈরির কাজ।

    উল্লেখ্য ১৩ বছর আগে ২০০৮ সালে প্রথম ধূপগুড়ি শহরকে বাইপাস করে মহাসড়ক করার প্রক্রিয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন। জমির মাপজোক করতে গিয়েই বারংবার বাধার মুখে পড়েন প্রশাসনের আধিকারিক থেকে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। জমির মালিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ , রাস্তা অবরোধ থেকে শুরু করে আধিকারিকদের ঝাঁটা নিয়ে তাড়া পর্যন্ত করা হয়। দেশের অন্যান্য জায়গায় ফোর লেন মহাসড়ক তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেও ধূপগুড়িতে এসে জমি জরিপের কাজ আটকে যায়। শেষপর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব দেন তৎকালীন রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেবকে। সেই দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে জমির মালিক এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের মধ্যে টানাপোড়েনের পর অবশেষে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যায়ে জমি জরিপের কাজ সম্পন্ন হল  সুষ্ঠভাবে।

    ১৩ বছর ধরে চলছিল জমি জরিপের মহাকর্মযজ্ঞ। শেষ ধাপে গত শনিবার থেকে শুরু হয়ে এদিন পর্যন্ত শেষ পর্যায়ের মোট আড়াই কিলোমিটার জরিপ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাইপাস নির্মাণে আর বাধা রইল না। টানা তিনদিনে বারোঘড়িয়া মৌজার দেড় কিলোমিটারের পাশাপাশি মধ্য বোড়াগাড়ির দুশো মিটার এবং পুর এলাকায় রেল লাইন পাড় করে উত্তর বোড়াগাড়ি হয়ে খলাইগ্রাম মৌজায় জাতীয় সড়কে দুই ধাপে পাঁচশো ও তিনশো মিটারের চূড়ান্ত জরিপ এদিন শেষ হয় বিনা বাধায়। সব মিলে ধূপগুড়ির দক্ষিণ প্রান্তে ঝুমুর ব্রিজ পেড়িয়ে পূর্ব আলতাগ্রাম মৌজার মোট ১৩ জন মালিকের ৫.০৫ একর জমির ওপর দিয়ে শুরু হবে বাইপাসের পথচলা।

    ভেমটিয়া মৌজায় ৩৭ জন জমি মালিকের ৯.৪৮ একর জমির ওপর দিয়ে গিয়ে পথ মিশবে বারোঘড়িয়া মৌজায়। সেখানে ২৫৯ জনের মোট ৫৮ একর জমির ওপর দিয়ে গিয়ে পথ মিশবে মধ্য বোরাগাড়ি মৌজায়। সেখানে ১৯৭ জন মালিকের ৩৭.৬০ একর জমির ওপর দিয়ে যাবে বাইপাস। এরপর উড়ালপুল হয়ে পুর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে উত্তর বোরাগাড়ি মৌজার ৭৯ জন মালিকের ৪২.৬৫ একর জমির ওপর দিয়ে ধূপগুড়ি গার্লস কলেজের সামনে দিয়ে এগিয়ে খলাইগ্রাম মৌজায় ১২ জন জমি মালিকের ২.১১ একর জমির ওপর দিয়ে গিয়ে জংলিবাড়ি এলাকায় ফের জাতীয় সড়কে মিশবে বাইপাস মহাসড়ক। সব মিলে ছয়টি মৌজার ওপর দিয়ে ৮ কিলোমিটার ২১৫ মিটার বাইপাস মহাসড়ক নির্মাণে ৫৯৭ জন জমি মালিকের মোট ১৫৪-৮৯ একর জমি প্রয়োজন হচ্ছে।

    উল্লেখ্য ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে এই বাইপাস নিয়ে ধূপগুড়ি ডাকবাংলো ভবনে জমি মালিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন তৎকালীন জেলা পরিষদ সভাধিপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বনমালি রায়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন ঘিরে তখন জমি সমস্যা একেবারে তরতাজা ইস্যু। ফলে প্রথম বৈঠকের পরেই শুরু হয় জোড়াল বিরোধিতা। এরপর লাগাতার ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৎকালীন বাম নেতারা আর নতুন করে জমি অধিগ্রহণে আগ্রহ দেখাননি। এদিকে ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাইপাসের জন্যে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত এলাকার বাসিন্দা ও জমি মালিকেরা মিলে  'সারাবাংলা কৃষিজমি বাস্তু ও জীবন জীবিকা রক্ষা কমিটি' গড়ে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে দেয়। ২০১১ সালে রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় বদলের পরেও ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় স্তিমিতই থাকে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি। এদিকে ২০১৪ সালে কেন্দ্রের ক্ষমতায় বদলের পর ফোর-লেন নির্মাণে নতুন করে গতি আনে কেন্দ্র সরকার। জমি জট কাটিয়ে দ্রুত জমি হস্তান্তরে চাপ তৈরি হয় রাজ্যের ওপর। মাঝে ২০১৬ বিধানসভা ভোটের জন্যে কিছুদিন স্তিমিত থাকার পর ফের ২০১৭ সালের গোড়ায়গৌতম দেবের নেতৃত্বে শুরু হয় জমি মালিক ও প্রশাসনের আলোচনা। মাঝে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০১৯ এর লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সাময়িক বিরতি থাকলেও মোটের ওপর সচল ছিল প্রশাসনিক কাজ।

    Rocky Choudhury
    Published by:Rukmini Mazumder
    First published:

    পরবর্তী খবর