মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করার পরেও গঙ্গাভাঙন রোধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ মালদহে

স্থানীয়দের অভিযোগ, যে ভাবে কাজ হচ্ছে তাতে নদী ভাঙন থামানো সম্ভব নয়। ফলে বর্ষা এলেই ফের অস্থায়ী কাজ নদীগর্ভে চলে যাবে। একইসঙ্গে জলে চলে যাবে সরকারের কোটি কোটি টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যে ভাবে কাজ হচ্ছে তাতে নদী ভাঙন থামানো সম্ভব নয়। ফলে বর্ষা এলেই ফের অস্থায়ী কাজ নদীগর্ভে চলে যাবে। একইসঙ্গে জলে চলে যাবে সরকারের কোটি কোটি টাকা।

  • Share this:

Sebak DebSarma

#মালদহ: র্বাঁধ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও একের পর এক বাঁধ ভেঙে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী রাজ্যের সর্বত্র বাঁধ মেরামত এবং সংস্কারের কাজের গুণমান নিয়ে সেচ দফতরকে সতর্কও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেও মালদহে গঙ্গা নদী ভাঙন রোধে নিম্নমানের কাজের গুরুতর অভিযোগ উঠল। বালির বস্তা ফেলে গঙ্গায় অস্থায়ী ভাঙন রোধের কাজ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ভুতনি চরের মানুষ। সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও বাঁধ টিকবে না বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

মালদহের মানিকচক ব্লকের ভুতনি চড়ে বসবাস করেন লক্ষাধিক মানুষ। এখানকার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। গত কয়েক দশকে গঙ্গার ভাঙ্গনে একরের পর একর কৃষি জমি, এমনকি প্রচুর মানুষের ভিটেমাটি গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। গত বছরেও ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে ভুতনির হীরানন্দপুর গ্রাম। এ বছর ভুতনির সুখসেনা ঘাট এলাকায় সাড়ে পাঁচশো মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন রোধের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা। তবে কাজ শুরু হওয়ার পরেই নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকাজুড়ে বালির বস্তা ফেলে যে ভাবে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের কাজ চলছে বর্ষার মরশুমে তা টিকবে না। নিম্নমানের কাজের সঙ্গে ঠিকাদারি সংস্থা এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে ভাবে কাজ হচ্ছে তাতে নদী ভাঙন থামানো সম্ভব নয়। ফলে বর্ষা এলেই ফের অস্থায়ী কাজ নদীগর্ভে চলে যাবে। একইসঙ্গে জলে চলে যাবে সরকারের কোটি কোটি টাকা। স্থানীয়দের আরও দাবি, গঙ্গা নদীর ভাঙন ঠেকানোর জন্য বোল্ডার পিচিং করে স্থায়ী কাজ হওয়া প্রয়োজন।

ভূতনির হীরানন্দপুরে যেভাবে শুধু বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের কাজ হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় জেলা পরিষদ ডলিরানী মন্ডল। অবিলম্বে অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ভূতনিতে কিভাবে ভাঙন রোধের কাজ করতে বলা হয়েছে সেই সংক্রান্ত "ওয়ার্ক সিডিউল" জানতে পারেননি তাঁরা। যদিও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ঠিকাদারি সংস্থার প্রতিনিধি। তাঁর পাল্টা দাবি, সরকারি যে নির্দেশিকা রয়েছে সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ভূতনিতে কাজ নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। তবে, করোনা পরিস্থিতিতে ভাঙন রোধের কাজে অনেকটাই ব্যাঘাত হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখনই বর্ষার আগে স্থায়ী কাজ করা সম্ভব নয়। তবে নিম্নমানের কাজ প্রমাণিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Published by:Simli Raha
First published: