বর্ষা পড়তে না পড়তেই বাড়ছে নৌকার চাহিদা, রায়গঞ্জে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কাঠ মিস্ত্রিরা

ছোট নৌকার দাম সাত হাজার থেকে শুরু হয়। বড় নৌকা পঁচিশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আষাঢ়, শ্রাবণ এই দুই মাস নৌকার ব্যপক চাহিদা থাকায় কাঠ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নৌকা নির্মিতারা দু’টো পয়সার মুখ দেখেন।

ছোট নৌকার দাম সাত হাজার থেকে শুরু হয়। বড় নৌকা পঁচিশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আষাঢ়, শ্রাবণ এই দুই মাস নৌকার ব্যপক চাহিদা থাকায় কাঠ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নৌকা নির্মিতারা দু’টো পয়সার মুখ দেখেন।

  • Share this:

Uttam Paul

#রায়গঞ্জ: নদীর জল বাড়ার আগেই নৌকা তৈরীতে ব্যস্ত রায়গঞ্জের কাঠ মিস্ত্রিরা। নৌকা নির্মাতাদের দাবি, এ বারে নৌকার চাহিদা বেশী থাকায় আগে থেকে নৌকা তৈরী করছেন তাঁরা। বিক্রেতাদের আশা নৌকা বানিয়ে এ বারে তাঁরা কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন।

বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার চাহিদা বাড়ে।  গত দুই বছর যাবদ করোনা সংক্রামণের কারণে নিয়ন্ত্রনে লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে খুব বেশী কাজ করাচ্ছেন না। গতবছর প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় নৌকার চাহিদা অনেক গুণ বেড়ে গিয়েছিল। রায়গঞ্জের তৈরী নৌকা রায়গঞ্জ সংলগ্ন বিহারে যায়। গতবছর চাহিদা অনুযায়ী নৌকা সরবরাহ করতে পারেননি নৌকা বিক্রেতারা। লকডাউনে সাধারণ মানুষ কাঠের কাজ বাড়িতে না করলে নৌকার কাজ প্রচুর থাকায় কাঠ মিস্ত্রিদের সমস্যা অনেকটাই মিটে গিয়েছিল। গতবারের চাহিদাকে মাথায় রেখে এ বারেও আগে থেকেই নৌকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নৌকা তৈরির সঙ্গে সঙ্গে নৌকা বিক্রিও হচ্ছে।

তাই রায়গঞ্জ রাসবিহারী মার্কেটের কাঠের দোকানে নৌকা তৈরিতে এখন চরম ব্যস্থতা। উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢুকলেও খুব বেশী বৃষ্টি শুরু হয়নি। বৃষ্টি বাড়লে নদী, নালা, খাল, বিল জলে ভরে যায়। মাঝিরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়েন। এ ছাড়াও নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত এই নৌকা দিয়েই করতে হয়। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে নৌকা তৈরিতে সমস্যা দেখা দেয়। নৌকার চাহিদা থাকলেও নৌকা চাহিদা অনুযায়ী নৌকা তৈরি করা সম্ভব হয় না। তাই এ বারে লকডাউনের কারণে বসে থাকা  কাঠ মিস্ত্রিদের নৌকার কাজে লাগিয়েছেন কাঠের ব্যাবসায়ীরা।

ছোট নৌকার দাম সাত হাজার থেকে শুরু হয়। বড় নৌকা পঁচিশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আষাঢ়,  শ্রাবণ এই দুই মাস নৌকার ব্যপক চাহিদা থাকায় কাঠ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নৌকা নির্মিতারা দু’টো পয়সার মুখ দেখেন। নৌকা নির্মাতা সুকুমার সাহা জানান, নৌকার চাহিদা এখনও তেমন না বাড়লেও তাঁদের প্রতিদিন কাজ হচ্ছে। লকডাউনের কারণে তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে কাঠের কাজ না হলেও নৌকা বানানোর কাজ শুরু হওয়ায় তাঁরা খেয়ে পড়ে বেঁচে আছেন।

নৌকা নির্মাতা অমল সূত্রধর জানান, প্রবল বৃষ্টি হলে নৌকার চাহিদা বাড়ে। কেউ মাছ ধরার জন্য কেউ আবার পাড়াপাড়ের জন্য নৌকা কেনেন। গতবারের চাহিদাকে মাথায় রেখে এ বারে আগেভাগে নৌকা তৈরি করা শুরু করেছেন। নৌকা তৈরি হতেই সে গুলো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কাঠ ব্যবসায়ী সম্বল কুন্ডু জানান, নৌকার চাহিদা এখনও বাড়েনি। ছোট ছোট নৌকা বিক্রি হচ্ছে। নৌকার দাম গতবছরের মতই রয়েছে বলে তিনি জানান। বর্ষা শুরু হলে নৌকা তৈরিতে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই আগে থেকে কিছু নৌকা তৈরি করে রাখছেন।

Published by:Simli Raha
First published: