প্রতিবেশীর চাকরি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির 'ফাঁদে' পা দিয়ে নিখোঁজ স্বামী-স্ত্রী, মিলল তাদের দেহ

ধৃত কৃষ্ণবাবুর বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, এবং তথ্য প্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের হয়েছে।

ধৃত কৃষ্ণবাবুর বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, এবং তথ্য প্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের হয়েছে।

  • Share this:

#ইটাহার: অবশেষে নিখোঁজ দম্পত্তির দেহ মিলল মালদা জেলার গাজলে।দম্পত্তিকে খুনের ঘটনায় ধৃত কৃষ্ণ গোপাল অধিকারিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের পুলিশি হেফাজতে নিল ইটাহার থানার পুলিশ।ধৃত কৃষ্ণবাবুর বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, এবং তথ্য প্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের হয়েছে। ধৃতকে শুক্রবার রায়গঞ্জ আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে সাতদিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইটাহারের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মুশারফ হোসেন এবং মৃতের পরিবারের অভিযোগ,  দম্পত্তিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। কৃষ্ণবাবু একা এই ঘটনায় যুক্ত নয়। বাকিদের খুঁজে বের করার জন্য বিধায়ক পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত কৃষ্ণবাবু বিজেপি কর্মী বলে বিধায়ক দাবি করেছেন।কৃষ্ণবাবু বিজেপি দলের কেউ নয় বলে বিজেপি জেলা সভাপতি দাবি করেছেন।

জানা গিয়েছে, ইটাহার থানার মারনাই অঞ্চলের বাঙ্গার গ্রামের বাসিন্দা রামরঞ্জন সরকারের ছেলে গৌতম সরকার ও তার স্ত্রী কে নার্সিং চাকরি করিয়ে দিবে বলে প্রতিবেশী কৃষ্ণ গোপাল অধিকারী বছরখানেক আগে মোটা অঙ্কের  টাকা নেয় বলে অভিযোগ। গত ৪ ঠা মে ওই ব্যক্তি রামরঞ্জন সরকারের বাড়িতে এসে তাদের শিলিগুড়িতে যাবার প্রস্তাব দেন। তার কথমত গৌতম সরকার  এবং তার স্ত্রী কাঞ্চনা সরকার  কৃষ্ণ গোপালবাবুর সঙ্গে শিলিগুড়িতে যান। গত ৯ মে কৃষ্ণ গোপালবাবু শিলিগুড়ি থেকে ফিরে এলেও গৌতম সরকার তার স্ত্রী কাঞ্চনা সরকার বাড়িতে ফেরেননি। গৌতমবাবুর পরিবারের লোকেরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন সুইচ অফ পান৷ ফলে যোগাযোগ করতে পারেননি। আতঙ্কিত গৌতমবাবুর পরিবার কৃষ্ণ গোপালবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে  খুব শীঘ্রই তারা বাড়িতে ফিরে আসবে বলে আশ্বস্তও করেছিলেন। কৃষ্ণবাবু আশ্বাসের পর তিনদিন কেটে যাবার পরও গৌতম ও তার স্ত্রীর বাড়িতে না ফেরায়  গৌতমবাবুর পরিবারের লোকেরা কৃষ্ণবাবুর বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। বাড়িতে কৃষ্ণবাবু না থাকায় সন্দেহ আরও দানা বাঁধে। গৌতম ও তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেবার দাবিতে শুক্রবার  কৃষ্ণবাবুর বাড়ির সামনে  বিক্ষোভ দেখান। ইটাহার থানার পুলিশ  অভিযুক্তকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ তুলে নেন তারা। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয় মানুষ ইটাহারে  ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে।পুলিশের আশ্বাসেও অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি। ইটাহারের বিধায়ক মুশারফ হোসেন অভিযুক্ত দ্রুত গ্রেফতার এবং ধৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার হয়।।

গতকাল, বৃহস্পতিবার, রাতে মালদা জেলার গাজল থানার পাশে কৃষ্ণবাবুর এক আত্মীয়ের বাড়িতে দম্পত্তির দেহ উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ইটাহার থানার পুলিশ রাতেই দেহ দুটি উদ্ধার করে রায়গঞ্জ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে। অভিযুক্ত কৃষ্ণবাবুকেও গ্রেফতার করে ইটাহার থানার পুলিশ। ধৃত কৃষ্ণবাবুকে শুক্রবার রায়গঞ্জ আদালতে পেশ করা হয়। জিজ্ঞাসাদের জন্য সাতদিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে রায়গঞ্জ আদালত। ধৃতের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ এবং তথ্য প্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের হয়েছে।এই ঘটনায় ইটাহারের বিধায়ক মুশারফ হোসেন মর্মাহত। বিধায়ক জানান, খবর পাবার পরই তিনি গাজোলে যান।অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনা কৃষ্ণবাবু একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত কৃষ্ণবাবু বিজেপির কর্মী বলে তিনি দাবি করেছেন। এই ঘটনায় যারা যারা যুক্ত প্রত্যেককে খুজে বের করার জন্য পুলিশকে তিনি নির্দেশ দিয়েছে।

একই অভিযোগ করেছেন, কাঞ্চনা সরকারের দাদা।তিনি জানান,দুইজনকেই নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। মৃত কাঞ্চনা সরকারের দাদা গৌরাঙ্গ মন্ডলের অভিযোগ, কৃষ্ণবাবুর একার পক্ষে এইভাবে খুন করতে পারেন না। অভিযুক্তদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তিনি। কৃষ্ণবাবু তাদের দলের কেউ নয় বলে দাবি করেছেন বিজেপি জেলা সভাপতি বাসুদেব সরকার।

Published by:Pooja Basu
First published: