• Home
  • »
  • News
  • »
  • north-bengal
  • »
  • সৌন্দর্যায়ন হলেও পাহাড়ে জল-বিদ্যুৎ-রাস্তার সমস্যা থেকেই গিয়েছে

সৌন্দর্যায়ন হলেও পাহাড়ে জল-বিদ্যুৎ-রাস্তার সমস্যা থেকেই গিয়েছে

Photo: Siddhartha Sarkar

Photo: Siddhartha Sarkar

  • Share this:

    #দার্জিলিং: প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ভোট আসে আর যায় ৷ সরকার বদলও হয়তো হয় ৷ কিন্তু পাহাড়ের মানুষের সমস্যা মেটে না ৷ পর্যটকরা পাহাড়ে এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে ‘ওয়াহ ওয়াহ’ করে চলে যান ৷ কিন্তু এখানকার স্থানীয় মানুষ কেমন আছেন ? সেটা কিন্তু কেউ খোঁজ নিয়েও দেখেন না ৷ দার্জিলিংয়ে গত পাঁচ বছরের ট্রেন্ড হল প্রচুর জিনিসের ‘শিলান্যাস’ করা ৷ কিন্তু ওখানেই সমস্ত কাজ শেষ নেতাদের ৷ পাহাড়ের মানুষও যেন মুখ বুঝে নিজেদের সমস্যা মেনে নিয়েছেন ৷ বরং ভোট এলে নেতাদের প্রতিশ্রুতি শুনে উন্নয়নের আশা রাখেন ৷ আবার অনেকের সেই আস্থাটুকুও নেই বলে ভোট দেওয়াই ছেড়ে দিয়েছেন ৷

    এই শৈলশহরের অধিকাংশ জায়গায় ‘কাকে ভোট দেবেন’-এর পাশাপাশি ‘১৮ তারিখ ভোট দিতে আসুন’ এই পোস্টারই বেশি ৷

    পাহাড়ের প্রধান সমস্যাই হল জল ৷ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত জলের সমস্যা সবচেয়ে বেশি থাকে ৷ বছরের অধিকাংশ সময় এই অঞ্চলে শীত বলে মানুষের জীবনে জলের প্রয়োজন নেই, এমনটা ভাবাটাও তো উচিৎ নয় ৷ কিন্তু সরকার যেন সেসব ভুলে গিয়েছে ৷ সপ্তাহে চার দিন অন্তর অন্তর প্রত্যেক পরিবার পিছু যে জল সরবরাহ করা হয় ৷ তার পরিমাণ অত্যন্ত কম ৷ আবার কখনও বা সাতদিন অন্তরও কোনও কোনও অঞ্চলের বাসিন্দারা জল পান মিউনিসিপ্যালিটির কাছ থেকে ৷ এক একটা পরিবারে সদস্য সংখ্যাও খুব কম নয় ৷ তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই এত কম পরিমাণ জলে জীবন কাটানো খুব সহজ কাজ নয় বাসিন্দাদের পক্ষে ৷

    আরও পড়ুন

    দার্জিলিঙে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী, পৌঁছলেন ভোটকর্মীরাও

    কিছুদিন আগে দার্জিলিংয়ের চকবাজারে দলীয় প্রার্থী অমর সিং রাইয়ের হয়ে ভোট প্রচারে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, পাহাড়ে পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে পাইপলাইনের কাজ হচ্ছে। চা বাগানের সমস্যা সমাধানে রিভিউ কমিটি গড়া হয়েছে। তার সমীক্ষা রিপোর্ট পেলে ভোটের পর ব্যবস্থা নেবে রাজ্য সরকার। পাহাড়ের ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার কথা মাথায় রেখে দার্জিলিং–এই প্রেসিডেন্সির নতুন শাখা খোলা হচ্ছে। পাহাড়ের অনেক বাসিন্দার প্রচুর টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটের আটকে থাকা রেজিস্ট্রেশন পর্ব যত দ্রুত সম্ভব যাতে মেটানো যায় সেই সব চেষ্টাই করবে তৃণমূল সরকার।

    জলের পাশাপাশি বিদ্যুতও একটা বড় সমস্যা পাহাড়ের ৷ একটু বৃষ্টি পড়লেই বিদ্যুৎ চলে যায় এই অঞ্চলে ৷ পর্যটকরাও এই সমস্যার সম্মুখীন হন ৷ কারণ হোটেলগুলিতে হয়তো জেনারেটর বা ইনভার্টার রয়েছে ৷ কিন্তু তিন বা চারতারা রিসর্টগুলি ছাড়া প্রত্যেক হোটেলেও ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ-জল থাকার কোনও গ্যারান্টি নেই ৷

    স্থানীয় মানুষের মতোই সেটা পর্যটকদেরও মেনে নিতে হয় ৷ এমনিতেই পাহাড়ে রাত সাড়ে আটটার পরেই সব জায়গা শুনশান হতে শুরু করে ৷ ন’টা-সাড়ে ন’টার মধ্যে সব রেস্তোরাঁও বন্ধ ৷ তাই আপনি এখানে এসে দেরি করে রাতে ডিনার করবেন বা ‘এখন তো সবে ন’টা’..... এইসব ভাবলে কিন্তু রাতে উপোশ করেই থাকতে হবে আপনাকে ৷ আবার হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে সব কাজ আরও আগেই মিটিয়ে নিন ৷ এমনও হতে পারে আপনার হোটেলের ঘরের একটা ফেজের বিদ্যুৎ চলে গেল ৷ তাতে বাথরুমের লাইট সারারাত না থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই ৷

    First published: