#কলকাতা: শীতলকুচির ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার নির্বাচন কমিশনের সমালোচনায় সরব হলেন কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী। শীতলকুচির ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "আমি চাই, নির্বাচন কমিশন নির্দ্বিধায় এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে যাদের কারণে এই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করুক"। একইসঙ্গে তিনি বলেন, "কাল শীতলকুচিতে কমিশন যেভাবে ব্যর্থ হয়েছে তাতে নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা-ভরসার জায়গা হারিয়ে ফেলেছে বাংলার মানুষ৷"
রবিবার কলকাতায় চৌরঙ্গী বিধানসভার সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী সন্তোষ পাঠকের সমর্থনে প্রচারে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে অধীর জানান, সঠিক তদন্তের ব্যবস্থা না করলে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না৷ তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশন যদি যারা গুলি চালিয়েছে তাদের ভাষায় কথা বলে তাহলে নির্বাচন কমিশন আর নির্বাচন কমিশন থাকবে না৷ বাংলার মানুষের কমিশনের প্রতি আস্থা ভেঙে গেছে ৷" কোচবিহারে গুলি চালনা নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এটা ইসি নয়, 'মোদির কোড অব কন্ডাক্ট' ৷ এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধীর অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেটা মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মতামত ৷ কেন তিনি এমন কথা বলেছেন তা তিনি জানেন না।
আগামী ৭২ ঘণ্টা শীতলকুচিতে কোনও রাজনৈতিক দল ঢুকতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন ৷ এর প্রতিক্রিয়ায় অধীর বলেন, "আইন-শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ দায় এখন নির্বাচন কমিশনের ৷ তারা যদি বলে এখন তা মানতে হবে ৷" এরপরই কটাক্ষ করে বলেন, "আমরা তো আর বন্দুক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফৌজের বিরুদ্ধে লড়তে পারব না ৷ আমরা গণতান্ত্রিক দল করি৷ স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের তাদের কথা মতোই চলতে হবে ৷" তবে এরই পাশাপাশি এদিন নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করে অধীর বলেন, "কমিশন ব্যর্থ ৷ তাদের আমরা মেনে চললেও কমিশনের ব্যর্থতার ঘোর নিন্দা করছি ৷ নির্বাচন কমিশন তাদের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না ৷ নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করুক এবং দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করুক৷" এদিন সন্তোষ পাঠকের সমর্থনে সংযুক্ত মোর্চার মিছিলে অধীর চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিমান বসু ।
প্রসঙ্গত, চতুর্থ দফা ভোটের দিন শীতলকুচির অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির পর রবিবার সেখানে রওনা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু এদিনই নির্বাচন কমিশন (Election Commission) জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা কোচবিহারে কোনও রাজনৈতিক নেতা যেতে পারবেন না। সেই সঙ্গে পঞ্চম দফা ভোটের আগেও নয়া বিধি লাগু করল কমিশন। এবার ভোটের ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন আগে প্রচার বন্ধ রাখতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে। হিংসাবিহীন ভোট করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
নিউজ১৮ বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে দৈনিক টাটকা খবর, খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে ভরসাযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন নিউজ১৮ বাংলার ওয়েবসাইটে।
Tags: Election Commission