ভোটের মুখে 'খেলা' শুরু! মালদহ জেলা পরিষদ দখলের দাবি বিজেপির, পাল্টা সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি তৃণমূলের

ভোটের মুখে 'খেলা' শুরু! মালদহ জেলা পরিষদ দখলের দাবি বিজেপির, পাল্টা সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি তৃণমূলের

মালদহ জেলা পরিষদ এখন কার? সোমবার দলবদলের পর এখন এই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মালদহে। কারণ, বিজেপি এবং তৃণমূল দু'পক্ষেরই দাবি মালদহ জেলা পরিষদ তাদেরই দখলে রয়েছে।

মালদহ জেলা পরিষদ এখন কার? সোমবার দলবদলের পর এখন এই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মালদহে। কারণ, বিজেপি এবং তৃণমূল দু'পক্ষেরই দাবি মালদহ জেলা পরিষদ তাদেরই দখলে রয়েছে।

  • Share this:

#মালদহ: মালদহ জেলা পরিষদ এখন কার? সোমবার দলবদলের পর এখন এই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মালদহে। কারণ, বিজেপি এবং তৃণমূল দু'পক্ষেরই দাবি মালদহ জেলা পরিষদ তাদেরই দখলে রয়েছে। যাবতীয় জল্পনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে কলকাতায় মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডলের নেতৃত্বে একাধিক তৃণমূল জেলা পরিষদ সদস্য বিজেপিতে যোগদানের কারণে। মালদহ জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা ৩৭। জেলা পরিষদ দখলে রাখতে হলে যে কোনও দলেরই প্রয়োজন ন্যূনতম ১৯ জন সদস্যের সমর্থনের।

সোমবার হেস্টিংসে বিজেপি দফতরে যোগদানের পর শুভেন্দু অধিকারীর দাবি মালদহ জেলা পরিষদ এখন তৃণমূল থেকে বিজেপির দখলে। শুধু তাই নয়, মালদহ জেলা পরিষদের ২৩ জন সদস্য বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু। যদিও বিকেলে যখন কলকাতায় যোগদান পর্ব চলছে, ঠিক তখনই মালদহ জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে পাল্টা 'ড্যামেজ কন্ট্রোলে' বসে তৃণমূল নেতৃত্ব। ওই বৈঠকের পর তৃণমূল জেলা সভাপতি মৌসম বেনজির নূরের দাবি, মালদহ জেলা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছেন। প্রয়োজনে গরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতেও তৃণমূল প্রস্তুত বলে সাফ জানিয়ে দেন মৌসম।

এ দিন বিকেলে মালদহে তৃণমূলের কার্যালয়ে ১৫ জন জেলা পরিষদ সদস্য সশরীরে এসে বৈঠকে যোগ দেন। আরও কয়েকজন অসুস্থ এবং পারিবারিক কাজে বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি বলে দাবি করে জেলা তৃণমূল। সব মিলিয়ে তৃণমূলের পক্ষে জেলা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্পষ্ট বলেও দাবি করা হয়। মৌসম নূরের দাবি, মালদহ জেলা পরিষদ ভাঙানোর ক্ষেত্রে প্রলোভন এবং আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তৃণমূল থেকে সুবিধা ভোগ করে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অনেকে বিজেপিতে গিয়েছেন। তবে এতে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না।

উল্লেখ্য, আজ মালদহ জেলা পরিষদের 'ম্যাজিক ফিগার' কার দখলে তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। কারণ, সভাধিপতি সোশ্যাল মাধ্যমে তথ্য দিয়ে জানান ১৪ জন জেলা পরিষদ সদস্য নির্দল স্বীকৃতি দাবি করে মালদহের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে আগাম চিঠি জমা করেছেন। জেলা সভাপতি যে ১৪ জনের নামের তালিকা সোশ্যাল মাধ্যমে দেন, তাদের মধ্যে আবার দু'জন এ দিন মালদহে তৃণমূলের বৈঠকে সশরীরে হাজির ছিলেন। বন্দনা রানী ঘোষ এবং দীনেশ টুডু নামে ওই দুই জেলা পরিষদ সদস্য সংবাদমাধ্যমের সামনের দাবি করেন, তাঁদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য নানারকম প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তাঁরা তৃণমূলেই রয়েছেন।

নির্দল স্বীকৃতির আবেদন পত্রে সই থাকা নিয়ে তাঁদের দাবি, সই জাল করে ওই আবেদন করা হয়েছে। ওই সই তাঁদের নয়। জেলা পরিষদ সদস্য দীনেশ টুডু বলেন, তিনি ভুয়ো সই সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ করবেন। একইসঙ্গে ওই দুই জেলা পরিষদ সদস্য দাবি করেন, মালদহ জেলা পরিষদ তৃণমূলের হাতেই থাকবে। ফলে দানা বেঁধেছে জল্পনা।

Sebak DebSarma

Published by:Shubhagata Dey
First published: