উত্তরবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

Exclusive: ভগিনী নিবেদিতার সমাধিক্ষেত্র এতদিন ছিল 'অনাদরে', এবার ধরা দিল নয়া চেহারায়

Exclusive: ভগিনী নিবেদিতার সমাধিক্ষেত্র এতদিন ছিল 'অনাদরে', এবার ধরা দিল নয়া চেহারায়

এই অবস্থার বদল চেয়েই সরব হয়েছিলেন পাহাড়ের নাগরিকরা। অবশেষে তাদের আন্দোলনের জেরে বদল হল অবস্থার। সংষ্কারের পরে এখন নয়া চেহারায় পাহাড়ের এই স্থান।

  • Share this:

#দার্জিলিং: জায়গাটির পরিচয় মুরদাহাটি নামে। স্থানীয়দের কাছে এটা দার্জিলিং শশ্মান বলেও পরিচিত। পাহাড় রাস্তায় যেখানে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ধোঁয়া ছেড়ে ঘুমের দিকে রওনা হয়। সেই স্টেশন থেকে এই জায়গা পায়ে হেঁটেই চলে যাওয়া যায়। আর এখানেই অযত্নে, অনাদরে পাহাড়ের কোলে শুয়ে ছিলেন ভগিনী নিবেদিতা। এই অবস্থার বদল চেয়েই সরব হয়েছিলেন পাহাড়ের নাগরিকরা। অবশেষে তাদের আন্দোলনের জেরে বদল হল অবস্থার। সংষ্কারের পরে এখন নয়া চেহারায় পাহাড়ের এই স্থান।

দার্জিলিংয়ের লেবং কার্ট রোডের রায় ভিলাতে ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর মারা যান ভগিনী নিবেদিতা। সেই রায় ভিলাও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার ও তৎকালীন জিটিএ’র সহায়তায় সাজিয়ে তোলা হয় রায় ভিলাকে। আপাতত সেখানেই রামকৃষ্ণ মিশন নিবেদিতা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র। যা শুধুমাত্র পাহাড়ের গ্রামীণ এলাকার বাচ্চাদের পড়াশোনা শেখানো শুধু নয়, নানা রকম কারিগরি শিক্ষাও দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে পাহাড়ের আন্দোলনের সময় এই রায় ভিলাও ভাঙচুর করা হয়। চুরি যায় বহুমুল্য জিনিষও। এই রায় ভিলাতে পর্যটকদের আনা গোনা লেগেই আছে। কিন্তু নিবেদিতার সমাধির জায়গা সেই অবহেলাতেই পড়ে ছিল।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসীরা স্থানীয় পুরসভা, রাজ্য প্রশাষন, জিটিএ এবং এক সময়ের সাংসদ সুরেন্দর সিং আহলুওয়ালিয়াকে বারবার আবেদন করেছিলেন। যদিও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে ক্ষোভ ছিল অনেকেরই  মধ্যে। যদিও নিজের চেষ্টায় কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন,  নিবেদিতা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের সম্পাদক স্বামী নিত্যসত্যানন্দজি মহারাজ। গোটা এলাকাটি আগে জঙ্গল এবং আগাছার চাদরে ভরে ছিল। নিবেদিতার একটি মূর্তি রয়েছে সেটিও নোংরা হয়ে পড়ে ছিল। সেই অবস্থার পুরোপুরি বদল হয়েছে। সুন্দর করে সাজানো হয়েছে স্মৃতি সৌধ। এখানে শুধুমাত্র নিবেদিতার সমাধি নয়, আছে রাহুল সাংকৃত্যায়ন, নেপালি কবি আগম সিং গিরি, এইচ ডি লামা সহ অনেকের সমাধি আছে। তাদের সমাধি গুলোরও একই অবস্থা ছিল। এই সবকটি সমাধি সংষ্কারের কাজ শেষ করেছে রামকৃষ্ণ মিশন।

স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজ বলেন, “প্রশাসনের সঙ্গে বহুবার কথা বলা হয়েছিল । তবে ভক্তদের থেকে সাহায্য নিয়েই এই সমস্ত সমাধি স্থান সংষ্কার করা হয়েছে দ্রুত।” দার্জিলিং জেলা প্রশাষন অবশ্য অভিযোগ মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি তারা এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই খোঁজ নেওয়া শুরু করেছিলেন। জিটিএ মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে। তবে এখনও কিছু কাজ বাকি। সত্যিই সেই কাজ হবে কিনা প্রশাসনিক সহযোগীতায় তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দার্জিলিংয়ের মানুষও।

আশ্রমের এক আধিকারিকের ব্ক্তব্য, “দার্জিলিংয়ের সাংসদ থাকাকালীন সুরেন্দর সিং আহলুওয়ালিয়াকে একাধিকবার আবেদন করেছি। তবে আশার কোনও খবর সেখান থেকেও পাইনি।” যদিও আর কারও প্রতি ভরসা না রেখে ভক্তদের সাহায্য নিয়েই কাজ শুরু করে ফেলেছিলাম আমরা। ভাঙা অংশগুলোর সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। রং করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে সমাধি, সীমানা পাঁচিল। ঠিক হয়েছে নিবেদিতার যে মূর্তিটি রয়েছে সেটিকে কাঁচ দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। আশ্রমিকদের কথায়, আমরা ভাল থাকার চেষ্টা করছি। তাহলে নিবেদিতাকে কেনও ভাল রাখা হবে না।" বাকি যে কাজ বাকি তা ভক্তদের সাহায্য নিয়েই শেষ করবেন তারা।

Published by: Pooja Basu
First published: October 14, 2020, 10:12 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर