টাইফয়েডে নষ্ট হয়ে গিয়েছে দু’টি চোখই, স্কুলে তিনিই ছাত্রদের প্রিয় স্যার

টাইফয়েডে নষ্ট হয়ে গিয়েছে দু’টি চোখই, স্কুলে তিনিই ছাত্রদের প্রিয় স্যার

অন্য শিক্ষকরা নিয়মিত যেভাবে ক্লাস নেন বিশ্বনাথবাবুও একইভাবে ক্লাস নিয়ে ছোট ছোট কচিকাঁচাদের মন জয় করে নিয়েছেন।

  • Share this:

Uttam Paul

#বীরঘই: শারিরিক প্রতিবন্ধতকতা যে কোন বাধা নয় তা প্রমান করে দিয়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার বীরঘইয়ের বাসিন্দা বিশ্বনাথ রায়। দুই চোখে দেখতে না পেলেও অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে সমানভাবে পাঠ দান করাচ্ছেন বিশ্বনাথবাবু। শারীরিক এমন প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বনাথবাবুর কাজে উৎসাহিত বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা। রায়গঞ্জ ব্লকের বীরঘই গ্রামের সুধীর রায়ের দ্বিতীয় পুত্র বিশ্বনাথ রায়। দুই বছর বয়সে টাইফয়েড রোগে তাঁর দুই চোখ নষ্ট হয়ে যায়। দুই ভাই, দুই বোনের সংসারে চোখে দেখতে না পেলেও লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে যাননি বিশ্বনাথবাবু। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার খাঁপুর ব্লাইন্ড স্কুল থেকে শিক্ষার জীবনের হাত খড়ি হয়। সেখানে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় ব্লাইন্ড স্কুলে পঞ্চম শ্রেনীতে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে  দ্বাদশ শ্রেনীতে পাশ করে কলকাতার রবীন্দ্রভারতীতে অন্য ছাত্রদের সঙ্গে বাংলা অনার্স নিয়ে স্মাতক হন। এমএ-তে ভর্তি হতেই বীরঘই গ্রামপঞ্চায়েতের জয়নগর এফ পি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দেন।

ফলে তার আর এমএ পড়া হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীতে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ সুনামের সঙ্গে নেন বিশ্বনাথবাবু। বাড়ি থেকে খুব কাছে স্কুল হওয়ায় স্কুলের পঠন পাঠনের প্রতি তাঁর বাড়তি দায়িত্ব বর্তেছে। সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি পালন করছেন।জয়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা ১৫০ জন। শিক্ষক আট জন।অন্য শিক্ষকরা নিয়মিত যেভাবে ক্লাস নেন বিশ্বনাথবাবুও একইভাবে ক্লাস নিয়ে ছোট ছোট কচিকাঁচাদের মন জয় করে নিয়েছেন।

বিশ্বনাথবাবুর পরিবার কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও যে শিক্ষা লাভ করেছেন বাকি ভাই বোনেরা সাধারণ জীবন যাপন করা সত্ত্বেও তাঁরা কেউই এই শিক্ষালাভ করতে পারেননি। শারিরিক প্রতিবন্ধী হয়েই পরিবারের সবচাইতে তিনি উচ্চশিক্ষিত তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নবীন চন্দ জানিয়েছেন, বিশ্বনাথবাবুর এ ধরণের উদ্যোমে তাঁরা নতুন করে উৎসাহিত বোধ করছেন।

প্রধান শিক্ষকের কথায় বিশ্বনাথবাবু ২০১৭ সালে স্কুলে যোগ দেবার পর থেকে ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তাঁর যে ভালবাসা এবং পড়াশুনার প্রতি তাঁর যে দায়িত্ব এটা দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ। দুই চোখে দেখতে না পেলে ব্রেল পদ্ধতির মাধ্যমে অন্য সাধারণ শিক্ষকদের মত সম সংখ্যক ক্লাস নেন। পঠনপাঠনে উপর তাঁর যে ধরণের যত্ন তাতে ছাত্রছাত্রীদের তিনি মন জয় করে নিয়েছেন। বিশ্বনাথবাবু নিজে শারিরিক প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতিবন্ধী হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে চাইছেন না। তিনি জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি দৃষ্টান্ত হয়ে দাড়াতে চাইছেন। ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে দেখে যাতে উদ্বুদ্ধ হয়। সেই লক্ষ্য নিয়েই তার আগামী দিনের পথ চলা।

চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র রাহুল দাস জানিয়েছেন, স্যার তাঁদের নিয়মিত ক্লাস নেন।আমরা তাঁর পড়া ঠিকমত বুঝতে পারলাম কিনা সেদিকে বিশেষ নজর রাখেন। এককথায় তাদের কাছে বিশ্বনাথ স্যার প্রিয় শিক্ষক।

First published: January 15, 2020, 7:02 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर