কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হোক উত্তরবঙ্গ, দাবিতে অনড় জন বার্লা! বিজেপি-র অবস্থানে ধোঁয়াশা

আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লা৷

  • Share this:

    #আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গকে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে পৃথক রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার দাবিতে অনড় বিজেপি সাংসদ জন বার্লা৷ আলিপুরদুয়ারের সাংসদ এ দিনও দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই দাবি তুলেছেন তিনি৷ প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির কাছেও তিনি এই দাবি জানাবেন বলে দাবি করেছেন বিজেপি সাংসদ৷

    রাজ্য বিজেপি নেতারা অবশ্য এ দিনও দাবি করেছেন, উত্তরবঙ্গ নিয়ে জন বার্লা যা বলছেন সেটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত৷ যদিও দলের অনুমোদন ছাড়া একজন সাংসদ প্রকাশ্যে কীভাবে একই দাবি নিয়ে বার বার সরব হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন উঠছে৷ পাল্টা তৃণমূলের তরফ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও ভাবেই বাংলাকে ভাগ করতে দেওয়া হবে না৷

    কয়েকদিন আগে একটি নেপালি ভাষার স্থানীয় পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উত্তরবঙ্গের জন্য পৃথক স্বত্ত্বার দাবিতে সরব হন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ৷ এ দিন সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জন বার্লা ফের বলেন, 'উত্তরবঙ্গে কেউ গ্রেটার কোচবিহার, কেউ কামতাপুরী, কেউ আবার গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরব হচ্ছেন৷ কেউ যাতে আঘাত না পান, তার জন্য আমি গোটা উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার প্রস্তাব দিয়েছি৷'

    জন বার্লার আরও যুক্তি, জাতীয় নিরাপত্তার কথা ভেবেও এ কথা বলেছেন তিনি৷ বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, অসম থেকে নেপাল পর্যন্ত গোটা জাতীয় সড়কের দু' পাশে বেআইনি ভাবে বসবাস শুরু করছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা৷ এমন কি, তাঁদেরকে আধার কার্ড, রেশন কার্ড করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ৷ তাঁর অভিযোগ, রোহিঙ্গারা পরিচয় পত্র পেয়ে গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এখনও রেশন কার্ড, আধার কার্ড করতে পারছেন না৷ বিজেপি সাংসদের আরও অভিযোগ, ২ মে ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে যেভাবে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটছে, তাতে নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ এমন কি, পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না৷ বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, 'একদিকে নেপাল, একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ভুটান এবং আর একদিকে চিন৷ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলে আমরা সুরক্ষিত থাকব৷ বিশেষত ২ মে-র পর থেকে যে ঘটনা ঘটছে, তাতে এখানকার মানুষই এই দাবি তুলছেন৷ কারণ কেউ সুরক্ষিত নন৷ তাঁরাই বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ, ডিএম, এসপি কেউ আমাদের কথা শুনছেন না৷ আমরা কোথায় যাবো?'

    জন বার্লার এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ দিনও কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছেন, যত চক্রান্তই হোক না কেন বাংলাকে ভাগ হতে দেওয়া হবে না৷ বিজেপি বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে মানুষ রক্ত দিয়ে তা আটকাবে৷ উত্তর প্রদেশকে চারটি পৃথক রাজ্য তৈরির দাবি রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে৷ বিজেপি আগে সেই দাবি তাহলে পূরণ করুক৷ অসমে বোরোল্যান্ডের দাবিও মানুক কেন্দ্রীয় সরকার৷ মহারাষ্ট্র এবং গোয়াকে নিয়ে কোঙ্কন রাজ্য গঠনের দাবি উঠেছে৷ মোদি- শাহের রাজ্য গুজরাতে সৌরাষ্ট্রকে পৃথক রাজ্য ঘোষণার দাবি উঠেছে৷ এই দাবিগুলি নিয়ে বিজেপি-র কী অবস্থান সেটা আগে ভারতবর্ষের মানুষকে তারা জানাক৷'

    সবমিলিয়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে কেন্দ্র করে বঙ্গ রাজনীতি উত্তপ্ত হওয়ার পর ফের পৃৃথক রাজ্যের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠছে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: