আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কে নজর শাসক আর বিরোধী শিবিরের

আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কে নজর শাসক আর বিরোধী শিবিরের

মালদহে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পিছনে 'ফ্যাক্টর' হয়েছে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক।

  • Share this:

#মালদহ: মালদহে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পিছনে 'ফ্যাক্টর' হয়েছে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক। কিন্তু সি,এ,এ এবং এন,আর,সি ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ আদিবাসীদের একাংশ। সাম্প্রতিক গন বিবাহের ইস্যুকে কেন্দ্র বিজেপির সঙ্গে আদিবাসীদের দুরত্ব আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভোটকে লক্ষ্য রেখে এখন থেকে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কে নজর শাসক আর বিরোধী শিবিরের। অন্যদিকে, নিজেদের জমি দখলে রাখতে আসরে নেমে পড়েছে একাধিক আদিবাসী সংগঠনও। সব মিলিয়ে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ে এখন সরগরম মালদহের রাজনীতি। বিধানসভা ভোটের এখনও অনেক দেরী। কিন্তু এখন থেকেই মালদহে বিজেপি,তৃনমূল,বাম ও কংগ্রেস সকলেরই নজর আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কের দিকে। কারন, বিগত পঞ্চায়েত,লোকসভা এবং জেলার হবিবপুর বিধানসভার উপ নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে ভোট করে মালদহের রাজনৈতিক বিন্যাস অনেকটাই বদলে দিয়েছে আদিবাসী ভোট। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০১১ সালের জনগণনায় মালদহ জেলায় আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ৮৩ হাজার। বর্তমানে এই সংখ্যা ৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। জেলার একাধিক বিধানসভায় ফলাফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে আদিবাসী ভোটাররা। সরকারি হিসেবে, মালদহের হবিবপুর ব্লকে জনসংখ্যার ২৯ শতাংশ আদিবাসী। গাজোলে আদিবাসী ২১ শতাংশ।

অন্যদিকে বামনগোলা ও পুরাতন মালদহে আদিবাসী জনসংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ। বাম জমানায় মালদহে এই আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক বড় ভরসা ছিল বামেদের। এরপর রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক একাধিক ভাগে ভাগ হয়ে যায়। কিন্তু, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত থেকে আদিবাসী ভোটে থাবা বসায় বি,জে,পি। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আদিবাসী ভোটের সুবাদে উত্তর মালদা আসনে জেতে বিজেপি। এমনকী, হবিবপুর বিধানসভা আসনেও উপ-নির্বাচনে ৩০ হাজারেরও বেশী ভোটে জেতে বিজেপি।

এই ভোট গুলিতে ঝাড়খণ্ড দিসম পার্টি সহ একাধিক আদিবাসী সংগঠন বিজেপির পক্ষে প্রচারে নামে। কিন্তু সাম্প্রতিক সি,এ,এ এবং এন,আর সি ইস্যুতে একাধিক আদিবাসী সংগঠন বিজেপির প্রতি বিরূপ। এমনকী, প্রকাশ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন থেকে শুরু করে তাঁরা। সম্প্রতি পুরাতন মালদহের আট মাইলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের গনবিবাহের অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও হয়। এরপরেই বিজেপির বিরুদ্ধে বঞ্চনা ও প্রতারনার অভিযোগ তুলে আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন আদিবাসী সংগঠনের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে মালদহে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় বিজেপি নেতৃত্বও। বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দ মণ্ডলের অবশ্য দাবি শাসক দল তৃণমূলের উস্কানিতেই আদিবাসী নেতৃত্বের একাংশ বিজেপির বিরুদ্ধাচরন করছেন।

গেরুয়া শিবিরের প্রতি আদিবাসীদের একাংশের অসন্তোষকে কাজে লাগাতে মরিয়া মালদহের তৃনমূল নেতৃত্ব। বিজেপির প্রতি আদিবাসীদের মোহভঙ্গ হয়েছে বলে দাবি করেছেন, জেলা তৃনমূল সভাপতি মৌসম বেনজির নুর। এই অবস্থায় আদিবাসী এলাকায় দল আরও বেশী করে উন্নয়নের কর্মসূচী নেবে বলে জানিয়েছেন মৌসম। অন্যদিকে,মালদহে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ককে ফের পাশে পাওয়ার আশায় বাম শিবিরও। তৃনমূল বা বিজেপি কেউই আদিবাসীদের প্রকৃত উন্নয়ন চাই না। দলীয় কর্মীদের এই বার্তা প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে সিপিএম, জানিয়েছেন সিপিএম মালদা জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র।

First published: February 8, 2020, 1:41 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर