রাস্তার ধারে সারি সারি বিশ্বকর্মা ঠাকুর ! বিক্রি নেই মূর্তির ! চিন্তায় মৃৎ শিল্পীরা!

অর্ধেক প্রতিমারও বায়না আসেনি। বিশ্বকর্মা পুজোতেও হতাশার ছাপ। দুর্দিনে মৃৎ শিল্পীরা।

অর্ধেক প্রতিমারও বায়না আসেনি। বিশ্বকর্মা পুজোতেও হতাশার ছাপ। দুর্দিনে মৃৎ শিল্পীরা।

  • Share this:

#শিলিগুড়ি: কাল বাদে পরশু বিশ্বকর্মা পুজো। একই দিনে আবার পিতৃ তর্পনও। বিশ্বকর্মা পুজো মানে হই হই ব্যাপার। এর মধ্য দিয়েই শারোদৎসবের সূচনা হয়ে থাকে তা বলা যেতেই পারে। কিন্তু করোনাকালে সব উৎসবই এখন ফিকে! নেই উন্মাদনা, নেই উচ্ছ্বাস। ব্যস্ততা নেই বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি দফতরে। কলকারখানা থেকে পাড়ার ছোটো বড় বাইক বা গাড়ি সারাইয়ের গ্যারাজ। সর্বত্রই উধাও পুজোর আগের ব্যস্ততা। মাথায় হাত উঠেছে শিলিগুড়ির কুমোরটুলির মৃৎ শিল্পীদের। অর্ধেক প্রতিমারও বায়না আসেনি। আর স্থানীয় কিছু শিল্পী বিশ্বকর্মা প্রতিমা গড়ে এই সময়ে ভাল আয় করতেন। তাদেরও হাত উঠেছে কপালে।

শিলিগুড়ির বিধান রোড, হাসপাতাল মোড় থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত রাস্তার ধারে বিক্রি হত প্রতিমা। হ্যাঁ, এবারেও বসেছে। কিন্তু খুবই কম সংখ্যক প্রতিমা নিয়ে। আর বড় প্রতিমার তো দেখাই নেই। বড় জোড় চার ফুটের প্রতিমা! তাও বিক্রি হবে কি না, দুশ্চিন্তায় শিল্পীরা। একেই সেভাবে আসেনি বায়না। অনেক শিল্পীই হাত গুটিয়ে বসে পড়েছে। অন্য পেশায় নিজেদের মানিয়ে নিতে শুরু করেছেন। যারা এখনো মাটির টানে এই পেশার সঙ্গে জড়িত, তাদের রাতের ঘুম ছুটেছে। প্রতিমা নিয়ে আজ সকাল থেকেই ত্রিপলের তাঁবু খাটিয়ে রাস্তার ধারে বসেছেন, কিন্তু দেখা নেই পুজো উদ্যোক্তাদের। এক্কেবারে খাঁ খাঁ করছে রাস্তাঘাট। অনেকেরই আজ একটি প্রতিমাও বিক্রি হয়নি। বড় হতাশা আকড়ে ধরেছে মৃৎশিল্পীদের। আদৈ কি প্রতিমা তৈরীর খরচ উঠবে? এই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে শিল্পীদের। এক মৃৎ শিল্পী জানান, পাহাড় থেকে অর্ধেকের কম বায়না হয়েছে। তাই প্রতিমাও কম তৈরী হয়েছে এবারে। প্রতি বছর দার্জিলিং, কার্শিয়ং, কালিম্পং, মিরিক সহ সিকিমে প্রচুর সংখ্যক প্রতিমা যেত শিলিগুড়ি থেকে। আর কুমোরটুলিতেও প্রতিমা তৈরী হয়েছে হাতে গোনা। গণেশ পুজোর সময়েও দেখা গিয়েছিল একই ছবি। বড় জোড় তিন ফুটের গণেশ প্রতিমা তৈরী হয়েছিল। বিশ্বকর্মা পুজোতেও হতাশার ছাপ। দুর্দিনে মৃৎ শিল্পীরা।

PARTHA PRATIM SARKAR 

Published by:Piya Banerjee
First published: