Home /News /north-bengal /

Dooars Cement Racket: কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ডুয়ার্স জুড়ে রমরমিয়ে ভুটান সিমেন্টের ব্যবসা, অভিযোগ ব্যবসায়ী সংগঠনের

Dooars Cement Racket: কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ডুয়ার্স জুড়ে রমরমিয়ে ভুটান সিমেন্টের ব্যবসা, অভিযোগ ব্যবসায়ী সংগঠনের

সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার গমটু ভুটান থেকে আসছে এই সিমেন্ট

সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার গমটু ভুটান থেকে আসছে এই সিমেন্ট

Bhutani cement racket in Dooars : কোটি কোটি টাকা কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের রাজস্ব ফাকি দিয়ে ডুয়ার্স জুড়ে রমরমিয়ে ভুটান সিমেন্টের ব্যাবসা।অভিযোগ ব্যবসায়ী সংগঠনের। 

  • Share this:

    ডুয়ার্স  :  সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে ডুয়ার্স জুড়ে ভুটানি সিমেন্টের রমরমা ব্যবসা চলার অভিযোগ। যার কারণে কোটি কোটি টাকা সরকারি রাজস্বের পাশাপাশি মার খাচ্ছে ভারতীয় স্থানীয় ব্যবসা! এমনটাই দাবি অর্থনীতিবিদ থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির (Bhutani cement racket in Dooars) ।

    এদিন ডুয়ার্সের গয়েরকাটাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই গুরুতর অভিযোগ তুললেন ধূপগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দেবাশিস দত্ত।  সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার গমটু ভুটান থেকে আসছে এই সিমেন্ট। সেই সিমেন্ট দিয়েই ডুয়ার্স জুড়ে চলছে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজ।

    যদিও সরকারি ভাবে এই ভুটানি সিমেন্টের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তথাপি ভারতে দেদার চলছে এই অবৈধ ভুটানি সিমেন্টের ব্যবসা। এমন কি অভিযোগ, সরকারি কাজেও ব্যাবহার করা হচ্ছে এই সিমেন্ট।

    আরও পড়ুন : বনমন্ত্রীর আশ্বাসে গরুমারা প্রবেশদ্বারের সামনে আন্দোলনরত অস্থায়ী বনকর্মীদের ধর্মঘট উঠে গেল

    অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠে আসছে, ভুয়ো জিএসটি বিল তৈরি করে ডুয়ার্স জুড়ে এই ব্যবসা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধূপগুড়ি, বীরপাড়া, মাদারিহাট, গয়েকাটা, বানারহাট, নাগরাকাটা, ফালাকাটা-সহ সমগ্র ডুয়ার্স জুড়ে ভুটানি সিমেন্টের চাহিদা থাকায় চলছে এই অবৈধ করবার।

    সূত্রের খবর, ভারতীয় সিমেন্টের থেকে বস্তা প্রতি ভুটান সিমেন্টের দামে প্রায় ৫০-১০০ টাকার পার্থক্য থাকছে। সেই কারণেই ভারতীয় সিমেন্টের জায়গায় ভুটান সিমেন্টের চাহিদা তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    আরও পড়ুন : পাহাড় ছেড়ে সমতলে নেমে আসছে ভালুক! হাস মুরগি মেরে চাষের জমি তছনছ, অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

    কারণ সরাসরি ভুটান থেকে এই সিমেন্ট চলে আসছে ভারতে। ভোরবেলা বিভিন্ন লরিতে করে পৌঁছে যাচ্ছে গয়েরকাটা, ধূপগুড়ি, মাদারিহাট, ফালাকাটার বিভিন্ন গোডাউনে। যেখানে সাপ্লায়ার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পিউটারে তৈরি করা চালান  দিচ্ছেন। যার মধ্যে জিএসটি নম্বর লেখা থাকলেও  আসলে তার থেকে জিএসটি নেওয়া হচ্ছে না। কারণ বীরপাড়ার হোল-সেল ব্যবসায়ীরা তাদের জিএসটি খাতায় তা লিপিবদ্ধ করেন না বলেও জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী ।

    যেখানে সিমেন্টের মধ্যে ২৮ শতাংশ জিএসটি রয়েছে। যার মধ্যে রাজ্য সরকারের ১৪ শতাংশ ও ভারত সরকারের ১৪ শতাংশ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পুরোপুরি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রমরমিয়ে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হোল সেল ব্যবসায়ীদের থেকে মাল কেনার সময় পাকা বিল চাইলেও আমাদের পাকা বিল দেওয়া হচ্ছে না। কারন জিএসটি বিল দিলে ২৮ শতাংশ সরকারকে রাজস্ব দিতে হবে। আর জিসটি নিলে মালের দাম বেশি পড়বে তাতে বিক্রি কমে যাবে। এভাবেই জিএসটি ছাড়াই কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েই রমরমিয়ে চলছে এই ব্যবসা। অভিযোগ, লাভবান হচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী৷ আর এর সঙ্গে কয়েক জন আধিকারিক যুক্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ। বীরপাড়া গোমটু ভুটানে অবস্থিত সিমেন্ট কারখানা থেকেই সিমেন্ট ভারতে আসে বলে সূত্রের খবর।

    ধূপগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দেবাশিস দত্ত বলেন, ‘‘ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েই রমরমিয়ে ভুটান সিমেন্ট ব্যাবসা চলেছে ডুয়ার্সে। আলিপুরদুয়ার ফলাকাটা, মাদারিহাট, বীরপাড়া, এমনকি, জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা, বিন্নাগুড়ি, বানারহাট, গয়েরকাটা ধূপগুড়ি এই সমস্ত এলাকায় রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা। কোটিকোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিতে প্রশাসনের সামনে চলছে এই ব্যবসা। সুপারি , বালি পাথরের যেমন কালোবাজারি চলছে একই ভাবে এই ভুটানি সিমেন্টের কালোবাজারি ব্যবসা চলছে ডুয়ার্স জুড়ে।’’

    নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক এসজিএসটি আধিকারিক বলেন, ‘‘আমরা এর আগেও দেখেছি যে চালানের মধ্যে জিএসটি নম্বর দেওয়া থাকে এবং যে চালান দিয়ে মাল বহন করা হয়, বাস্তবে দেখা যায় জিএসটি খাতায় সেগুলো এন্ট্রি করা হচ্ছে না। এই সমস্ত মালগুলো যখন বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে পৌঁছচ্ছে, যার কারণে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সিমেন্টে ২৮% জিএসটি রয়েছে, সেখানে পুরোটাই ফাঁকি দিয়ে কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সমস্ত কাজগুলো করে যাচ্ছেন। আমরা অভিযানে গিয়ে অনেক সময় তার প্রমাণ পেয়েছি। আমরা নজরদারি চালাচ্ছি তবে আমাদের কিছু কর্মী যুক্ত রয়েছে কিনা সেটা বলতে পারব না।’’

    খুচরো ব্যবসায়ী শ্যামল দেব বর্মন বলেন, ‘‘আমরা ছোট ব্যবসায়ী, আমাদের কারও জিএসটি নম্বর নেই। আমরা যেখান থেকে ভুটান সিমেন্ট কিনে আনি সেখান থেকে আমাদের জিএসটি পাকা বিল দেওয়া হয় না। সেই কারণে আমরাও ক্রেতাদের কেও পাকা বিল দিতে পারি না।’’

    ধূপগুড়ির অপর ব্যবসায়ী দেবু পালের অভিযোগ, ‘‘আমরা বীরপাড়া থেকে ভুটানের সিমেন্ট নিয়ে আসি এবং তা বিক্রি করি ।  তবে কেন ক্রেতাদের পাকা বিল দেওয়া হয় না, সেই বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও কিছু প্রতিক্রিয়া দিতে চান না,  এমনকি ভুটান সিমেন্ট  নিয়ে আসার গাড়ির চালককে চালান দেখাতে বললেও তা দেখাতে চান না। ’’

    (প্রতিবেদন- রকি চৌধুরী)
    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published:

    Tags: Dooars, Jalpaiguri

    পরবর্তী খবর