ভেঙেছে বাঁশের সাঁকো, নৌকা দিয়ে চলছে যাতায়াত

ভোট আসে ভোট যায়। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছরেও তৈরি হল না ডাউক নদীর উপর পাকা সেতু।

ভোট আসে ভোট যায়। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছরেও তৈরি হল না ডাউক নদীর উপর পাকা সেতু।

  • Share this:

#চোপড়া: রোদ জল বৃষ্টিতে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের ধামারগছের কয়েক হাজার মানুষ। যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। ভরা নদীতে প্রাণ হাতে নিয়ে এই নৌকা দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের দাবি সাঁকো ভেঙ্গে যাওয়ার পরই দুটি ঘাটে নৌকা পাঠানো হয়েছে। অন্য ঘাটে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নৌকা নামছে। সেখানেও নৌকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে পঞ্চায়েত। সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সর্বদাই সতর্ক প্রশাসন। মহকুমা প্রশাসন তার কাছে সেতু তৈরির পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট পাঠালে সেতুর তৈরি জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলা শাসক অরবিন্দ কুমার মীনা।

ভোট আসে ভোট যায়। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছরেও তৈরি হল না ডাউক নদীর উপর পাকা সেতু। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরেই হাঁসখাড়ি, উত্তর ধামরাগছ, দক্ষিণ ধামরাগছ, ভেরাভেরি এলাকার মানুষকে এই নিদারুণ কষ্ট করে বাঁশের সাঁকো না হলে এই নৌকা দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে হয়। বর্ষার সময় নদীর জল ফুলেফেপে উঠলে প্রাণ হাতে নিয়েই নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ভোট এলেই এলাকার মানুষ পাঁকা সেতুর দাবিতে সোচ্চার হন। রাজনৈতিক দলের নেতারা সেঁতু নির্মানের আশ্বাসও দেয়। ভোট মিটে যাবার পর সেতু নির্মানের কথা ভুলেই যায় রাজনৈতিক দলের নেতারা। এবারেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উত্তরবঙ্গে বর্ষা এখনও না হলেও পাহাড়ে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। সেই জলে উত্তরবঙ্গের নদী গুলো ধীরে ধীরে বাড়ছে। কখনও বৃষ্টি, আবার কখন ও রৌদ্র। এর ফলে নদী গুলোর উপরে থাকা বাঁশের সাঁকো গুলোতে পচন ধরে ভেঙ্গে যাচ্ছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের ধামারগছ গ্রামের ডাউক নদীর উপর ভেরাভেরি ঘাটের বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন ওই এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। এই নদী পারাপারের জন্য ভেরাভেরি,  কলেজ ঘাট এবং উত্তর ধামরাগছ ঘাট, তিনটি ঘাট দিয়ে এলাকার বাসিন্দারা চোপড়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। বাঁশের সাঁকো না থাকায় এখন তাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। এই নৌকা দিয়েই তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফ থেকে দুটি ঘাটের জন্য দুটি নৌকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভেরাভেরি ঘাটের জন্য পঞ্চায়েত নৌকা বরাদ্দ না করায় বালি তোলার নৌকা দিয়ে এই এলাকার মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর জন্য বাসিন্দাদের অর্থ দিতে হচ্ছে। চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান পাঁকা সেতু নির্মানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিধায়ক সেতু নির্মানের বিষয়টি দেখছেন। এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য দুটি নৌকা দেওয়া হয়েছে।

তবে উত্তর দিনাজপুর জেলা শাসক এই  এলাকার বাসিন্দাদের দুর্দশার কথা নজরে ছিল না। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনধিদের কাছে বিষয়টি জানতে পেরে ইসলামপুর মহকুমা শাসককে সেতু নির্মানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।মহকুমা শাসকের রিপোর্ট হাতে পেলেই সেঁতু নির্মানের জন্য তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা শাসক অরবিন্দ কুমার মীনা। জেলা শাসকের আশ্বসেও তারা আস্বস্ত হতে পারছেন না। স্থানীয় মহঃমুশারফ জানান, দীর্ঘদিন যাবদ পাকা সেতু নির্মানের আশ্বাস দিলেও আজও তাদের পাকা সেতু তৈরি হয়নি। বছর বছর তাদের প্রাণ হাতে নিয়ে এভাবেই যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রশাসনিক এই জটিলতা কাটিয়ে কবে তৈরি হবে ভেড়াভেড়ি ঘাটে পাকা সেতু, সেদিকেই তাকিয়ে আছে  ধামারগছ গ্রামের বাসিদারা৷

Published by:Pooja Basu
First published: