Home /News /north-bengal /
Balurghat News: বড় অসহায়, ট্রিটমেন্টে সেরে গেলেও আজও ফেরায়নি পরিবার, হাসপাতালের বেডই তাঁদের ঘর

Balurghat News: বড় অসহায়, ট্রিটমেন্টে সেরে গেলেও আজও ফেরায়নি পরিবার, হাসপাতালের বেডই তাঁদের ঘর

Realtives are not taking back their family members from hospitals- Photo- Representative

Realtives are not taking back their family members from hospitals- Photo- Representative

পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকার কথা ছিল আনন্দে, কিন্তু আজ আইসোলেশন ওয়ার্ডের বেডেই তাঁদের নতুন বাড়ির ঠিকানা...

  • Share this:

    #বালুরঘাট: অসুস্হ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে সুস্থ হওয়ার ৯ বছর পরও বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে পরিবার। কেউ ৯ বছর আবার কেউ ২ বছর ধরে হাসপাতাল বেডে অপেক্ষা করছে বাড়ি ফেরার। রোগী হয়ে ঢুকে, বালুরঘাট হাসপাতালের আবাসিক হয়েই থেকে গিয়েছেন কয়েক জন রোগী। ২০২০ সালে লকডাউন শুরু হতেই, বালুরঘাট এর বিভিন্ন এলাকা থেকে, কয়েকজন রোগীকে হাসপাতালে দিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা রয়ে গিয়েছেন বালুরঘাট হাসপাতালেই।

    দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তারা প্রত্যেকেই শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেও, তাদের আর বাড়ি ফেরাতে চাননি আত্মীয়রা। খবর নেন না কেউই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বাড়ি ফেরাতে উদ্যোগী হলেও, আত্মীয়দের তরফ থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। ফলে হাসপাতালই এখন তাঁর একমাত্র ঠিকানা ওই অসহায় মানুষদের। এই রোগীদের প্রথমে বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে যাবার পর, তাদের কেউ না নিয়ে যাওয়ার কারণে কিছুটা সমস্যায় পরতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর।তবুও তারা মানবিকতার করনে বর্তমানে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ড এর দোতলাতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এখন সেখানেই ওই রোগীর মতন থাকেন। হাসপাতালের খাবার খান, হাসপাতালের পোষাক পরেন। কোনো রোগীকে কি বছরের পর বছর, এভাবে রেখে দেওয়া যায়, এই প্রশ্নের উত্তর এদিন মেলেনি।

    আরও পড়ুন - Smart Phone: একশো বা দুশো টাকা নয়, এক ধাক্কায় ৩০০০ টাকা কম এই স্মার্ট ফোনের

    বছর ৮২ এর বৃদ্ধ লোকেন সরেন। হাসপাতালের তথ্য ঘাটলে দেখা যায় বালুরঘাট শহর লাগোয়া মালঞ্চা গ্রামের বাসিন্দা লোকেশ সরেনকে ২০২০ সালের লকডাউন এর সময় শারিরিক দুর্বলতা ও জ্বর নিয়ে কেউ বা কাহারা হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে গিয়েছিল। বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে মেল মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকতেই কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তার পরিবারের লোকের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফলে তাকে আর হাসপাতাল থেকে বার করাও যায়নি।

    Realtives are not taking back their family members from hospitals Realtives are not taking back their family members from hospitals

    একইভাবে পারপতিরাম এলাকার বছর বয়সী ফুজলুকেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রেখে দিতে বাধ্য হয়েছে। তারও পরিবারের পক্ষ থেকে কেউই আর খোঁজখবর নিতে আসেনি। ফলে লকডাউন এর সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে যাবার পর থেকে, আর তার আত্মীয়দের খোঁজ মেলেনি। হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় যে নম্বর দিয়েছিল আত্মীয়রা, তাও ভুল। ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

    হাসপাতালে রেকর্ডে লোকেন ও ফুজলুর তাও কিছু ঠিকানা দেখা যাচ্ছে, এরমধ্যে এক যুবক কথা বলতে পারেনা। তার সম্পর্কে কিছুই জানে না। ফলে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবেই থেকে গিয়েছে ওই যুবক। তাকেও করোনার ওই লকডাউন এর সময় কেউ বা কাহারা হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েই চলে গিয়েছিল। এরা প্রত্যেকেই বর্তমানে হাসপাতালে থেকে শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেও, মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ২০২০ সালে লকডাউনের সময় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে এখনও হাসপাতালে রয়েছেন তারা।

    এদিকে ২০১৩ সাল থেকে হাসপাতালে রয়েছেন সুদীপ দাস নামে বছর পঞ্চাশের এক ব্যক্তি। তার পায়ে গ্যাং গ্রীন। তাঁরও আত্মীয়দের খোঁজ মেলেনি। এঁদের প্রত্যেকেরই ঠিকানা হয়ে উঠেছে বালুরঘাট হাসপাতাল। এতদিন পর্যন্ত জেলা হাসপাতালে কোন না কোন বেডে রাখা হলেও বর্তমানে তাঁদের পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে আইসোলেশন ভবনে। ওই ভবনে রোগীর চাপ না থাকায়, ওই ভবনের দোতলায় এই চারজনকে রেখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কতদিন এভাবে ঐ সুস্থ ব্যক্তিদের রেখে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

    Published by:Debalina Datta
    First published:

    Tags: Balurghat, Hospital

    পরবর্তী খবর