নাটকীয় দৌড়ঝাঁপ, খুনের মামলা ধৃত সেনা জওয়ান

নাটকীয় দৌড়ঝাঁপ, খুনের মামলা ধৃত সেনা জওয়ান

একেবারে ইঁদুর-বেড়ালের দৌড়...

একেবারে ইঁদুর-বেড়ালের দৌড়...

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: লক্ষনীয়ার ঝুমঝুমিয়ায়  মহম্মদ আলি খুনের ঘটনায় সেনাবাহিনীর জওয়ান শাহনাজ আলিকে গ্রেফতার করল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের তালবেহাট ললিতপুর ইউনিট থেকে তাকে গ্রেফতার করে আনল রায়গঞ্জ থানার তদন্তকারী পুলিশ। ছুটিতে এসে ভাইয়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে ২৬ জানুয়ারি রাতে গুলি করে করে খুন করেছিল নিজের কাকা  মহম্মদ আলিকে।

রায়গঞ্জ থানার পুলিশ পরদিনই গ্রেফতার করেছিল মহম্মদ আলির ভাইপো  সিকন্দর আলিকে। সিকন্দর আলিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে ঘটনার একমাস পর ২৮ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের তালবেহাট ললিতপুর সেনা ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার করা হল সিকান্দারের অপর ভাই শাহেনশা আলিকে। মঙ্গলবার বিকেলে ধৃত শাহেনশা কে রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার ধৃতকে আদালতে তোলা হবে বলে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার।তিনি জানিয়েছেন,ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে চালাবে তদন্তকারি পুলিশ অফিসার।

রায়গঞ্জ থানার শীতগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েতের কৃষ্ণমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা  মহম্মদ আলির সাথে একটি জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল  তাঁরই ভাই টেপু আলির সঙ্গে। ২৭ জানুয়ারি সকালে রায়গঞ্জ থানার লক্ষনীয়ার ঝুমঝুমিয়া এলাকায় রাস্তার ধারে গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ কুকুর নামিয়ে ঘটনাস্থলেই তদন্ত শুরু করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। এদিনই মহম্মদ আলি খুনের ঘটনায় তাঁর ভাইপো সিকন্দরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সিকন্দরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের ঘটনায় অপর এক ভাই সেনাবাহিনীর জওয়ান শাহেনশা আলির নাম জানতে পারে৷ এরপর রায়গঞ্জ থানার পুলিশ শাহেনশার মোবাইল টাওয়ার লোকেশন করে এবং সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে শাহেনশা আলি সেনাবাহিনীর ১৮১ নম্বর  ব্যাটালিয়নের সিপাহি পদে কর্মরত। সে ছুটি নিয়ে রায়গঞ্জের কৃষ্ণমুড়ি বাড়িতে এসেছিল। খুনের পরই গা ঢাকা দেয়। ঘটনার পর তিনি সেখানে গিয়ে কাজে যোগ দেন।

 রায়গঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর আশিষ কুণ্ডু এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর অলোক রায় এবং তিনজন কনস্টেবল সহ তদন্তকারী দল রায়গঞ্জ থেকে প্রথমে দিল্লি যায়। রায়গঞ্জ থানার তদন্তকারী অফিসার আশীষ কুন্ডু বলেন, প্রথমে আমরা দিল্লি সেনা অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারি যে শাহেনশা রাজস্থানের মেইন ইউনিট আলওয়ারের অধীনে আছে। পুলিশ যায় রাজস্থানের আলওয়ারে। সেখানে সেনা অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে শাহেনশা ছুটির মাঝপথেই উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর জেলার তালবেহাট ইউনিটে আছে৷ পুলিশ ফের যায় উত্তরপ্রদেশের তালবেহাট সেনা ইউনিটে৷ সেখান থেকেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শাহেনশা আলিকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবারই তাঁকে নিয়ে রায়গঞ্জে এসে পৌঁছয়। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন, ‘‘বুধবার মহম্মদ আলি খুনের অন্যতম অভিযুক্ত ধৃত সেনা জওয়ান শাহেনশা আলিকে আদালতে তোলা হবে।ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।’’

 Uttam Paul

Published by:Debalina Datta
First published: