• Home
  • »
  • News
  • »
  • north-bengal
  • »
  • West Bengal News: বাঁচানো প্রায় অসম্ভব ছিল যমজ দুই শিশুকন্যাকে, মিরাক্যাল করল জেলা হাসপাতাল!

West Bengal News: বাঁচানো প্রায় অসম্ভব ছিল যমজ দুই শিশুকন্যাকে, মিরাক্যাল করল জেলা হাসপাতাল!

দুর্দান্ত সাফল্য

দুর্দান্ত সাফল্য

West Bengal News: দুই কন্যা সন্তানকে সুস্থ করে নজির গড়ল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল।

  • Share this:

    #আলিপুরদুয়ার: যমজ দুই সদ্যজাতের ওজন অস্বাভাবিক ভাবে কম ছিল। পরিবার টাকা দিতে পারবে না বলে মুখ ফিরিয়েছিল বেসরকারি হাসপাতাল। অবশেষে দুই কন্যা সন্তানকে সুস্থ করে নজির গড়ল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল।

    যমজ দুই শিশু কন্যাকে দেখে চমকে উঠেছিলেন খোদ চিকিৎসক-নার্সরাই। একটির ওজন তখন মাত্র ৭৬০গ্রাম। অপর জনের ৯০০ গ্রাম। প্রবল শ্বাসকষ্ট সহ অন্য নানা সমস্যা তো রয়েছেই। এই অবস্থায় সুস্থ করা তো দূরের কথা, শিশু দুটিকে আদৌ বাঁচানো যাবে কিনা সেই প্রশ্নও দানা বাধতে শুরু করেছিল অনেকের মনে। তবে হাল ছাড়েননি চিকিৎসক-নার্সদের কেউই। বরং, দিন-রাত এক করে টানা প্রায় দুইমাসের তাদের সেই হাল না ছাড়া চেষ্টাতেই শিশু দুটির ওজন এখন বেড়ে হয়েছে দেড় কেজি। বুধবার আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হল গঙ্গা যমুনাকে। মা ও বাবার দুই কন্যা সন্তানের প্রতি ভালবাসা দেখে অভিভূত চিকিৎসক, নার্সরা। কুর্নিশ জানালেন হাসপাতাল সুপারও।

    আরও পড়ুন: ট্রেনের কামরায় পরিত্যক্ত ব্যাগের মধ্যে কী? কাটোয়া-জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক

    হাসপাতাল সূত্রের খবর, গত ৯সেপ্টেম্বর কামাখ্যাগুড়ির বাসিন্দা গৃহবধূ ললিতা বর্মণ গর্ভাবস্থার ২৯ সপ্তাহেই আলিপুরদুয়ার শহরের একটি নার্সিংহোমে শিশু দুটির জন্ম দেন। কিন্তু অপরিণত শিশু হওয়ায় তাদের নানা সমস্যা দানা বাধতে শুরু করে। এই অবস্থায় জন্মের চারদিনের মাথায় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের এসএনসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয় তাদের। তখন শিশু দুটির ওজন ৭৬০গ্রাম ও ৯০০গ্রাম। ৯০০গ্রাম ওজনের শিশুকে আগেও সুস্থ করে তুলেছেন আলিপুরদুয়ারের এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কিন্তু এখানে তো একটি শিশুর ওজন মাত্র ৭৬০গ্রাম!

    আরও পড়ুন: 'তৃণমূলে ফিরবেন শুভেন্দু অধিকারী'! এবার বিস্ফোরক অভিযোগে সরব 'আদি' BJP নেতা

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অপরিণত হওয়ার জন্য শিশু দুটির আরও অনেক সমস্যা ছিল। ফুসফুসের বিকাশ ঠিকমতো না হওয়ায় ওরা প্রবল শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যে সমস্যাকে বলা হয় রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিনড্রম। সমস্যা কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সুনীল পান্না বলেন, “অপরিণত শিশু হওয়ার জন্য ওদের মধ্যে ‘অ্যাপনিয়া’র সমস্যাও ছিল। ফলে প্রথম সাতদিন মাঝেমধ্যেই শ্বাস নেওয়ার নিয়ন্ত্রণ ওরা হারিয়ে ফেলছিল। যারফলে আমরাও চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।” হাসপাতালের এসএনসিইউ বিভাগের সিস্টার ইনচার্জ চিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এজন্য দিন-রাত এক করে প্রতি মুহূর্তে শিশু দুটির দিকে তাদের নজর রাখতে হয়েছিল।

    আরও পড়ুন: 'বিরোধী দলনেতার পদ চলে যাচ্ছে', শুভেন্দুর 'দলবদল' সম্ভাবনা? বিস্ফোরক দাবি সৌমেনের!

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এরপর ধীরে ধীরে চিকিত্সায় সাড়া দিতে শুরু করে ওই দুই শিশু। যার ফল স্বরূপ দুদিন আগে তাদের ওজন বেড়ে হয় দেড় কেজি। শিশুদের মা ললিতা বলেন, “আমার দুই সন্তানকে জেলা হাসপাতালের চিকিত্সকরা যেভাবে সুস্থ করে তুললেন, তাতে করে আমি সারা জীবন তাদের কাছে ঋণী থাকব।” জেলা হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মণ বলেন, “এসএনসিইউ বিভাগের চিকিত্সক ও নার্সদের মিলিত প্রচেষ্টাতেই দুই শিশুকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে।” হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ বুধবার দুই শিশুকে ছুটি দেওয়া হলেও, নিয়মিত তাদের পর্যবেক্ষন করা হবে।

    Published by:Suman Biswas
    First published: