দুঃস্থ, অসহায় মানুষদের হাতে চাল, আলু ও মাস্ক তুলে তুলে দিলেন রায়গঞ্জের ক্ষিতিশ বর্মন

ক্ষিতিশবাবুর উদ্যোগকে তারিফ করতেই হয়। কোনও রকম স্বার্থ ছাড়াই তিনি ৩০ কুইন্টাল চাল এবং ১৫ কুইন্টাল আলু গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণ করলেন।

ক্ষিতিশবাবুর উদ্যোগকে তারিফ করতেই হয়। কোনও রকম স্বার্থ ছাড়াই তিনি ৩০ কুইন্টাল চাল এবং ১৫ কুইন্টাল আলু গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণ করলেন।

  • Share this:

Uttam Paul

#রায়গঞ্জ: লকডাউনের সময় অসহায় দুঃস্থ মানুষদের পাশে এগিয়ে এলেন রায়গঞ্জ কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট্ট ব্যবসায়ী ক্ষিতিশ বর্মন। এলাকার দুঃস্থ অসহায় মানুষদের হাতে ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু এবং দু’টি মাস্ক তুলে দিলেন। খাদ্য সামগ্রী হাতে পেয়ে খুশী এলাকার বাসিন্দারা। এলাকার ছেলে ক্ষিতিশবাবুর এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অমল মন্ডল।

ইনি কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা নন। ইনি রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের আব্দুলঘাটার বাসিন্দা ক্ষিতিশ বর্মন। পেশায় ছোট্ট কাঠ ব্যবসায়ী। তেমন কোনও বড় কাঠের ডিলার নন। করোনা মকোবিলায় রাজ্য সরকার ফের লকডাউনের ঘোষণা করেছে। লকডাউনের ফলে মানুষের রুটি রুজি বন্ধ। আব্দুলঘাটা এলাকায় দিন আনা, দিন খাওয়া, লোকের বসবাস বেশী। এই মানুষগুলোর অবস্থা তিনি প্রতিদিন চাক্ষুস করছেন। তিনি দু’বেলা, দু’মুঠো ভাত খেতে পারলেও বাকিরা প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। সেই বিবেকের তাড়না থেকে এই দুঃস্থ এবং অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ক্ষিতিশ বাবু। এলাকার প্রায় ৩০০টি পরিবারের হাতে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু এবং দু’টি করে মাস্ক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এলাকার এই দুঃস্থ এবং অসহায় পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিলেন তিনি। ক্ষিতিশ বাবু জানান, বিবেকের তাড়না থেকেই এই কাজ করছেন। এই দুঃস্থ এবং অসহায় মানুষগুলো কয়েকদিন আলু সেদ্ধ ভাত খেতে পারবেন সেই আনন্দেই তিনি এই কাজ করছেন। এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ লক্ষীরায় দেবশর্মা জানালেন, লকডাউনের কারণে চরম কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আজ এই খাদ্য সামগ্রী পেয়ে তাঁরা ব্যাপক উপকৃত হলেন।এ ভাবে প্রত্যেকে তাঁদের পাশে দাঁড়ালে তাঁদের খাদ্যের সমস্যা মিটে যেত।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অমল মন্ডল জানান, ক্ষিতিশবাবুর উদ্যোগকে তারিফ করতেই হয়। কোনও রকম স্বার্থ ছাড়াই তিনি ৩০ কুইন্টাল চাল এবং ১৫ কুইন্টাল আলু গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণ করলেন। সরকারি সাহায্যের মধ্যে দিয়ে এই এলাকার মানুষের পাশে থাকার তিনি চেষ্টা করেন। শুধু তাঁর এলাকাতেই এই সমস্যা নয়। গোটা রাজ্য জুড়েই গরীব মানুষরা চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষিতিশবাবুর মত আরও বেশী সংখ্যায় মানুষ এই কাজে এগিয়ে এলে এই সমস্ত দুঃস্থ অসহায় মানুষ কিছুটা আশার আলো দেখতেন।

Published by:Simli Raha
First published: