জুতো সেলাই করে উচ্চমাধ্যমিকে ৯০ শতাংশেরও বেশি নম্বর, সেলাম সঞ্জয়!

এভাবেই কাজ সামলে লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছে সঞ্জয়।

প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর মানসিক জোর থাকলে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাই হার মানতে বাধ্য, ফের একবার তা প্রমাণ করল চাঁচোলের কোনুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সঞ্জয় রবিদাস।

  • Share this:

#মালদহ: ইচ্ছেশক্তির কাছে হার মানল দারিদ্র ও অনটন। লকডাউনে পেট চালাতে চাঁচোলর কোনুয়া হাইস্কুলের হাই স্কুলের ফার্স্ট বয়ের রাস্তায় বসে জুতো পালিশে র খবর তুলে ধরা হয়েছিল নিউজ -১৮ বাংলায়। ফল বর হতেই দেখা গেল, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সেই ছাত্র সঞ্জয় রবিদাস ৯০ শতাংশেরও বেশি নম্বর পেয়েছে।

উচ্চমাধ্যমিকে কলা বিভাগের পড়ুয়া সঞ্জয়ের প্রাপ্ত নম্বর ৪৫১। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর মানসিক জোর থাকলে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাই হার মানতে বাধ্য, ফের একবার তা প্রমাণ করল চাঁচোলের কোনুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সঞ্জয় রবিদাস।

তবে,এরপরও পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অন্তরায় আর্থিক সামর্থ্যের অভাব। তবে, আশার কথা তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন মালদহের জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র। জেলাশাসক পাশে দাঁড়ানোর কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হত দরিদ্র পরিবারের যুবক।

সঞ্জয়ের পরিবারে রয়েছে মা ও দাদা। ২০০৩ সালে মারা যান বাবা। তারপরে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে দাদার উপর। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে সঞ্জয়ের দাদা কাজের খোঁজে যায় ভিন রাজ্যে। কিন্তু, লকডাউনে সেই কাজ ও হারিয়েছেন তিনি। তাই সংসার চালাতে জুতো সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন এই মেধাবী ছাত্র। তবে হাজারো অসুবিধাতেও পড়ালেখায় কোনও ছেদ পড়তে দেয়নি সঞ্জয়। পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে রাস্তায় বসে জুতো সেলাই করে সংসার চালাতে মা দাদার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সঞ্জয়। এবারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বড় সাফল্য পেয়েছেন সে। ৯০ শতাংশ নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছে সবার।

তাঁর উচ্চ শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা আর্থিক সামর্থ্য, বিষয়টি জানাজানি হতেই মালদার জেলাশাসক রাজশ্রী মিত্র ডেকে পাঠান সঞ্জয়কে। সমস্ত রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আর এই আশ্বাসেই বুক বেঁধেছে সঞ্জয় তার পরিবার। ভবিষ্যতে আরও লেখাপড়া করে অধ্যাপক হতে চাই সঞ্জয়। চায় তাঁর মত দুস্থ দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে।

Published by:Arka Deb
First published: