করোনা আক্রান্তদের জন্য দুপুরের খাবার পৌছে দিচ্ছেন ইসলামপুরের এক হোটেল ব্যবসায়ী

করোনা আক্রান্ত অসহায় মানুষের পাশে হোটেল ব্যবসায়ীর এগিয়ে আসাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসলামপুরের বাসিন্দারা।

করোনা আক্রান্ত অসহায় মানুষের পাশে হোটেল ব্যবসায়ীর এগিয়ে আসাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসলামপুরের বাসিন্দারা।

  • Share this:

ইসলামপুর, উত্তর দিনাজপুর: করোনা আক্রান্তদের দুপুরের খাবার পৌছে দিচ্ছেন ইসলামপুরের হোটেল ব্যবসায়ী। ছেলের এই সামাজিক কাজকে সার্থক করে তুলতে সকাল থেকে তদারকি করছেন হোটেল ব্যবসায়ীর মা। করোনা আক্রান্ত অসহায় মানুষের পাশে হোটেল ব্যবসায়ীর এগিয়ে আসাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসলামপুরের বাসিন্দারা।

সারা দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সংক্রমণে একই পরিবারে প্রায় প্রত্যেকেই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। মহিলারা আক্রান্ত হওয়া পরিবারের সদস্যদের দু’বেলা দুমোঠো ভাত রান্না করার ক্ষমতা থাকছে না। করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলো আজ চরম সমস্যার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন।

ইসলামপুর শহরে দীর্ঘদিন ধরেই হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সুদীপ সরকার। এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবার তিনি তাগিদ অনুভব করেন।  সুদীপবাবুর মা স্মৃতিকণা দেবী তাঁর এই উদ্যোগকে সমর্থন করেন। ছেলের ভাল কাজে গর্বিত বাবা মা। তাই  স্মৃতিকণা দেবী জানান এই রোগে আক্রান্ত হলে এক গ্লাস জল তুলে খাবার সামর্থ থাকে না। করোনা আক্রান্ত পরিবার গুলো কী অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।  সেই অনুভূতি থেকে করোনা আক্রান্তদের দুপুরের খাবার পৌছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন সুদীপ।

গত ৯ মে থেকে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। দুটি মোবাইল নম্বরে ফোন করলেই আক্রান্তদের বাড়িতে দুপুরের খাবার পৌছে যাচ্ছে। বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে দেড়টার মধ্যে এই খাবার পৌছে যাচ্ছে। আক্রান্তদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারে থাকছে ভাত,রুটি, ডাল,সবজি ভাজা,ডিম এবং গ্রিন স্যালাড। সুদীপবাবু জানান, মানুষ দুপুরে ভাতই চাইছেন। আক্রান্তরা যাতে ঠিকমত খেতে পারেন সেদিক নজর রাখতে সকাল থেকে তদারকিতে নেমে পড়েন সুদীপবাবুর মা স্মৃতিকনা দেবী। তার সন্তানরা যাতে সুস্থ থেকে এই অসহায় মানুষগুলো হয়ে কাজ করতে পারেন সেই আর্শীবাদই তিনি  করছেন। মানুষের অসহায় অবস্থার কথা বলতে গিয়ে স্মৃতিকনা দেবী চোখের জল ধরে রাখতে পারেন নি। সুদীপবাবু জানান,ইসলামপুর শহর এবং পৌর এলাকার বাসিন্দাদের পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।গ্রামীন এলাকার মানুষরা তাদের ফোন করছেন।পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ ইসলামপুরে এসে খাওয়া নিয়ে যেতে চাইলে তাদের হাতে এই খাবার তুলে দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিদিন ২৮ থেকে ৩০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীদের এই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।  সুদীপবাবুর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসলামপুরের বাসিন্দা রঘুবতি মুখোপাধ্যায়। রঘুবতিবাবুর আবেদন শুধু সুদীপবাবু একা এই কাজ করলে হবে না। বিভিন্ন  স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাগুলোকে এই কাজে  এগিয়ে আসতে হবে। বেশি বেশি সংখ্যায় মানুষ এগিয়ে এলেই আক্রান্তদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে।

Uttam Paul

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: