বাবা-মাকে হারিয়ে অনাথ তিন শিশু, মাথায় হাত প্রতিবেশীদের

সত্যি!ভাগ্যের কি পরিহাস!

সত্যি!ভাগ্যের কি পরিহাস!

  • Share this:

#ইসলামপুর: গোয়ালপোখর বাবা মাকে হারিয়ে অনাথ তিন শিশু। অনাথ তিন শিশুর দেখাশোনা করছেন প্রতিবেশীরা।ইসলামপুর  ব্লকের মাটিকুন্ডা এক গ্রাম পঞ্চায়েতের পোখরপাড়াতে এমনই এক  ঘটনা। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের শিশু গুলোকে তাদের মামাকে দেখার জন্য আবেদন করেছেন।এছাড়াও তাদের কোন অনাথ আশ্রমে পাঠানোর জন্য তিনি পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

সত্যি!ভাগ্যের কি পরিহাস! বাবা মারা গেছে দু'বছর আগে মা জেহেরুন প্রায় চল্লিশ দিন আগে মারা গেছেন। তাঁদের তিনটি শিশু কুদ্দুস আলম,কাশ্মীরা ও রৌনক আজ অনাথ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সবাইকে জানিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। তাই গ্রামবাসীরা বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে তাদের নিজের কান্না আর ধরে রাখতে পারছে না। কি করবেন তারা এই বাচ্চা গুলোকে নিয়ে? কোথায় যাবেন? কি খাবে ওরা? এই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন  গ্রামবাসীরা। এক গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন আগে  অসুখে বাবা মারা গেছে। বড় ছেলেটি একটি মাদ্রাসাতে যায় পড়তে। কিন্তু ওই শিশু শারীরিকভাবে সক্ষম নয় । ওর বয়স পাঁচ থেকে ছয় হবে। তারপর   দুটি কন্যাসন্তান। একটি কন্যা সন্তানের বয়স চার থেকে পাঁচ হবে আর একটি কন্যা সন্তানের বয়স  দুই থেকে তিন । তবে সে যেহেতু ছোট রাতের বেলায় তার পাশে মামার বাড়িতে গিয়ে থাকে। কিন্তু সেই মামারও অবস্থা খুব একটা ভালো নয় ।

এমতাবস্থায় তাদের দাবি ,কোথাও যাতে এই বাচ্চাগুলোকে রাখার ব্যবস্থা করা যায়। এই বাচ্চা গুলো মানুষের মত মানুষ হয়ে উঠুক ।আর দশটা মানুষের মতন ওদেরও বাঁচার অধিকার আছে। ওরাও যেন বাঁচতে পারে এই পৃথিবীর বুকে। তারা এখন এটাই চাইছে।  ওই শিশুদের মামা স্থানীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাদের কোনো অনাথ আশ্রমে রেখে  দেওয়া যায় কিনা? কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই বিষয়েও কোনো সুরাহা হয় নি বলে তার দাবি। তবে সমাজের এই নিদারুণ করুন দৃশ্য দেখে হয়তো একটি কথাই মনে পড়ে । স্থানীয় গ্রাম বাসি মহঃ মনিরুদ্দিন তিন শিশুর কথা বলতে বলতে চোখের জল ধরে রাখতে পারে নি। সে জানায় বড় ছেলেটি স্থানীয় মাদ্রাসাতে যায়। ছোট মেয়ে রাত্রিতে মামার কাছে থাকে। পঞ্চায়েত থেকে তার মামাকে দেখার জন্য বলা হলেও মামার আর্থিক অবস্থা ভাল নয়।ফলে তারা এই তিন শিশুকে সেভাবে দেখভাল করতে পারছে না। যদি কোন সহৃহয় মানুষ এই শিশুগুলোকে দেখভালের দায়িত্ব নেয় তবে তারা নতুন জীবন ফিরে পাবে।নইলে অনাহার অর্ধাহারে শৈশব কালেই তারা মৃত্যুর মুখে পড়বে।একই দাবি করেছেন প্রতিবেশী সাদ্দাম হোসেন। তিনি জানান, এলাকার বাসিন্দারা শিশুদের খাওয়ালেও নিয়মিত দেখভাল করতে পারছে না।ছোট ছোট অবুঝ শিশুর যেন কোন সময় অঘটন ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। যদিও মাটিকুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মেহেবুব আলম জানান, ঈদের তিন চারদিন আগে তিনি ওই শিশুদের সমস্যার কথা তিনি জানতে পারেন। তারপর থেকেই তিনি শিশুদের  দেখভালের কথা মামাকে  বলেছেন।  পঞ্চায়েত থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন ।পাশাপাশি এই অনাথ শিশুদের দেখভালের জন্য তিনি স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

Uttam Paul

Published by:Debalina Datta
First published: