Royal Bengal Tiger| মৃত্যুকে হার মানিয়েছে সে ! ধূমধাম করে পালন হবে বাংলার বিস্ময় রাজার জন্মদিন

প্রতীকী চিত্র

Royal Bengal Tiger|জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কতৃপক্ষ ২৩ অগাস্টকেই রাজার জন্মদিন বিবেচনা করে।

  • Share this:

    #আলিপুরদুয়ার: এ যেন একেবারে অমরত্ব লাভের পথে এগিয়ে যাওয়া! ২৫ বছর পার করে ফেলল জলদাপাড়ার দক্ষিন খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রের সবেধন নীলমনি রয়াল বেঙ্গল টাইগার ‘রাজা’।

    দক্ষিণ খয়েরবাড়ির নামকরা বাঘ রাজা এবার ২৫ বছর পূর্ণ করছে। কোনও ডোরাকাটার ২৫ বছর বাঁচাকে নজির বলেই মনে করছে রাজ্য বন দফতর। আর সেই কারণে খয়েরবাড়িতে রাজার জন্মদিন এবার পালিত হবে রাজকীয় ভাবে।

    ২৩ অগাস্ট রাজার জন্মদিন উপলক্ষে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে এখন সাজো সাজো রব। রাজার জন্মদিনে অনলাইন কুইজ থেকে সব কিছুরই আয়োজন করেছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কতৃপক্ষ। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও দীপক এম বলেন, " এবার আমরা রাজার জন্মদিন রাজকীয় ভাবে পালন করব। রাজাকে নিয়ে হবে পোষ্টার, প্ল্যাকার্ড। এছাড়া রাজার জীবনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রকাশ করা হবে। রাজাকে ঘিরে আমরা বন বন্যপ্রান নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে চাইছি। সেই কারণে এত সব আয়োজন। সাধারনত এত বেশি বছর কোনও বাঘ বাঁচে না। ২৫ বছর বেঁচে রাজা নজির তৈরি করেছে।"

    জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে অলিম্পিক ও নটরাজ বিখ্যাত এই দুই সার্কাস থেকে ১৯ টি রয়াল বেঙ্গল টাইগারকে এই ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়েছিল। তাদের কেউ এখন আর এই পৃথিবীতে নেই। ২০০৮ সালে সুন্দরবনের ঝাড়খালি জঙ্গল থেকে ১২ বছরের বুনো বাঘ রাজাকে নিয়ে আসা হয়েছিল দক্ষিন খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে। ২৩ অগাস্ট দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাজাকে আনা হয়। সেই থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কতৃপক্ষ ২৩ অগাস্টকেই রাজার জন্মদিন বিবেচনা করে।

    বেঁচে থাকার নিরিখ রেকর্ড করতে চলেছেন রাজা। বন্যপ্রান বিশেষজ্ঞদের মতে বুনো বাঘ সাধারনত ১৫ থেকে ১৬ বছর বেঁচে থাকে। কিন্তু ব্যাতিক্রম রাজা। আর রাজার এই বেঁচে থাকা নিয়ে রাজ্য বনদফতরে রীতিমতো শোরগোল পরে গেছে।

    রাজার এই দীর্ঘ জীবনের রহস্যটা কী? আসলে রাজাকে দক্ষিন‌ণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাজাকে রাখা হয় একেবারে রাজার হালে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সুত্রে জানা গিয়েছে ঝারখালির নদীতে রাজার পেছনের বা দিকের পাটি খুবলে খেয়েছিল কুমির। কোনও ভাবে রাজা কুমির আক্রমণ থেকে প্রানে বেঁচে ফেরে। তার পরই তাকে নিয়ে আসা হয় দক্ষিন খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে। প্রথমে কয়েক দিন মুখে কিছুই তোলেনি সে। কিন্তু তার পর থেকে আস্তে আস্তে তাঁকে খাওয়া শেখান দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রের ‘কেয়ার টেকার’ পার্থসারথি সিনহা। রাজা নামটিও পার্থর দেওয়া বলে জানা গিয়েছে।

    রাজা এখন প্রতিদিন ৮ কেজি গরুর মাংস খায় রাজা। তবে শুধু মাংস দিলেই হবে না। ৬০ শতাংশ মাংস হতে হবে হাড্ডি ছাড়া। আর ৪০ শতাংশ মাংস হাড্ডি-সহ। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার রাজার উপোস থাকে। সেদিন ১২ টাতে রাজা বুঝে যায় যে তার উপোসের দিন । চুপ করে শুয়েই দিন কাটিয়ে দেয় সে। প্রতি তিনমাস অন্তর কলকাতা থেকে বিশিষ্ট পশু চিকিৎসক প্রলয় মন্ডলের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম আসে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য।

    রাজার জন্য ১০ ফুট বাই ১৫ ফুট তিনটি লোহার খাচা বরাদ্দ যার উচ্চতাও ১০ ফুট। তবে খোলা এনক্লোজারেই বেশিরভাগ সময় ঘুরে বেড়ায় রাজা। সম্প্রতি রাজার ডিএনএ টেস্ট করেছে বনদফতর। রাজার দীর্ঘায়ুর রহস্য উন্মোচন করতে চাইছেন অনেকে।

    রাজার বিচরণ এখন অবাধ নয়। সেই কারণে নিয়মিত তার নখ কেটে দিতে হয়।  রাজার ওজন ১৫০ থেকে ১৬০ কেজি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামান্য ওজন কমেছে রাজার। দক্ষিণ খয়েরবাড়ির গর্ব রাজা।

    -রাজকুমার কর্মকার

    Published by:Arka Deb
    First published: