২৩-এর যুবতী, রূপান্তরিত হলেন পুরুষ, হতে চান বডিবিল্ডার!

২৩-এর যুবতী, রূপান্তরিত হলেন পুরুষ, হতে চান বডিবিল্ডার!

স্যোসাল মিডিয়ায় তাঁর ছবি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেখে মানসিক আঘাত পেতে হয় তাকে।

  • Share this:

#মালদহ: একদিনেই বদলে গেল জীবন। যেন বদলে গেল নিজের চেনা পৃথিবীটাও। মেয়ে হয়েও ছোটবেলা থেকেই 'ছেলে' সুলভ জীবনযাপনে৷ অভ্যস্থ মালদহের গাজোলের বছর ২৩-এর সৌমিতা ঠাকুর। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে রূপান্তরিত হলেন পুরুষে। পছন্দের জীবন পেয়ে নতুন নামকরণ হতে চলেছে ‘সিট’ ঠাকুর। খুশী পরিবারও।

এখনও আধার কার্ডে জ্বলজ্বল করছে সৌমিতা ঠাকুরের তরুনী ছবি। ভোটার কার্ডেও সৌমিতার ছবির সঙ্গে লেখা‘স্ত্রী’লিঙ্গ। কিন্তু, ছোটবেলা থেকেই 'মেয়ে জীবন' মনে ধরেনি সৌমিতার। বরাবরই সমবয়সী মেয়েদের তুলনায় নিজের আদব-কায়দার ফারাক অনুভব করতেন তিনি। প্রাথমিক স্কুলে ছেলেদের পোশাক পরে যাতায়াতে বিশেষ অসুবিধে হয়নি। কিন্তু, হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে ফ্রক পরা নিয়ে শুরু হয় সমস্যা।

গাজোলের প্রথম সারির স্কুল শ্যামসুখী হাইস্কুলে সমস্যা আরও বাড়ে একটু বড় হয়ে,শারীরিক বিবর্তনে সঙ্গে সঙ্গে। কিছুতেই শরীরে অনাকাক্ষিত বদল মানতে পারেননি সৌমিতা। স্কুল ড্রেস ফ্রক থেকে শাড়ি হতেই বাড়িতে রীতিমতো কান্না জুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। পুরুষ সুলভ আচরণের জন্য স্কুলের সহপাঠী ছাত্রীদের সঙ্গে মেলামেশাতেও স্বাভাবিক হতে পারেননি। স্কুলের বাইরে সামাজিক জীবনেও নানা ভাবে আশপাশের মানুষ এমনকি আত্মীয়দের অনেকের  কাছেও শুনতে হয় বিদ্রুপ।

স্যোসাল মিডিয়ায় তাঁর ছবি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেখে মানসিক আঘাত পেতে হয় তাকে। এই অবস্থায় নিজের পছন্দের 'পুরুষ জীবন' বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন সৌমিতা। প্রথমে ফেসবুকে নিজেকে রূপান্তরকামী বলে উল্লেখ করেন। এরপর বাবা-মাকে রাজি করিয়ে কলকাতায় গিয়ে বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে সফল অস্ত্রপ্রচার। মেয়ে জীবন ছেড়ে গাজোলের রূপান্তরকামী যুবতী এখন অভ্যস্থ হচ্ছেন স্বপ্নের পুরুষ জীবনে। রূপান্তরের এই লড়াই অনেক কঠিন নিজেই জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর রূপান্তরের খবর এখন জেনেছেন গাজোলের অনেকেই। তাঁর কথায়, এখন আশপাশের মানুষ, পরিচিতদের নজর অনেকটাই বদলেছে। বরাবরই ফটোগ্রাফির ভাল হাত সৌমিতার। পেশাগত জীবনে সফল ফটোগ্রাফার হতে চান তিনি। স্বপ্ন আরও এগোনোর। বাড়িতেই ছোটখাটো জিম রয়েছে। নিয়মিত শরীরচর্চাতেও অভ্যস্থ। ভবিষ্যৎ লক্ষ্য প্রথম রূপান্তরিত পুরুষ হিসেবে বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। এমনকি, পছন্দের জীবনসঙ্গী পাওয়ার অপেক্ষাও রয়েছে তাঁর।

First published: January 26, 2020, 2:09 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर