ক্লাসরুমের পাশে কিং কোবরা, পড়ুয়াদের বাঁচাতে জীবনের বাজি রাখলেন শিক্ষক

নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব চিত্র

ডুয়ার্সের পানঝোরায় ক্লাসরুমে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা কিং কোবরার। পড়ুয়াদের বাঁচাতে জীবন বাজি রাখলেন শিক্ষক।

  • Last Updated :
  • Share this:

    #জলপাইগুড়ি: ডুয়ার্সের পানঝোরায় ক্লাসরুমে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা কিং কোবরার। পড়ুয়াদের বাঁচাতে জীবন বাজি রাখলেন শিক্ষক। খালি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন সাপ ধরতে। ঘণ্টা দেড়েকের অসম লড়াইয়ের পর বয়স ৩২ বিশ্বজিৎ দাসের কাছে কার্যত আত্মসমর্পণ করল চোদ্দ ফুট লম্বা বিষাক্ত কিং কোবরা । বিশ্বজিতের সাহসিকতায় প্রাণ বাঁচল পড়ুয়াদের।তাঁকে সংবর্ধনা দিলেন জলপাইগুড়ির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ।

    শুক্রবার দুপুর আড়াইটে। ডুয়ার্সের পানঝোড়া ফরেস্ট ভিলেজ স্কুলে তখন শেষ ক্লাস চলছে। হঠাতই কুকুরের চিৎকারে তাল কাটে। জানলার ধারে বসা খুদে এক ছাত্র বার বার মুখ বাড়িয়ে কি যেন দেখছে। ছাত্রের অমনোযোগিতা দেখে তাকে ধমক দেন শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস। তারপর নিজেই জানলায় মুখ বাড়িয়ে হতভম্ভ শিক্ষক। তড়িঘড়ি অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে বিশ্বজিৎ দেখেন প্রায় চোদ্দ ফুট লম্বা একটি কিং কোবড়া স্কুলে ঢোকার চেষ্টা করছে।

    স্কুলের চল্লিশজন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে তখন হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। আতঙ্কে স্কুলের আরও তিন শিক্ষকও। সকলের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নিজের জীবন বাজি রেখে খালি হাতে সাপ আটকাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন বিশ্বজিৎ। ঘণ্টা দেড়েক চলে সাপে-মানুষে অসম লড়াই। সাপ সম্বন্ধে কিছুটা জ্ঞান থাকলেও, প্রস্তুতি ছিল না একেবারেই। যার এক ছোবলে হাতির মৃত্যু হয়, বিষাক্ত সেই কিং কোবড়া একটা সময়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে বিশ্বজিতের হাতে। ততক্ষণে পৌঁছে গেছেন বনকর্মীরা। সাপটিকে তাঁদের হাতে তুলে দেন বিশ্বজিৎ।

    শনিবার জলপাইগুড়ির কদমতলায় বিশ্বজিৎ দাসকে সংবর্ধনা দেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। প্রাথমিক জেলা বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান ধরতিমোহন রায় বলেন, নজিরবিহীন এই ঘটনায় তাঁরা গর্বিত। তবে যাঁকে ঘিরে এত হইহই, তিনি কিন্তু লজ্জিত। ছাত্রদের প্রাণ বাঁচাতে এটুকু তো করতেই হত। এখনও মনে করেন বিশ্বজিৎ।

    First published:

    Tags: Classroom, King Cobra, Teacher