Home /News /north-24-parganas /
Volvo Toto|| টিভি, ঘড়ি, মিউজিক সিস্টেম! রাস্তায় ছুটছে অত্যাধুনিক টোটো, অবাক হওয়ার ছবি!

Volvo Toto|| টিভি, ঘড়ি, মিউজিক সিস্টেম! রাস্তায় ছুটছে অত্যাধুনিক টোটো, অবাক হওয়ার ছবি!

title=

রাস্তায় ছুটে চলেছে অত্যাধুনিক সাজে সজ্জিত টোটো, রয়েছে চালকেরও নির্দিষ্ট পোশাক।খড়িবাড়িতে এই টোটো চড়তে অতিরিক্ত ভাড়া লাগেনা।

  • Share this:

    #বারাসাত: যতই গরম পড়ুক, এই টোটোতে উঠে পড়তে পারলেই একেবারেই ঠাণ্ডা অনুভূতি। এমনকি একাকীত্ব দূর করতে আপনার সঙ্গী হতে পারে গান বা কোনও ভিডিও। এসবই পাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির টোটোতে। তবে এই টোটোর দেখা পেতে অবশ্যই আপনাকে যেতে হবে বারাসাত খড়িবাড়িতে। এই টোটোর নাম দেওয়া হয়েছে ভলবো টোটো। ভলভো টোটো আজ অনেকেরই চেনা সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে। কিন্তু কেন এমন চিন্তাভাবনা? সেই খোঁজে আমরা পৌছলাম উত্তর ২৪ পরগনা বারাসত দু নম্বর ব্লক খড়িবাড়ি, কীর্তিপুর দু নম্বর পঞ্চায়েত হাড়ায়ো খাল এলাকার রাহুল ওরফে মহম্মদ আক্কাজ আলি র সাথে দেখা করতে। সম্পুর্ন নিজস্ব পরিকল্পনা থেকে এই টোটোকে ভলভো বানানো।

    আরও পড়ুন: ১০০ দিনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত 'এই' শ্রমিকরা এ বারে কী কাজ পাবেন? জানুন আপনিও...

    রাহুল দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্রে অর্থাৎ মুম্বইয়ে ভলভো বাস চালাতেন। পরবর্তীতে হায়দরাবাদ-সহ নানান জায়গায় ভলবো চালিয়েছেন। ২০১৯ সব ছেড়ে তার নিজের বাড়িতেই ফিরে আসেন। কারণ এক দুর্ঘটনায় তার ছেলের মৃত্যু ঘটে। আর ফিরে যায়নি ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে। কি করবেন চিন্তাভাবনা করে একটি পুরনো টোটো কিনে ফেলেন রাহুল। ২০১৯ সালে সেই টোটোকে একটি চারচাকা গাড়ির গ্যারেজে নিয়ে এসে নিজের পরিকল্পনা কথা জানায় তিনি, তারপর ধীরে ধীরে টোটোকে ভলবো ভাবতে থাকে এবং ভলবো বাসে উঠে যাত্রীরা যা যা পরিষেবা পায় সেই পরিষেবা এই টোটো ভিতরেও তৈরি করে ফেলা হয়। টোটোতে বিনোদনের জন্য টিভি, ঘড়ি, মিউজিক সিস্টেম, ফোন চার্জ করবার জন্য চার্জিং পয়েন্ট, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফাস্টেড বক্স, যাত্রী ও নিজের সুরক্ষার জন্য সিসিটিভি টোটোর ভিতরে ও বাইরে। এমনকি রয়েছে, যাত্রী সুরক্ষার জন্য ফায়ার সিস্টেম, লাক্সারি সিট, পরদা, এমারজেন্সি এলার্ম কি নেই! বাদ আছে শুধু দরজা বন্ধ করে এসি চালানো, সেটাও কিছুদিনের মধ্যে চালু করে ফেলবে বলে জানান রাহুল।

    আরও পড়ুন: কালীঘাট স্কাইওয়াক নিয়ে সতর্ক কলকাতা পুরসভা, কী কারণে এই আতঙ্ক?

    ২০১৯ এই পরিকল্পনা নিয়ে রাজারহাট থানার অন্তর্গত খড়িবাড়ি-হাড়োয়া খাল এলাকার মানুষদের পরিষেবা দিতে নামে এই ভলভো টোটো। তবে তারপরেই করোনা পরিস্থিতি সবটাই এলোমেলো করে দেয়। তবু রাহুল ওরফে আক্কাস আলি থেমে যাননি, সেই সময় এই ভলভো টোটো মানুষের পরিষেবায় ভলভো এম্বুলেন্স হিসাবে কাজ দেয়। করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে পৌছানো থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কারোর বাড়ি পৌঁছে দেওয়া, সবটাই এই ভলবো টোটোতে চলে। আজ এককথায় সবাই চেনে ভলভো টোটো-সহ রাহুল কে। এলাকার সবার পরিচিত ও পছন্দের মানুষ রাহুল। আর রাহুলের স্বপ্ন সবটাই যাত্রী পরিষেবা ঘিরে। যাত্রীরা যেন টোটো উঠে কিছুটা হলেও ভলবোতে ওঠার অনুভূতি পায়। আগামীদিনে এই টোটোর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। তাকে দেখে যেনো আরও টোটো চালকরা তার নিজের টোটোটিকে এইভাবে সাজিয়ে তোলে সেই আশা প্রকাশ করেন এই অভিনব টোটো চালক। এই ভলবো টোটো তে উঠে সকল যাত্রীরাই খুশি হচ্ছেন এবং একই সাথে কিছুটা অবাকও হচ্ছেন বলে জানালেন।

    রুদ্র নারায়ণ রায়

    Published by:Shubhagata Dey
    First published:

    Tags: Barasat

    পরবর্তী খবর