Football World Cup 2018

নোটবন্দি ঘিরে নয়া সমীকরণ, জোটবদ্ধ বিরোধীরা

Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Nov 08, 2017 09:00 AM IST
নোটবন্দি ঘিরে নয়া সমীকরণ, জোটবদ্ধ বিরোধীরা
File Photo
Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Nov 08, 2017 09:00 AM IST

#নয়াদিল্লি: লোকসভায় বিরাট জয়ের পর মোদি সরকারের প্রথম বড় পদক্ষেপ। নোটবাতিলের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই জোট বেঁধেছে ছন্নছাড়া বিরোধীরা। অভিযোগ উঠেছে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির। বিরোধিতার আগুন ছড়িয়েছে এনডিএ-র অন্দরেও। সবমিলিয়ে, মোদির সিদ্ধান্ত নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভারতীয় রাজনীতিতে। এই সমীকরণের সঙ্গে কেউ কেউ মিল খুঁজছেন সাতের দশকের জরুরি অবস্থার।

কাগজের টুকরোর ওজন যে কতটা হতে পারে তা নোটবন্দির ঘোষণার সময় টের পায়নি কেন্দ্র। কিন্তু, কয়েকদিন গড়াতেই মোদি সরকারের প্রথম বড় পদক্ষেপ ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অল্প অল্প করে জোট বাঁধতে শুরু করেন বিরোধীরা। নেতৃত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দিল্লির আজাদপুরের জনসভা। নোট বাতিল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর নিশানায় মোদি সরকার। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তুললেন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বললেন, নোটবন্দি আসলে দুর্নীতির হিমশৈলের চূড়ামাত্র।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের ক্ষত শুকোয়নি কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ভর করে নোটবন্দির ঐতিহাসিক ঘোষণা। গেরুয়াশিবিরের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সভা করে বিরোধীদের একজোট হওয়ার বার্তা দিলেন তিনি। তাতে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এলেন আরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ সিং যাদব ও লালুপ্রসাদ যাদব।

বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণের স্বর পৌঁছল সংসদে। সোচ্চার হলেন কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা।। তোলপাড় হল দু'কক্ষেই। নোটবন্দি মস্ত বড় ভুল বলে রাজ্যসভায় অভিযোগ করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

এর মাঝেই বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল আরবিআইয়ের রিপোর্ট। রিপোর্টে যে তথ্য ছিল, তাতে পরিষ্কার, নোটবন্দিতে কালো টাকা মোটেই ফেরেনি। এবার সেই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে আসরে নামলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। টুইটে লিখলেন,

আরবিআই ২১ হাজার কোটি টাকা খরচ করে নোট ছাপিয়েছে। আর নোটবাতিলে ১৬ হাজার কোটি টাকা ফেরত পেয়েছে। এমন অর্থনীতিবিদদের নোবেল দেওয়া উচিত।

নোটবন্দির সিদ্ধান্ত দু'ভাগে ভেঙে দিয়েছিল ভারতীয় রাজনীতিকে। একদল পক্ষে, আরেকদল বিপক্ষে। এনডিএ-র অন্দরেও নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপ বাড়তে শুরু করল। বেঁকে বসল শরিক শিবসেনা। মোদির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেন জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার। বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিল জিডিপি-র পরিসংখ্যান। উন্নয়নের সূচক তখন মাথা নুইয়েছে অনেকটা। তা নিয়ে মোদি সরকারকে সতর্ক করে দিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও।

নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির উপর ছিল একটা জোরাল ধাক্কা। যার অভিঘাত এখনও সমান সক্রিয়। কিন্তু এই পরিকল্পনার পিছনে মোদি সরকারের যথেষ্ট তথ্য অনুসন্ধান, কাটাছেঁড়া ছিল কী? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বরং নোটবাতিলের পরবর্তী অধ্যায়ে অনেকটাই জোটবদ্ধ হয়েছে বিরোধী শিবির। যেমনটা দেখা গিয়েছিল ইন্দিরা গান্ধির সময়ে একুশ মাসের জরুরি অবস্থার পরে।

First published: 09:00:42 AM Nov 08, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर